আরকনির রুমাল

মোঃ মিন্টু হোসেন

নীতু, মনির, আসমা, নিলয় আর রনি গোল হয়ে মাদুরের ওপর বসেছে। এক্ষুণি দাদী এসে পড়বেন। আজ দাদীর কাছে গল্প শোনার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।

নিলয় বললো, ‘আজ দাদী আমাদের মজার একটা গল্প শোনাতে চেয়েছেন। কী যে মজা হবে! আজ নিশ্চয়ই দাদী আমাদের বাঘের গল্প বলবেন।’

নীতু বলে ওঠে, ‘নাহ! আমার মনে হয় দাদী আজ রূপকথার গল্প শোনাবেন।’

রনির আর তর সইছে না। কখন যে দাদী আসবেন। ‘কই দাদী এখনো আসছে না কেন?’

‘এই যে, তোমরা সবাই এসে গেছো দেখছি। সবাই গোল হয়ে বসেও গেছো।’ বলতে বলতে মাদুরের ওপর দাদী বসে পড়লেন।

‘দাদী এসে গেছে, দাদী এসে গেছে’ সবাই একসঙ্গে চিৎকার জুড়ে দিলো।
 
‘দাদী আজ কি গল্প শোনাবে তুমি?’ আসমা জিজ্ঞেস করে।

দাদী বললেন, ‘কি গল্প শুনতে চাও?’

‘দাদী আজ মজার একটা গল্প বলো না! একটা রূপকথার গল্প, যাতে বাঘ আছে, পক্সখীরাজ ঘোড়া আছে, আর আছে সুন্দর সুন্দর পরীরা।’ বললো মনির।

‘তা বেশ। তোমাদের আজ একটা ছোটো মেয়ের গল্প শোনাবো, যে কিনা রূপকথার গল্পতেও আছে আবার এখন তোমাদের যে গল্প বলবো সেটিও শুনছে।’ দাদী বলে।

সবাই তো অবাক। সবার চোখ সরু হয়ে গেলো। এদিক ওদিক তাকাতে থাকলো। কোথায় সে ছোটো মেয়েটি!

‘দাদী, সে কি এখানে সত্যিই আছে?’ নীতু জিজ্ঞেস করে।

‘হ্যাঁ’।

সবাই অবাক।

দাদী শুরু করলেন।

‘গ্রিস দেশের নাম শুনেছো তোমরা?’

সবাই মাথা নাড়ায়।

‘প্রাচীন কালে এ গ্রিক দেশে কতো কতো মজার ঘটনা ঘটতো। তাদের কতো ইতিহাস রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের যেমন অনেক ইতিহাস রয়েছে তেমনি। গ্রিস আর ট্রয়ের যুদ্ধ তো কতো বড় ঘটনা। তোমরা যখন বড়ো হবে, ইতিহাস পড়লে কতো কিছু জানতে পারবে।’

‘দেশটি ছিলো সমুদ্রের পাশে। দেশটি জুড়ে ছিলো বন। তারপর গ্রাম। আর ছোটো ছোটো শহর। সেই সব গ্রামে কতো রকম মানুষ বাস করতো। কেউ ছিলো কৃষক, কেউ জেলে আবার কেউ রাজার কর্মচারী। সেখানে একটা কৃষক পরিবারে একটা মেয়ের জন্ম হলো। বাবা মা শখ করে ওর নাম রাখলেন আরকনি। সে মেয়েটিকে সবাই এক নামেই চিনতো। চিনবে না কেন? ছোট্টো একটা মেয়ের যে দারুণ একটা গুণ ছিলো। আর সে দেখতেও ছিলো পরীর মতো সুন্দর। তার ছিলো মাথাভর্তি কালো চুল। সেগুলো সুন্দর করে বেণী বাঁধতো। তার চোখগুলো ছিলো আরো সুন্দর। সে হাঁটার সময় একটু দুলে দুলে হাঁটত। খুব সুন্দর একটা মেয়ে ছিলো আরকনি।’

