পিঁপড়ে যখন হাতির বন্ধু

আহমেদ রিয়াজ

একদিন একটা পিঁপড়ে হয়ে গেলো একটা হাতির বন্ধু। কেমন করে হলো কেউ জানে না। পিঁপড়ে আর হাতিই বুঝতে পারেনি যে ওরা বন্ধু হয়ে গেছে। তবে হয়ে গেছে। পিঁপড়ে আর হাতি বন্ধু হওয়ার পর দুজনের সে কী মিল! প্রতিদিন ভোর হলেই বনের বিশাল মাঠে গিয়ে হাজির হয় দুজন। মাঠের পাশেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটা নারকেল গাছ। পিঁপড়ে সেই নারকেল গাছ বেয়ে ওঠে। তারপর সুবিধা মতো নারকেলের এমন একটা পাতায় বসে- যাতে হাতির কানের কাছে থাকতে পারে। আর হাতি সেই নারকেল গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। দুজন গল্প করে। হাসি তামাশা করে। মজা করে। সুখ-দুঃখের আলাপ জমায়। মাঝে মাঝে ঝড়ো বাতাস আসে। বাতাসে নারকেল পাতা দুলে ওঠে। সেই বাতাসের ঝাপটায় পিঁপড়ে ছিটকে কোথায় চলে যায়! হাতি বুঝতে পারে না। ঠিকই বন্ধুকে খুঁজে বের করে ফেলে হাতি। তারপর নিজের শুঁড়ে করে নিয়ে বসিয়ে দেয় নারকেলের পাতায়। বন্ধু পিঁপড়ের সাথে গল্প করার লোভে প্রতিদিন হাতিও চলে আসে ওই মাঠে।

একদিন হাতি এল না। সেদিন সেই ভোর থেকে হাতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে পিঁপড়ে। কিন্তু হাতির দেখা নেই। বাতাসের ঝাপটায় বেশ কয়েকবার ছিটকে পড়েছিল ও। বেয়াড়া বাতাস কখন ঝাপটা মারে বোঝা যায় না। বুঝতে পারলে আগেই নারকেল পাতা কামড়ে ধরে রাখত। একটু আয়েশ করে বসতে গেলেই হঠাৎ ঝাপটা মারে। ছিটকে ফেলে দূরে। ওখান থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে আসে পিঁপড়ে। হাতির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামব নামব করে। পিঁপড়ে তবু অপেক্ষায় থাকে। পশ্চিম আকাশে ডুব দিচ্ছে সূর্য। পিঁপড়ে তা-ও অপেক্ষা করে। সূর্য পুরো ডুব দেয়, এক ফোঁটা রোদও থাকে না আর- তবু বন্ধুর অপেক্ষায় থাকে পিঁপড়ে। প্রায় অন্ধকার হয়ে আসে, তখন বাড়ির পথ ধরে পিঁপড়ে।

ঘরে ফিরে মায়ের সামনে পড়ে। হইচই শুরু করে দেন মা, এতক্ষণ কোথায় ছিলি হতচ্ছাড়া?
হতচ্ছাড়া পিঁপড়ে বলে, বড় মাঠে।
পিঁপড়ে মা এবার অবাক হয়ে জানতে চান, ওখানে কী? আজ তো ওখানে আমাদের কেউ যায়নি।
এমনিতেই বন্ধুর সাথে দেখা না হওয়ায় ভীষণ মন খারাপ পিঁপড়ের। তার ওপর মায়ের বকাবকি। ভালো লাগে না। হতচ্ছাড়া পিঁপড়ে মায়ের সামনে থেকে চলে যাচ্ছিল। ওর খুব খিদে পেয়েছে। দলে দলে পিঁপড়েরা খেতে যাচ্ছে। কোনো একটা দলে ভিড়ে যেতে চায় ও। কিন্তু মা আজ ওকে কড়া পাহারায় রেখেছেন। আর কী করে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল মায়ের সামনে। মা আবার বললেন, জবাব দিচ্ছিস না কেন? বল ওখানে কী করছিলি?
মায়ের কাছে ভুল কথা বলে লাভ নেই। তাই সত্যি কথাটাই বলল হতচ্ছাড়া, বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
মা অবাক হয়ে বললেন, বন্ধুর জন্য বড় মাঠে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে কেন?
হতচ্ছাড়া বেশ গর্বের সাথে বলল, আমার বন্ধুটা অনেক বড় কি না।
মা বললেন, কার সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিস শুনি?
হতচ্ছাড়া বলল, একটা হাতি আমার বন্ধু।
ব্যস। এটা শুনেই খুশিতে গদ গদ হয়ে গেলেন মা। চেঁচিয়ে বলতে লাগলেন, এই শুনেছ তোমরা সবাই- একটা হাতি আমাদের হতচ্ছাড়ার বন্ধু।

