কে চশমা আবিষ্কার করেছিলেন এবং কতো সালে?

প্রশ্নটি পাঠিয়েছে ওয়াসিউল, মিরপুর, ঢাকা থেকে

উত্তর: তোমার দাদুর নাকের উপর যে জিনিসটা এঁটে বসে আছে; এঁটে বসে আছে তোমার আব্বু, হয়তো আম্মুর নাকের উপরও, সেটা চশমা। যখন চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, মানুষ আর ঠিকমতো দেখতে পায় না, তখন চশমা ব্যবহার করে। আর চশমাও কী মজার, ঠিক ঠিক চশমাটা চোখে দিলেই ব্যস, সবকিছু আবার আগের মতো পরিষ্কার! তোমাদের অনেকেও হয়তো এই বয়সেই চশমা ব্যবহার করতে শুরু করেছ। চশমা উপরের দিকে ঠেলে বেশ একটা বিজ্ঞের ভাব নাও! কিন্তু কেউ কী জানো, চশমা কে আবিষ্কার করেছিলেন?

ধারণা করা হয়, চশমা প্রথম আবিষ্কার করেন আলেসান্দ্রো দেল্লা স্পিনা নামে এক ইতালিয়ান লোক। পিসার হেলানো মন্দিরের কথা শুনেছ না? স্পিনা সেই পিসা অঞ্চলের লোক ছিলেন। সম্ভবত ১২৮৬ সালে তিনি প্রথম চশমা আবিষ্কার করেন। অনেকে আবার বলে, তারও আগে আরেকজন চশমা আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু তিনি আর কাউকে সেই চশমা ব্যবহার করতে দেননি। আর স্পিনা চশমা বানিয়ে নিজেও ব্যবহার করেছেন, মানুষকেও ব্যবহার করতে দিয়েছেন। কিছুদিন পরে, ১৩০১ সালে ভেনিস সরকার তো চশমা বিক্রির জন্য কিছু নিয়মও ঠিক করে দিয়েছিল। মানে ততোদিনে চশমা ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছিল।

তবে অনেকে আরো আগে চশমা আবিষ্কৃত হওয়ার কথা বলেন। এমনি দাবি উঠেছিল, ফ্লোরেন্সের সালভিনো দি’আর্মাতো নামে একজন আরো আগে চশমা আবিষ্কার করেছিলেন বলে। কিন্তু পরে আরো গবেষণা করে দেখা গেল, সেটা নিছকই একটা গুজব। আবার বিখ্যাত পরিব্রাজক, যিনি পায়ে হেঁটেই পৃথিবীর অর্ধেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন; সেই মার্কো পোলো লিখেছিলেন, তিনি নাকি ১৩ শতকেই চীনে চশমা ব্যবহার করতে দেখেছেন। কিন্তু এমন কথা খোদ চীনেরও কেউ লেখেননি। অন্যদের লেখায় চীনে প্রথম চশমার উল্লেখ পাওয়া যায় আরো পরে, ১৫ শতকে। তাও সেই চশমা নাকি আমদানি করা হয়েছিল।

ও, ভালো কথা, শতকের হিসেবটা তোমরা বোঝ তো? ১৩ শতক মানে ১২০০- ১২৯৯ সাল পর্যন্ত সময়। এমনি ভাবে ১৫ শতক মানে ১৪০০- ১৪৯৯ সাল।

সবচেয়ে পুরনো চশমার ছবিটা এঁকেছিলেন তোমাসো দ্য মোদেনা নামে এক ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী। আসলে তিনি একজন বেশ উচ্চপদস্থ লোকের পড়ার ছবি এঁকেছিলেন; আর সেই লোকটি চশমা পড়ে ছিলেন। ফলাফল, ১৩৫২ সালে আঁকা হয়ে গেল পৃথিবীর প্রথম চশমার ছবি।

তবে মজার কথা কী জানো? চশমা আবিষ্কৃত হলেও, চশমা কীভাবে কাজ করে, সেই ব্যাখ্যা তখনো মানুষ ঠিক বের করতে পারেনি। প্রথম এই ব্যাখ্যা দেন জোহান্স কেপলার, ১৬০৪ সালে।

বাইফোকাল চশমার নাম শুনেছো? এই চশমায় দু’টি ভিন্ন পাওয়ার থাকে। এই চশমা প্রথম উদ্ভাবন করেন বিখ্যাত আমেরিকান বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন। অনেকে তার এই কৃতিত্বের দাবিদার করেন জর্জ হোয়াটলে আর জন ফেনোকেও। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়, এই কৃতিত্বটি তার। ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো তারও বেশ আগেই বাইফোকাল চশমা উদ্ভাবন করেছিলেন।

এ তো গেল চশমার লেন্সের কাহিনী। এখন চশমার ফ্রেমের গল্পটা বলি। একদম পুরোনো আমলের চশমার ফ্রেমগুলোকে এখন বেশ অদ্ভূত ঠেকবে। ওগুলোর কোন ডাণ্ডা থাকতো না। হয় হাত দিয়ে ধরে ধরে পড়তে হতো, নাহয়, নাকের উপর ঠেস দিয়ে রাখতে হতো। প্রথম চশমার ফ্রেমে ডাণ্ডার ব্যবহার করা হয় ১৭২৭ সালে। প্রথম ডাণ্ডার ব্যবহার করেন সম্ভবত বৃটিশ চক্ষুবিদ এডওয়ার্ড স্কারলেট। কিন্তু সেই ডিজাইন তেমন ভালো হয়নি। পরে ফ্রেমের আরো অনেক উন্নতি হয়। এই তো কিছুদিন আগেও চশমার ফ্রেমের শেষ অংশটি এখনকার মতো গোলাকার হতো না, বেশ চোখা হতো। তোমার দাদুর পুরোনো চশমা থাকলে দেখবে, সেই চশমার ফ্রেমের ডাণ্ডাটি একদম সোজা।