আহমেদ রিয়াজ
ঘটনাটা ঘটল দ্বিতীয় পিরিয়ডে। অবশ্য ঘটনাটা প্রথম পিরিয়ডেই হতে পারত। মানে ভূগোলের ক্লাসেই ঘটতে পারত। যদি ও প্রথম পিরিয়ডেই ঘড়িটা খুলে চটপট টয়লেটে দৌড়াতো।
জামিলদের দ্বিতীয় পিরিয়ড হচ্ছে গণিত ক্লাস। আর প্রথম পিরিয়ড হচ্ছে ভূগোল ক্লাস। ভূগোল ক্লাস বড্ড বোর লাগে জামিলের। পৃথিবীটা গোল, এটা নিয়েই যত গোলমাল। তা-ও আবার পুরোপুরি গোল না, কমলা লেবুর মতো আগায় আর গোড়ায় কিছুটা চ্যাপ্টা। একেবারে বৃত্তের মতো গোল হলে কী এমন অসুবিধে হতো পৃথিবীর? কে জানে? তাহলে কি মানুষ চাঁদে যেতো না? কিংবা মঙ্গলগ্রহে নাসা কোনো নভোযান পাঠাতো না? অবশ্যই পাঠাতো। কারণ মানুষ তো আর পৃথিবী কমলালেবুর মতো চ্যাপ্টা বলে নভোযান বানায়নি। বানিয়েছে পৃথিবীর বাইরে কী আছে জানার জন্য এবং দেখার জন্য। জামিলের মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই উঁকি মারে। প্রশ্নটা হচ্ছে আর গ্রহগুলোও কি পৃথিবীর মতো? পৃথিবীর মতো বলতে কমলা লেবুর মতো আগায় আর গোড়ায় এমন চ্যাপ্টা? শনি গ্রহকে দেখে সেটা মনে হয় না। শনি তো একটা ফ্লাইং সসারের মতো। জামিলের মনে হয় বিজ্ঞানীরা যে চেঁচামেচি করেন ফ্লাইং সসার নিয়ে সেটা আসলে ওই শনি গ্রহই। শনি গ্রহটাই ভূত হয়ে ফ্লাইং সসার হয়ে যায়। তারপর সুযোগ বুঝে পৃথিবীর কাছাকাছি এসে এক ঝলক দেখা দিয়ে আবার চলে যায় নিজের জায়গায়। জামিলের কথা সত্যি হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে। কোনো বিজ্ঞানী ওর কথা উড়িয়ে দিতে পারবেন? পারবেন না।
সে যাই হোক। শনি, ফ্লাইং সসার, কমলালেবু- এসব নিয়ে যখন জামিল ভাবছিল তখনই পেটের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। আজ সকাল থেকেই পেটটা কেমন যেন হয়ে আছে। একটু পর পর গর্জন করছে। তবে খুব জোরে নয়। হালকা গর্জন। পেটের ভিতর মনে হয় বর্ষাকাল ঢুকে গেছে। গর্জনটা ঠিক বর্ষার মেঘের মতো। মেঘ যেমন গুড় গুড় করে ডাকে, তেমনি ডাকছিল পেটটা। কয়েকবার তো বেশ জোরেই ডেকে ফেলেছিল।
জামিল বসেছিল তৃতীয় বেঞ্চিতে। ওর ডানে বসা তারেক, বামে শরিফ। শরিফের বামে জগলুল। জগলুলের ওপাশে আরো একজন বসতে পারত, যদি জায়গা থাকত।
জগলুল বসার পর আরো একজন বসতে কষ্ট হয়। কারণ একটাই। জগলুল দেড়জনের জায়গা দখল করে বসে। বেচার জগলুল। ও অবশ্য ইচ্ছে করে দেড়জনের জায়গা নিয়ে বসে না। ওকে বাধ্য হয়েই বসতে হয়। বেশ গুদুগাদু শরীর। এখনই দৈর্ঘ্যে আর প্রসে' প্রায় সমান। যতই দিন যাচ্ছে, ও লম্বা যেমন হচ্ছে, শরীরের পরিধিও তেমন বাড়ছে। ভাগ্যিস খুব বেশি লম্বা হয়নি। খুব লম্বু যারা, তাদের জায়গা একেবারে শেষ বেঞ্চে। তারচেয়ে কম লম্বু যারা, তারা এর আগের বেঞ্চিতে বসে। এভাবে একেবারে সামনের বেঞ্চিতে বসে সবচেয়ে কম লম্বুরা। যেহেতু তৃতীয় বেঞ্চিতে বসেছে জগলুল, তার মানে খুব একটা লম্বুও নয় ও, আবার খুব একটা কম লম্বুও নয়। তারেক, শরিফ, জামিল আর জগলুল- এরা লম্বায় প্রায় একই আকারের। বেঞ্চিতে বসার এই সূত্রটা ওদের ভূগোল টিচার আনিসুল স্যারের দেয়া। তিনি প্রায়ই দেখতেন প্রথম বেঞ্চিতে বসা নিয়ে ছেলেদের মধ্যে একটা রেষারেষি চলে। কে আগে বসবে তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হইচই প্রায়ই ঘটত।
আরো একটা বিশেষ কারণ আছে।
ব্ল্যাক বোর্ডে কিছু লিখলে পিছনের বেঞ্চিতে বসা ছেলেরা প্রায়ই অভিযোগ করে, স্যার দেখতে পাই না।
প্রথম কয়েকদিন এমন কথা শুনে বেশ বিরক্ত হতেন তিনি। একদিন জানতে চাইলেন, কে দেখতে পাস না দেখি? দাঁড়া।
যে বলল দেখতে পায় না সে দাঁড়াল। কিন্তু আনিসুল সাহেবের মনে হলো ছেলেটি বসে আছে। কারণ ও লম্বায় এতই ছোট যে দাঁড়িয়েও ঠিক মতো ব্ল্যাক বোর্ডের একটু নিচের দিকে দেখা ওর পক্ষে সম্ভব না। কিছু বোঝানোর সময় কেউ যদি বলে দেখতে পাই না, তাহলে তার মনোযোগ নষ্ট হয়। তিনি সেদিন একটু ঝাঁঝের সাথেই বলেছিলেন, দেখতে পাস না কেন? চোখ দুটো কি বাসায় রেখে এসেছিস?