কিন্তু এখানে কেউ মায়ের কথায় পাত্তা দিচ্ছিল না। তক্ষুণি মা হতচ্ছাড়াকে নিয়ে ছুটলেন খাবার ঘরে। ওদের দলের সব পিঁপড়েরা একসাথে খায়। এই দলে আছে প্রায় তিনশো পিঁপড়ে। আর ওদের কলোনিতে আছে প্রায় পঁচিশ হাজার পিঁপড়ে। খাবার ঘরে ঢুকেই মা চেঁচাতে শুরু করলেন, তোমরা শুনেছ- একটা হাতি আমাদের হতচ্ছাড়ার বন্ধু।
তখনই গমগমে শব্দ শোনা গেল। ওটা ওদের দলনেতার কণ্ঠ। দলনেতা বললেন, কথাটা তুমি এর আগেও একবার বলেছ। একই কথা দুবার বলা কোনো পিঁপড়ের মানায় না। সময় অপচয় হয়।

মা কী যেন একটা বলতে চাইলেন, তার আগেই দলনেতা আবার বললেন- একটা হাতির সাথে আমাদের হতচ্ছাড়ার বন্ধুত্ব হয়েছে। এটা ভালো খবর নয়। ও গত বারোদিন দলের সাথে খাবারের খোঁজে যায়নি। এতে আমাদের খাবার মজুদ অনেক কম হয়েছে। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। শীত আসতে বেশি দেরি নেই। এখন আমাদের আরো পরিশ্রম করা দরকার। তাছাড়া আমাদের দলে পা কাটা অনেক পিঁপড়ে আছে। ওরা খাবারের খোঁজে যেতে পারে না। ওদের খাবার জোগাড় করার দায়িত্বও আমাদের দলের সুস্থ সবল পিঁপড়েদের। কথাটা মনে রেখ।

তবু মা আবার বলতে চাইলেন, একটা হাতি আমাদের হতচ্ছাড়ার বন্ধু। বিষয়টা আপনি বুঝতে পারছেন? এটা আমাদের জন্য কতবড় ভাগ্য জানেন?
দলনেতা বলল, তুমি একই কথা আবারও বলেছ। এটা আমাদের জন্য ভাগ্য হবে কেন? হাতির সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার আমাদের হতচ্ছাড়াও কি হাতি হয়ে যাবে নাকি?
এবার সব পিঁপড়েরা খিক খিক করে হেসে ওঠল। বড্ড অপমান লাগল মায়ের। মা এবার হতচ্ছাড়ার শুঁড়ে আলতো করে কামড় দিয়ে বললেন, দলের নেতার কথা মেনে চলতে পারিস না?
পরদিন ভোর না হতেই বড় মাঠে গিয়ে হাজির হল হতচ্ছাড়া পিঁপড়ে। এর অনেকক্ষণ পর সূর্য উঁকি দিল। তারও অনেকক্ষণ পর হাতিটা এল। কী যে খুশি হল আমাদের হতচ্ছাড়া পিঁপড়ে। খুশিতে ও বেশ কয়েকটা ডিগবাজী খেল নারকেল পাতার ওপর। ভাগ্যিস তখন বাতাস ঝাপটা মারেনি ওকে।