‘দাদী, কাউকে তো এখানে দেখছি না! তুমি যে বললে এখানে সে তোমার গল্প শুনছে। তো কই সে? বলো না দাদী, আরকনি কোথায়?’ রনি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে।

দাদী হেসে ফেললেন। বললেন, ‘আগে পুরো গল্পটি শোনো। তারপর তোমরা নিশ্চয়ই আরকনিকে দেখতে পাবে।’

সবাই চারপাশে তাকাতে লাগলো। কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না, এখানে ওদের মধ্যেই আরকনি বসে আছে।

‘দাদী তো আরকনির কি হলো?’ রনি জিজ্ঞেস করে।

‘ছোটো মেয়ে আরকনি খুব সুন্দর করে রুমাল বুনতে পারতো। তার মতো সুন্দর করে পুরো গ্রিস দেশের আর কেউই তখন রুমাল বুনতে পারতো না। তার এ গুণের কথা ছড়িয়ে পড়েছিলো সবখানে।’

‘আরকনির বাবা ছিলো কৃষক। আর ওর মা ওর জন্মের সময়ই মারা গিয়েছিলেন। ওর খুব দুঃখ। তার উপর ওরা ছিলো খুব গরীব। বাবা সারাদিন মাঠে কাজ করে। আরকনি বাড়িতে বসে বসে একা একা রুমাল বোনে। সে রুমালে কতোকিছু ফুটিয়ে তোলে। তার নিজের দুঃখের কথা, গ্রিসের ফসলের মাঠ, গ্রামের ছোটো ছেলেমেয়ে, রাজা-রাণী, আর সেদেশের বীর যোদ্ধাদের ছবি।’

‘দাদী, আরকনি তো ছোটো মেয়ে। আবার গরীবও। তো সুতা পেতো কোথায় সে?’ আসমা প্রশ্ন করলো।
‘তা শুনবে? শোনো তবে। আরকনিদের বাড়ির কাছেই ছিলো বুড়ি পলিনীর বাড়ি। বুড়ি পলিনীর বয়স যে কতো হবে কেউই বলতে পারে না। পারবে কি করে? কেউ তেমন গুণতেই পারতো না। পলিনী বুড়ি বসে বসে চরকায় সুতা কাটতো আর গান গাইতো।’

‘কি গান গাইতো বুড়ি পলিনী?’ রনির প্রশ্ন।

‘গ্রিসের পালাগান।’

‘ছোটো আরকনি, পলিনী বুড়িকে খুবই পছন্দ করতো। পলিনী বুড়ি আরকনিকে কাছে পেলেই গ্রিসের রূপকথা শোনাতো। সে বুড়িই সুতা কেটে আরকনিকে দিতো। কতো রকম সুতা। লাল-নীল-বেগুনী, কত্তো রঙের সুতা। সে সুতা দিয়েই আরকনি রুমাল তৈরি করতো।

‘একদিন রাজবাড়ীতে উৎসব শুরু হলো। সারা রাজ্যের সবার দাওয়াত। সবাইকে রাজা খাওয়াবেন। মিষ্টান্ন, ফল-ফলাদি, মাংসসহ কত্তো কত্তো খাবার। যে যতোটা খেতে পারে, কোনো মানা নেই।

‘সবাই রাজবাড়িতে খেতে ছুটেছে। ছোটো-বড়ো কেউ বাদ নেই। আরকনিরও খুব শখ। সে রাজবাড়ী দেখতে যাবে। কিন্তু কে তাকে নিয়ে যাবে? তার বাবা সারাদিন মাঠে মাঠে কাজ করে। তাই বাবার সাথে তার যাওয়া হবে না। সঙ্গী শুধু এক পলিনী বুড়ি। সে ভালো করে হাঁটতে পারে না।’