ছেলেটি বলল, না স্যার।
আনিসুল স্যার বললেন, তাহলে তোর পকেটে খুঁজে দ্যাখ। ওখানে রেখে দিসনি তো আবার?
ছেলেটি বলল, না স্যার।
আনিসুল সাহেব মজা করার জন্য বললেন, তাহলে তোর ব্যাগের ভিতর খুঁজে দ্যাখ।
কিছুক্ষণ ব্যাগ হাতাল ছেলেটি। কিন্তু ব্যাগের ভিতর ওর চোখ দুটো পেল না। পাবে কী করে? কেউ কি আর চোখ ব্যাগে বা পকেটে রেখে ক্লাস করে?
ব্যাগের ভিতর না পেয়ে ছেলেটি বলল, ব্যাগের মধ্যে নেই স্যার।
তাহলে দেখতে পাচ্ছিস না কেন?
ছেলেটি এবার ওর ঠিক সামনের বেঞ্চিতে বসা ছেলেটিকে দেখিয়ে বলল, ওর মাথার জন্য দেখতে পাচ্ছি না।
কী মুসিবত। ও কী তোর জন্য মাথা খুলে রাখবে নাকি? সেটা কি সম্ভব? আচ্ছা। তুই সামনে এসে বস।
ক্লাসের সবচেয়ে কম লম্বা ছেলেটিকে একেবারে সামনের বেঞ্চিতে এনে বসালেন তিনি। তারপর আবার পৃথিবী আর কমলালেবুর কোথায় কোথায় মিল বোঝাতে শুরু করলেন। তখনই আরেক সারির একেবারে পেছনের বেঞ্চিতে বসা আরেকটি ছেলে একই অভিযোগ জানাল, স্যার আমিও দেখতে পাই না। সামনের বেঞ্চিতে আসবো?
এবার বেশ বিরক্ত হলেন স্যার। সাথে সাথে নিয়ম করে দিলেন সবচেয়ে লম্বুরা বসবে একেবারে পেছনের বেঞ্চিতে। তার আগের বেঞ্চিতে বসবে এরচেয়ে কম লম্বুরা। এভাবে একেবারে কম লম্বুরা বসবে একেবারে সামনের বেঞ্চিতে।
ব্যস ওই থেকেই নিয়ম চালু হয়ে গেল। ক্লাস টিচাররা এমন অনেক নিয়ম চালু করেন। যেহেতু ক্লাসে রোল কল করার এখতিয়ার কেবল ক্লাস টিচারেরই, সেহেতু আসন বন্টন করার এখতিয়ারও তার। নিয়মটা বেশ কাজে দিয়েছে। এখন আর বেঞ্চিতে বসা নিয়ে কোনো ধাক্কা ধাক্কি নেই। সবাই বুঝে গিয়েছে কার কোন বেঞ্চিতে বসতে হবে। সবাই সে হিসেব করেই বসে। এখন আর বেঞ্চি নিয়ে দখলদারিও চলে না। বসার এই নিয়মটা সবাই মেনে নিয়েছে। কেবল একেবারে লম্বুরা ছাড়া। ওদের খুব আফসোস। কেন যে এত লম্বা হতে গেল ওরা?
এই ভূগোল ক্লাসেই জামিলের পেটের ভিতর থেকে হঠাৎ একটা শব্দ বেরুল-গুড়-ম!
জামিলের পাশে বসা তারেক আর শরিফ শব্দটা পেল। শরিফ শব্দটা শুনেই জানালা দিয়ে তাকাল বাইরে। নাহ্! আকাশে তো কোনো মেঘের চিহ্ন নেই। তাহরে শব্দটা এল কোথা থেকে?