হাতিটা ওর কাছে আসতেই পিঁপড়ে জানতে চাইল, গতকাল কোথায় ছিলে বন্ধু?
হাতি বলল, গতকাল গিয়েছিলাম ওই লামা পাহাড়ের ওপাশে। অনেক দূর। বিশাল একটা কলাবাগানের খোঁজ পেয়েছি আমরা। গতকাল পেটপুরে কলাগাছ খেয়েছি।
পিঁপড়ে অভিমানের সুরে বলল, আর আমি সারাদিন এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি। একটু বলে গেলে কী হতো বন্ধু?
সত্যিই তো! বন্ধু পিঁপড়েকে একটু বলে গেলে আহামরি কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু কেমন করে বলবে? ওরা যে সেই ভোরে রওনা হয়ে গিয়েছিল। হাতি বলল, আমি সত্যিই খুব দুঃখিত বন্ধু।

তারপর পিঁপড়ে আর হাতি অনেক গল্প করল। অনেক মজা করল। পিঁপড়ে গতরাতের ঘটনা বলল হাতিকে। শুনে হাতি খুব দুঃখ পেল। বিদায় নেয়ার আগে হাতি বলল, তোমার দলের সবাইকে আমি নিমন্ত্রণ করতে চাই। আসবে আমাদের বাড়ি?
পিঁপড়ের খুশি কে দেখে? যাবে মানে? পুরো দল নিয়ে যাবে। পিঁপড়ে বলল, মানে আমাদের কলোনিতে যত পিঁপড়ে আছে, সবাইকেই নিমন্ত্রন করছ?
হাতি বলল, কলোনিতে কতজন আছো তোমরা?
পিঁপড়ে বলল, পঁচিশ হাজারের মতো।
হাতি বলল, পঁচিশ লাখ হলেও সমস্যা নেই। কবে আসবে বলো? আগামী কাল?
পিঁপড়ে বলল, ঠিক আছে আগামীকাল।

খবরটা সবাইকে দেয়ার জন্য ছুটল পিঁপড়ে। এটা কি কম কথা! পুরো কলোনির সবাইকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে হতচ্ছাড়ার এক বন্ধু। খবরটা শুনেই তোলপাড় শুরু হয়ে গেল কলোনিতে। এবং রানীও শুনলেন। আর শুনেই রানী ডেকে পাঠালেন হতচ্ছাড়াটাকে। হতচ্ছাড়া মায়ের খুশি তখন দ্যাখে কে? সমানে বক বক করতে লাগলেন তিনি, আমাদের হতচ্ছাড়ার জন্যই আমরা সবাই কারো বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেলাম। এমন বন্ধু কজনের আছে? সারাজীবন চেষ্টা করলেও তো একটা পিঁপড়ে ওদের মতো একটা কলোনির সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে পারবে না।

সে রাতে রানীর সাথে রাতের খাবার খেল হতচ্ছাড়া।
পরদিন সকাল হতেই দলে দলে পিঁপড়ে রওনা হয়ে গেল বড় মাঠের কাছে। আর ওদের রানী চললেন একটি পালকিতে করে। মাঠে গিয়েই দ্যাখে হাতিটা ওদের নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। এবার হাতির পিছন পিছন চলল, সুবিশাল এক পিঁপড়ের ঝাঁক। অনেকগুলো দলে ভাগ হয়ে ওরা চলতে লাগল। পথে কত পিঁপড়েখেকো পড়ল। কিন্তু হতচ্ছাড়ার বন্ধু হাতির জন্য একটা পিঁপড়েও খেতে পারল না। সেই সকালে রওনা দিয়েছে ওরা। তারপর হাতির বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল। ভালোই হয়েছে। সবাই একেবারে পেট পুরে খেয়ে নেবে- যাতে আর তিনদিন কিছুই খেতে না হয়। তিনদিনের খাবার জমা হয়ে থাকবে। হাতির মতো বন্ধু আর কারো নেই কেন?
 