‘দাদী, ও দাদী তবে কি পলিনী রাজবাড়িতে যেতে পারেনি?’ নীতু জিজ্ঞেস করে।

‘পেরেছিলো বৈকি। বুড়ি পলিনীই বললো, ও আরকনি আয়, আমরা দুজন আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে চলে যাবো।

‘আরকনির ভারি ভয় করলো। রাজবাড়ি কতোদূর! আর একটা আস্ত বন পেরিয়ে ওদের যেতে হবে। তবুও তার মন চাইছিলো রাজবাড়ি দেখতে। আরকনি শুনেছে রাজবাড়িতেও নাকি সুন্দর একটা মেয়ে আছে। ওর নাম রাজকন্যা ‘অ্যাথিনি’। সে নাকি খুবই মিষ্টি মেয়ে। সবার সঙ্গে কথা বলে। অ্যাথিনিকে দেখার বড়ো শখ আরকনির। তাই সে পলিনীকে বললো চলো আমরা বেরিয়ে পড়ি।

‘এরপর দুজন মিলে রাজবাড়ির দিকে হাঁটতে থাকলো। হাঁটতে হাঁটতে বুড়ি পলিনী তো হাঁপিয়ে ওঠে। তারপর দুজন মিলে একটু জিরোয়, আবার হাঁটে। আরকনি তার সঙ্গে করে রুমাল বুনন কাঠি আর একগাদা সুঁতা এনেছে। ওরা যখনই বসে জিরোয় তখনই সে রুমাল বুনতে বসে। ওর ইচ্ছা হয়েছে, রাজকন্যা অ্যাথিনীর সঙ্গে যখন ওর দেখা হবে তখন সে সুন্দর রুমালটা উপহার দেবে। এজন্য সুন্দর করে রুমাল বুনছিলো সে।

‘হাঁটতে হাঁটতে রাত হয়ে গেলো। ওরা বনের মধ্যে চলে এসেছে। একসময় বনের মধ্যে একটা বড়ো গাছ দেখা গেলো। সেখানে বসে দুজন ভাবছে, আর তো এখন যাওয়া যাবেনা। এখানে একটু বসি। তারা যখন বসে পড়লো তখনই ক্লান্ত হয়ে পলিনী বুড়ি ঘুমিয়ে পড়লো।
‘বনের মধ্যে অন্ধকারে ভারী ভয় করতে লাগলো আরকনির। একসময় হঠাৎ একটা আলো দেখতে পেলো সে। আলোটা ধীরে ধীরে ওর কাছে চলে এলো। আরকনি দেখলো আরেকটা ছোটো মেয়ে আলো নিয়ে বনের মধ্যে ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।

‘কে তুমি?’ আরকনি প্রশ্ন করলো।

‘আমার নাম এরিস।’

‘তুমি এ বনের মধ্যে কি করছো একা একা?’

‘আমিতো বনেই থাকি’ এখানেই আমার বাড়ি।

‘কেন? কি করো তুমি এখানে?’

‘আমার কথা থাক, তোমার নাম কি আগে তাই বলো দেখি।’

‘আমার নাম আরকনি। আমাদের গ্রাম অনেক দূরের পথ। আমরা রাজবাড়িতে যাচ্ছি। সেখানে রাজা সবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন। রাজকন্যা অ্যাথিনিও সবার সঙ্গে দেখা করছেন। আমি তার সঙ্গেই দেখা করতে যাচ্ছি।’

‘তাই নাকি! আমিও যাবো। আমাকে তোমাদের সঙ্গে নেবে?’

‘চলো। তবে আমরা তো আবার সকালে রওনা দিবো। তখন তুমিও আমাদের সঙ্গে যেও। আচ্ছা, তুমি কোথায় থাকো?’

‘আমি থাকি, ঐযে পুরোনো একটা বাড়ি আছে ওখানে। যাবে তুমি আমার সঙ্গে? তোমার সঙ্গে এ বুড়িটা আবার কে?’

