মনের ভয়

ফাতেমা ফেরদৌস (পিংকি)

রাত তখন অনেক হয়েছে। ঘড়ির কাঁটা একটা ছঁই ছুঁই করছে। হঠাৎ কামালের ঘুম ভেঙে গেল। সে তার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করলো, এখন আমার ঘুম ভাঙলো কেন? কিন্তু কোন উত্তর খুঁজে পেলো না সে। তার টেবিল ল্যাম্পের সুইচ অন করল। কিন্তু বাতি জ্বললো না। কী ব্যাপার! সে হাতের কাছে রাখা লাইটটা জ্বালাতে চেষ্টা করল। কিন্তু ওটারও একই দশা।

dagon_1.jpg কামাল ভয়ে ভয়ে উঠে গিয়ে ঘরের দরজা খুলল। তাদের সামনের রুমের বাতি জ্বলছে। সে ধীর পায়ে তার মায়ের ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার জন্য পা বাড়াবার সাথে সাথে সে বুঝল রান্নাঘরে কিছু রান্না হচ্ছে।

কিন্তু এত রাতে কে রান্না করছে? সে তার ভয়ার্ত শরীরটাকে নিয়ে রান্না ঘরের দিকে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। আগে কোন দিক যাওয়ার জন্য পা বাড়াবে তাও ভেবে পাচ্ছে না। সে মনে মনে বলল, আগে মাকে দেখে আসি।।

কামাল যখন তার মায়ের ঘরের সামনে যখন গিয়ে দাঁড়াল তখন সে বুঝতে পারলো তার মা গভীর ঘুমে অচেতন। সে ধীরে ধীরে কাজের মেয়ের ঘরের সামনে গিয়ে দেখল সেও তার ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছে।

dagon_2.jpg কামালের ভয় আরও বাড়তে লাগল। তার গায়ের পশমগুলো খাড়া হয়ে যাচ্ছে। হৃদপিন্ডের গতি কমে যাচ্ছে। কিন্তু সে অনেক চেষ্টায় বুকে বল এনে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল।

রান্না ঘরের দরজাও বন্ধ। তখন তার ভয় বেড়ে গেল। সে ভাবতে লাগলো এত রাতে রান্নাঘরে কে কী রান্না করবে?

কামাল তখন কিছু ভয় কাটিয়ে রান্না ঘরের দরজা খুলল।

dagon_3.jpgতখন দেখল একটা বেড়াল তরকারি খাচ্ছে। দেখে সে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। চেয়ে দেখে তার শরীরও ঘামে ভিজে গেছে। উফফ। ওদিকে বিড়ালটা তার সাড়া পেয়ে ততক্ষণে চম্পট দিয়েছে। কামাল তারপর নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ল।

 

 

ফাতেমা ফেরদৌস পিংকি
রোল নং ১৯, শাখা-ক, শ্রেণী-৯ম
দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
দাগনভূঞা, ফেনী


ফাতেমা ফেরদৌস পিংকি/এবি/এমআইআর/০৮ সেপ্টেম্বর