হাতিটা ওদের সাদরে নিয়ে ঢোকাল ওর ঘরে। পুরো কলোনির পিঁপড়েই এঁটে গেল একটা ঘরে। হাতির ঘরটা বিশাল এক গুহার মধ্যে। রোদ বৃষ্টি ঝড় কোনো কিছুই হামলা করতে পারে না।
হাতিরা কত্তধরনের খাবার খেতে দিল পিঁপড়েদের। বড় বড় পাকা কলা দিল। গতকাল ওরা লামা পাহাড়ের ওপাশ থেকে নিয়ে এসেছে। গাছ থেকে মধু পেড়ে দিয়েছে। বন থেকে আরো কিছু মিষ্টি ফল এনে দিয়েছে। এত্ত খাবার দেখে তো পিঁপড়েরা মহাখুশি। ওরা খেলও পেট পুরে। পুরো খাবার খেয়ে শেষও করতে পারল না। অনেক খাবার রয়ে গেল।
নিমন্ত্রন খেতে খেতে সন্ধে পেরিয়ে রাত নেমে এল। এই রাতের বেলা কেমন করে যাবে ওরা? হতচ্ছাড়ার বন্ধু হাতি বলল, যাওয়ার দরকার কী। আজ রাতের মতো থেকে যাও সবাই। কত বড় থাকার ঘর আমার। তোমরা অনায়াসে থাকতে পারো। আমার তো কোনো অসুবিধেই হবে না।
হাতির কথা শুনে পুরো কলোনির পিঁপড়েরা এত খুশি হলো যে বলার মতো নয়। রানী পিঁপড়ে হাতির মাথায় আর্শীবাদও করতে চাইলেন। কিন্তু সেটা খুব ঝক্কির ব্যাপার বলে বাদ দেয়া হলো। আর কী। রাতের বেলা পিঁপড়েরা আরো খাবার খেল। বিকেলে যে খাবার দেয়া হয়েছিল ওদের, সেগুলোই রাতেও খেল। তবু সব খাবার খেয়ে শেষ করতে পারল না। অনেক রাত পর্যন্ত খেল। তারপর খাবারে উপরেই অনেকে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে একটু জেগেই খায়। খেতে খেতেই ঘুমলো। ঘুম থেকে উঠেও খেল। খেয়ে খেয়ে একদিনেই একেকটা পিঁপড়ে হয়ে গেল ইয়া বড় বড়।

পরদিন সকাল সকাল আবার বেরিয়ে পড়ল ওরা। যাবার আগে রানী পিঁপড়েও হাতির দলকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে গেলেন। কথা হল ঠিক একমাস পর হাতির দল যাবে পিঁপড়েদের কলোনিতে। কারণ হাতির খাবার জোগাতে ওদের একমাস লেগে যাবে।
এই একমাস আমাদের হতচ্ছাড়া পিঁপড়েটাও বেশ খেটেছে। এমনকি রাতেও খেটেছে ওদের অনেকে। আর খাবার জমিয়েছে। এতই খাবার জমিয়েছে যে, ওদের যে খাবার জমানোর ঘর আছে, সেটাও ভরে গিয়েছে। শেষে অনেক পিঁপড়ে নিজেরা বাইরে থেকে ওদের ঘরে খাবার রেখেছে।