‘ওর নাম পলিনী। ও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।’

‘ঠিক আছে তুমি একাই চলো। আমাদের বাড়িতে থাকবে আজ রাতে। বুড়ি এখানেই ঘুমাক। এখানে কোনো বাঘ বা হিংস্র কিছু নেই। তাই বুড়ি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।’

‘ঠিক আছো চলো এরিস। তোমার সঙ্গে যাই।’

‘তুমি হাতে এটা কি এনেছো?’

‘আমি তো রুমাল বুনি। এটা আমি রাজকন্যা অ্যাথিনীর জন্য তৈরি করছি।’

‘দেখি, দেখি সুন্দর তো!’

‘দাদী, এরপর কি হলো? এরিসটা আবার বনের মধ্যে কিভাবে এলো? ও কে?’

দাদী বললেন, ‘এরিসকে চেনো না। ইংরেজি ‘এরর’ শব্দটার অর্থ জানো? এরর মানে হলো ভুল। ‘এরর’ শব্দটাও এরিস থেকেই এসেছে। তার মানে হলো, বনের মধ্যে যে এরিস মেয়েটার সঙ্গে আরকনির দেখা হলো, সে মেয়েটা মোটেও ভাল কেউ নয়। মানে ও হলো ডাইনী।’
 
‘দাদী ডাইনী বলে তো কিছু নেই, তাই না? তবে, তুমি যে বললে ও ডাইনী।’ নিলয় জিজ্ঞেস করলো।

‘গ্রিস দেশে যারা জাদুবিদ্যা জানতো তাদের ডাইনী বলা হতো।’ দাদী বললেন।

‘তোমরা একটু চুপ করবে? দাদী তারপর কি হলো তাড়াতাড়ি বলো’, আর তর সইছে না রনির। কারণ ওর চোখ চারপাশে ঘুরছে। দাদী বলেছে এ ঘরেই আরকনি আছে। রনি তাকে খুঁজে বের করবেই।

‘তারপর কি হলো? তারপর এরিস আরকনিকে নিয়ে পুরোনো একটা ঘরের মধ্যে নিয়ে গেলো। তারপর সে ঘরে আলোটা রেখে বললো তুমি ঘুমাও।

‘তুমি ঘুমাবে না?’

‘আমি একটু আসছি।’

‘এরপর এরিস সে ঘরের দরজাটা বাইরে থেকে আটকে দিলো। ঘরে অল্প আলোতে বসে রুমাল বুনতে লাগলো আরকনি। রাত পেরিয়ে গেলো। তবুও সে রুমাল বুনেই চললো। তার কোনো ঘুম নেই। তার সুঁতা প্রায় ফুরিয়ে এলো, রুমাল বোনা শেষ প্রায়। এক সময় ঘুমিয়ে পড়লো আরকনি।’

এদিকে, এরিস অন্য ঘরে ঘুমাতে লাগলো। সকালে উঠে দেখে আরকনির ঘরে সুন্দর একটা রুমাল। তার খুব লোভ হলো। সে রুমালটি চুরি করে নিলো। ভাবলো রাজকন্যা অ্যাথিনিকে সে নিজেই এটি উপহার দেবে। কিন্তু এরিস তো আর রুমাল বুনতে পারে না। আরকনি যদি বলে সে রুমাল তৈরি করেছে তবে তো এরিসের কোনো নাম হবে না। তাই কুমতলব আঁটলো ডাইনি এরিস। সে আরকনির ঘরে দরজা আটকে দিয়ে এবার নিজের যাদুবিদ্যা কাজে লাগালো। সে নিজেই আরকনি সেজে বসলো। তারপর গেল বুড়ির কাছে। এদিকে বুড়ি পলিনীও ঘুম থেকে জেগে উঠলো। সে কিচ্ছুটি বুঝতে পারলো না।’

