জানের দুশমন
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : হেনরি কুটন
উপত্যকার দুই ধারে, পাথরের বড় বোল্ডারের আড়ালে লুকিয়ে সুযোগ বুঝে পরস্পরের প্রতি গুলিবর্ষণ করছিল মিগুয়েল এবং ফার্নান্দেজ, এমন সময় আকাশ ফুঁড়ে মাটিতে এসে ল্যান্ড করলো ফাইং সসারটা। অদ্ভুত এয়ার শিপটার দিকে এবার দুজনে পালাক্রমে গুলি ছুঁড়তে শুরু করলো। সসারটার দরজা খুলে গেল, মসৃণ গতিতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো পাইলট, ঢাল বেয়ে এগুলো মিগুয়েলের দিকে। বোল্ডারের পেছনে নিজেকে আড়াল করে শুয়ে শুয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে যত দ্রুত সম্ভব গুলি চালাচ্ছিল মিগুয়েল। প্রতিটি বুলেটের সাথে ওর মুখ থেকে অশ্রাব্য গালি বেরুচ্ছিল মেশিনগানের গুলির মতো। মার্কসম্যান হিসেবে মোটেই দক্ষ নয় মিগুয়েল। উল্টো-পাল্টা গুলি ছুঁড়ছিল সে। অদ্ভুত চেহারার আগন্তুককে গুলি বৃষ্টির মধ্যেও অত দেহে হন হন করে এগিয়ে আসতে দেখে তার হাত-পা ঠা-া হয়ে এলো। ফার্নান্দেজকে বাদ দিয়ে ফাইং সসারের পাইলটকে শত্রু ঠাউরে খামোকাই এতোণ টার্গেট করেছে মিগুয়েল। একটাও গুলি লাগাতে না পেরে হাল ছেড়ে দিল সে। রাইফেলটা ফেলে দিয়ে সর্বশেষ অবলম্বন ভারী ছুরিটা হাতের মুঠোয় নিয়ে লাফ মেরে উঠে দাঁড়াল মিগুয়েল।
‘এবার আর রা নেই,’ ছুরিটা এক চক্কর ঘুরিয়ে চিৎকার করে বললো সে। উত্তপ্ত মেক্সিকান সূর্যের ঝকঝকে আলোতে ঝিকিয়ে উঠলো ইস্পাতের ফলা। আগন্তুক ওর একেবারে সামনে এসে পড়েছিল, মিগুয়েল হুঙ্কার ছেড়ে ছুরির কোপ মারলো তার গলা ল্য করে। বিদ্যুতের একটা হল্কা বয়ে গেল যেন মিগুয়েলের হাত বেয়ে, অসাড় হয়ে গেল অঙ্গটা। সবিস্ময়ে দেখলো, পাইলটের ঘাড়ে বাড়ি খেয়ে ছিটকে গেল ছুরি, ডানা মেললো আকাশে। একই সঙ্গে বিং-ই-ই করে ভ্রমরের গুঞ্জন তুলে ছুটে এলো একটা বুলেট উপত্যকার ওপর থেকে। ‘বাপরে!’ বলে মিগুয়েল ডাইভ দিলো বড় একটা পাথর ল্য করে, গড়িয়ে আড়ালে চলে গেল। পর মুহূর্তে আবার শোনা গেল গুলির আওয়াজ। আগন্তুকের বাঁ কাঁধে নীলচে একটা আলোর ঝলক দেখলো মিগুয়েল এক সেকেন্ডের জন্যে।
‘এবার তুমি শেষ!’ বললো মিগুয়েল মাথা তুলে। মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়েছিল সে, মুখ তুলে ভেঙচি কাটলো তার নতুন শত্রুর দিকে।
আগন্তুক একটু নড়লো না পর্যন্ত। বুলেটের আঘাতে তার কোনো তি হয়েছে বলেও মনে হলো না। মিগুয়েল তীক্ষ্ম চোখে তাকে জরিপ করলো। লোকটার পরনে অদ্ভুত পোশাক। মাথায় ছোট্ট উজ্জ্বল নীল পালকের টুপি। তার নিচে মুখখানা কঠিন তবে সংযমী, যোগী পুরুষদের একটা ভাব আছে চেহারায়। মানুষটা খুবই রোগা, কম পে সাতফুট হবে লম্বায়। নিরস্ত্র বলেই মনে হচ্ছে। এই চিন্তাটা সাহস যোগালো মিগুয়েলকে। ছুরিটা কোথায় পড়েছে জানে না, তবে রাইফেলটা কয়েক হাত দূরে শুয়ে আছে মাটির ওপরে।
এগিয়ে এলো আগন্তুক, দাঁড়ালো মিগুয়েলের মাথার সামনে। ‘উঠে দাঁড়াও, হুকুম দিল সে। ‘তোমার সাথে কথা আছে আমার।’