একমাস পর একদিন এসে হাজির হল হাতির দল। দলে খুব বেশি হাতি নেই। মাত্র তেরোটা। যেহেতু হাতিদের ঘরে নিয়ে বসানোর সুযোগ নেই, কাজেই ওদের বাইরেই বসতে দিল পিঁপড়েরা। রানী পিঁপড়ে নিজে এসে হাতির দলের তদারকি করতে লাগলেন। কিন্তু ঘরে না বসিয়ে বাইরে বসানোতে রাগ করল দুটো হাতি। রাগে ফুঁসতে থাকল। কিছু বলল না। এরপর এল খাবার। খাবার দেখে হোঃ হোঃ করে হাসতে শুরু করল ওই হাতি দুটো। একটা কলাগাছের কেবল একটা বাকলের সমান খাবার জোগাড় করতে পেরেছে ওরা। এটা দিয়ে কী হবে? একটা হাতিরও তো কিছু হবে না। রাগে কাঁপতে লাগল ওই হাতি দুটো। হতচ্ছাড়ার বন্ধু হাতি ওদের বোঝাতে লাগল। বলল, দেখো আমরা এসেছি নামকাওয়াস্তে নিমন্ত্রণে। তোমরা ভালো করেই জানো পিঁপড়ে আমাদের একবেলাও একজনকেও পেটপুরে খাওয়াতে পারবে না। সে যোগ্যতা ওদের নেই।
রাগী একটা হাতি বলল, তাহলে নিমন্ত্রণ করল কেন?
হতচ্ছাড়ার বন্ধু হাতি বলল, এটা কেবল বন্ধুত্ব রক্ষার খাতিরে।
আরেকটা রাগী হাতি বলল, তাই বলে একটা পিঁপড়েরা সাথে তোমার বন্ধুত্ব! আবার ওই পিঁপড়ের বন্ধুত্ব রক্ষা করার জন্য খাতিরও করতে হল?
বলেই রাগে হন হন করে চলে গেল। ওর পিছন পিছন অন্য রাগী হাতিটাও চলে গেল। আহ্! যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল হাতিটা। ওরা এসেছে কেবল পিঁপড়েদের সাথে মজা করতে। কিন্তু পুরো পিঁপড়ে পাড়ায় হই হই পড়ে গিয়েছে। পিঁপড়েদের যে যা পারে- নাচ, গান, খেলা- সব করে দেখাতে লাগল হাতির দলকে। এবার হাতির পালা। দুটো হাতি যেই নাচ শুরু করল, অমনি কেঁপে ওঠল মাটি। হঠাৎ একটা হাতির পায়ের তলায় চাপা পড়ল পিঁপড়েদের কলোনি। অমনি ছুটো ছুটি শুরু হয়ে গেল পিঁপড়েদের। পিঁপড়েদের ছুটোছুটি দেখে হাতিদের মধ্যেও ছুটোছুটি শুরু হল। এই ছুটোছুটিতে হাতিদের পায়ের তলায় চাপা পড়ে মাটির সাথে একেবারেই মিশে গেল পিঁপড়েদের কলোনিটা। মাটির তলায়ও ওদের কিছু ঘরবাড়ি ছিল। সেগুলো নষ্ট হল। প্রায় দশবছর ধরে ওরা এই কলোনি বানিয়েছে। এখন সেই কলোনি নেই বললেই চলে। শুধু যে কলোনি চাপা পড়েছে তা নয়, হাতির পায়ের তলায়ও চাপা পড়েছে অসংখ্য পিঁপড়ে। মারা গেল অনেক অনেক পিঁপড়ে। আহত হল অনেক অনেক পিঁপড়ে। কেউ পা হারাল, কেউ শুঁড় হারালো, কারো পিছনের দিক থেতলে গেল, কারো পেট গেলে গেল। আর হাতির বন্ধু হতচ্ছাড়ার কোনো খবরই পাওয়া গেল না। অনেক খুঁজল ওর বন্ধু হাতি। পেল না। ওই দিনটা পিঁপড়েদের জন্য হাতি ট্র্যাজেডি হয়ে রইল।
কয়েকদিন হাতিটা খুব মন খারাপ ছিল বন্ধু পিঁপড়ে ও তার কলোনির পিঁপড়েদের জন্য। একসময় আর কিছুই মনে রইল না ওর। তবু যখন পিঁপড়ে দ্যাখে, তখন বন্ধুর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সেই দুর্ঘটনার কথা। মনে পড়ে ওরা একদিন গিয়েছিল পিঁপড়েদের সাথে মজা করার জন্য। সেই মজাটা একসময় পিঁপড়েদের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে গেল।

পিঁপড়ের যদি হাতির মতো বন্ধু থাকে, তাহলে এমন দুর্ভাগ্য পিঁপড়েদের হতেই পারে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা যদি হাতি বা পিঁপড়ে বুঝতো!