দুজন মিলে রাজবাড়ি পৌঁছে গেলো।

রাজকন্যা অ্যাথিনী খুব সুন্দর একটা রুমাল পেয়ে তো খুব খুশি। সে তখন আরকনির রূপ ধরে থাকা এরিসকে তার নিজের কক্ষে নিয়ে গেলো। তারপর তাকে কত্তো কিছু খেতে দিলো।

আর এদিকে, দুঃখী আরকনি ঘরের মধ্যে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলো তার রুমাল নেই। এমনকি ঘরের দরজাও বন্ধ। তার খুব কান্না পেলো। মনের দুঃখে সে আবারও রুমাল বুনতে শুরু করলো। কিন্তু সুঁতা তো আর নেই। কি দিয়ে রুমাল বুনবে সে? সে তখন দেখলো সূর্যের আলো পড়ছে ঘরের এক ছোটো ফাঁক দিয়ে। সেখানে গিয়ে সূর্যের আলো আর চোখের পানি থেকে এক সুতা তৈরি করে ফেললো আরকনি। সেটা দিয়ে তার বুননকাঠিতে সূক্ষ একটা রুমাল তৈরি করতে লাগলো সে। তার সাথে কিভাবে এরিস প্রতারণা করেছে সে কাহিনীই সে মিহি রুমালে লিখতে লাগলো। দুঃখী আরকনি এভাবেই রুমাল বুনতে থাকলো।

‘এরিস যখন রাজকন্যা অ্যাথিনীর ঘরে বসে মজা করে খাচ্ছে তখন রাজকন্যা অ্যাথিনী রুমালের দিকে তাকিয়ে সুন্দর একটা মেয়েকে দেখতে পেলো। তারপর সে এরিসের রূপ ধরে থাকা আরকনিকে প্রশ্ন করলো- তোমার বাড়ি কোথায় আবার বলো তো? থতমত খেয়ে সে বললো- ‘বনের মধ্যে’। বুদ্ধিমতি রাজকন্যা অ্যাথিনি ধরে ফেললো এটা নিশ্চয়ই এ মেয়েটির হাতে বোনা রুমাল নয়। তুমি সত্যি রুমাল বুনতে পারো? যদি পারো তো তোমার বুননকাঠি কই?

‘ধরা পড়ে গেলো এরিস। রাজকন্যা অ্যাথিনীও কিন্তু গোপনে জাদুবিদ্যা চর্চা করতো। কারণ তখন গ্রিসের সব রাজকন্যাদের জাদুবিদ্যা পড়ানো হতো। রাজকন্যা অ্যাথিনী তার জাদুর বলে এরিসের চালাকি ধরে ফেলে তাকে আটক করতে বললেন। সাথে সাথে রাজ পেয়াদারা ডাইনী এরিসকে আটক করে নিয়ে গেলো।’

‘কিন্তু দাদী এতো গেলো এরিসের কথা। আরকনির কি হলো? সে কি সে ঘরের মধ্যেই আটকে থাকলো?’ নীতু প্রশ্ন করলো।

‘দুঃখী আরকনি সে ঘরের মধ্যেই চিরকাল রুমাল বুনতে থাকলো।’

‘কিন্তু দাদী তুমি যে বললে, আরকনি এ ঘরেই আছে। আমি তো এখনো দেখতে পেলাম না।’ রনি বললো।

এতোক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলো মনির। সে বললো, ‘দাদী, আমি পেয়েছি। সত্যি আমি পেয়েছি।’

দাদী হেসে ফেললেন।

সবাই একসঙ্গে বলে উঠলো, ‘কোথায়, কোথায়?’

হঠাৎ ঘরের কোনের দিকে মনির আঙ্গুল তুলে দেখালো, ‘ঐযে ওখানে।’

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো ঘরের কোণে একটা ছোটো মাকড়সা সুন্দর রুমালের মতো জাল বুনছে।