Main Story

রবি কবির কুঠিবাড়ি

সাগর আশরাফ

বন্ধুরা, তোমরা অনেকেই জানো যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মেছিলেন জমিদার পরিবারে। কিন্তু এটা জানো কি, তাদের জমিদারির বেশ বড়ো একটা অংশ আমাদের দেশেই ছিল? আর সেই জমিদারী দেখ-ভাল করার জন্য রবি বাবুও প্রায় এক যুগ সেখানে বিভিন্ন সময় ধরে থেকেছেন। আজকে চলো, তোমাদের সেই গল্পই শোনাই।

কুষ্টিয়া জেলার একটা উপজেলার নাম কুমারখালী। আর সেই উপজেলার একটা গ্রামের নাম হলো শিলাইদহ। পদ্মা নদীর দক্ষিণ কোল ঘেঁষে এই গ্রামটি। তবে হ্যাঁ, আগে কিন্তু গ্রামটির নাম ছিল খোরশেদপুর। রবি ঠাকুরের দাদা, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এই অঞ্চলের জমিদারী হাতে পান। বাড়ির বড়োরা জমিদারি নজরদারী করতে আসতেন সময়ে সময়ে। রবীন্দ্রনাথকেও আসতে হলো ১৮৮৯ সালে। এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। জমিদারী দেখার ফাঁকে ফাঁকে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াতেন তার বজরা নিয়ে। এ সময়ে তিনি অনেক বিখ্যাত লেখাও লেখেন। এই যেমন, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কণিষ্ক’। তারপর ধরো, ‘নৈবেদ্য’ আর ‘খেয়া’ কাব্যমালার বেশিরভাগ কবিতাই কবি লিখেছেন এই শিলাইদহে যখন ছিলেন, সেই সময়ে।

এই শিলাইদহে কিন্তু সে সময়ের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও রবি বাবুর সান্নিধ্যে এসেছেন। কারা কারা নিয়মিত দেখা করতেন জানো? বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদারসহ আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির সে সময় নিত্য যাতায়াত ছিল তাঁর কাছে। রবি ঠাকুর ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ করা শুরু করেন এই শিলাইদহে বসেই। জানো নিশ্চয়ই, এই গীতাঞ্জলি-ই রবি ঠাকুরকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয় ১৯১৩ সালে। তাহলেই বোঝো, শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছিল! আর প্রভাবটা যে আসলেই খুব বেশি ছিল, সেটা তার ‘ছিন্নপত্রাবলী’র মধ্যে তিনি লিখেও গেছেন। আর একটু বড়ো হলে তোমরা ওটা পড়ে দেখবে, কেমন?

আচ্ছা, এই শিলাইদহে রবি ঠাকুরের বাড়িটা দেখতে কেমন ছিল, জানতে মন চাইছে? তাহলে শোনো- এটা একটা বাংলো বাড়ি। তবে কিনা ৩ তলা পর্যন্ত লম্বা। ইট-কাঠ আর টিন দিয়ে বানানো এই বাংলো কিন্তু অবিকল আগের মতোই আছে। কুষ্টিয়া গেলে তোমরা অবশ্যই এই কুঠিবাড়ি দেখে আসবে, কেমন? এই বাড়িটা ছাড়াও আরো কি কি আছে জানো? প্রায় ১১ একর জায়গা নিয়ে আছে আম-কাঁঠাল আর নানা জাতের ফলের গাছের বাগান। আছে বিশাল বড়ো এক ফুলের বাগান। আরো আছে বেশ বড়ো ২টি পুকুর। আর রবি ঠাকুরের ব্যবহৃত নানা জিনিস তো দেখবেই। কোন টেবিলে বসে তিনি লিখতেন, কোন পালঙ্কে ঘুমাতেন; এমনকি কোন থালায় তিনি খাবার খেতেন, তাও দেখতে পাবে এখানে।

 

তাহলে আর দেরি কেন, এই গরমের ছুটিতেই প্ল্যান করে ফেলো, আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি ভ্রমণের। দেখো আসো তার স্মৃতিধন্য শিলাইদহ কুঠিবাড়ি।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/সাগর/এইচবি/মে ০৬/ ২০১২