শব্দের উৎসের খোঁজে ও এদিক ওদিক তাকাতে লাগল। এবং না পেয়ে আবার মনোযোগ দিল ব্ল্যাকবোর্ডে স্যারের আঁকা কমলালেবু আর পৃথিবীর দিকে। তখন আবারও শব্দটা এল- গুড়-ম!
পর পর দুবার।
এবার একেবারে ঝুঁকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আকাশ দেখল শরিফ। আর তখনই স্যারের নজরে পড়ে গেল। স্যার হাঁক দিলেন, এই দাঁড়া?
শরিফ দাঁড়াল।
স্যার জানতে চাইলেন, ব্ল্যাক বোর্ড কোথায় থাকে? ক্লাসের বাইরে নাকি ভিতরে?
শরিফ বলল, ক্লাসের ভিতরে স্যার।
স্যার এবার গর্জে উঠলেন, তাহলে তুই বাইরে তাকাচ্ছিস কেন?
স্যারের গর্জন শুনেই কি না কে জানে, জামিলের পেটের ভিতরটা আবারও গর্জে ওঠল- গুড়--উ-ম!
শরিফ বলল, স্যার মনে হয় মেঘ গর্জন করছে।
মেঘ গর্জন করলে তোর কী? তুই বাইরে তাকাচ্ছিস কেন?
শরিফ বলল, কিন্তু স্যার আকাশে তো মেঘ নেই। মেঘ ছাড়া কি গর্জন হতে পারে স্যার?
কোথায় মেঘ গর্জন করছে? আমরা কেউ শুনলাম না, আর তুই শুনছিস? বস!
আবার স্যার কমলালেবুর দিকে মনোযোগ দিতে যাবেন, তখনই উঠে দাঁড়াল শরিফ। স্যার, মেঘ তো আবারও গর্জন করলো।
এবার ওদের বেঞ্চির পাশে এসে দাঁড়ালেন স্যার। আর বেঞ্চির পাশে দাঁড়িয়েই নাক কুঁচকে বললেন, উঁহ্!
তারপর একটু দূরে সরে গিয়ে বললেন, কী গন্ধ! কার পেট যেন পঁচে যাচ্ছে। কে ছেড়েছে?
প্রথম বেঞ্চিতে বসা একটা ছেলে বলল, কী স্যার?
স্যার বললেন, আমার মুণ্ডু। বল কে ছেড়েছে?
তৃতীয় বেঞ্চির দিকে আঙুল তুলে বললেন, তোদের ওখান থেকেই আসছে গন্ধটা। কার পেট পঁচেছে?
কার পেট পঁচেছে কেমন করে বলবে? পঁচা পেট নিয়ে তো কেউ স্কুলে আসে না। বরং হাসপাতালে যায়। স্কুল তো আর হাসপাতাল নয়। ওদের স্কুলে অবশ্য একজন ডাক্তার আছেন। মাসে একবার ওদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তার নাম কে যেন দিয়েছে ডাক্তার স্যার। ডাক্তার স্যারের একটা রুম আছে। মাসে একদিন ওদের ক্লাসের সবাই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ডাক্তার স্যারের রুমের সামনে। এখানেও নিয়ম- সবচেয়ে কম লম্বুরা থাকে লাইনের শুরুতে। আর সবচেয়ে বেশি লম্বুরা থাকে লাইনের একেবারে শেষে। ওই লাইনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি লম্বুরা নিজেদের কপাল চাপড়ায়।
ডাক্তার স্যারের কাছে ওদের হাজিরা খাতা থাকে। সবার নামের পাশে লম্বা অনুযায়ী এক দুই তিন করে সিরিয়াল দেয়া আছে। প্রথমেই ডাক পড়ে সবচেয়ে কম লম্বা ছেলের। তারপর একে একে সবার। ডাক্তার স্যারের রুমে ঢুকলেই স্যার প্রথমে উচ্চতা মাপেন। তারপর মাপেন ওজন। কেউ যদি লম্বা অনুযায়ী কম ওজনের হয়, তবে তাকে আরো বেশি করে কার্বোহাইড্রেট আর চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। আর কেউ যদি উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজনের হয়, তবে তাকে কম খেতে বলেন। আর প্রতিবার ধমক খায় জগলুল। জগলুল রুমে ঢুকলেই স্যার বলেন, তুই সবার শেষে আয়।
জগলুল একবার বেঁকে বসেছিল। জানতে চেয়েছিল, কেন স্যার?
ডাক্তার স্যার বললেন, বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাক। ব্যয়াম হবে তোর। নয় তো শরীর কমবে না। ব্যায়াম করিস?
না স্যার।
তুই তো দিন দিন ফুটবল হয়ে যাচ্ছিস রে?
স্যার ওকে ফুটবল বলেছেন বলে, সে কী কান্না জগলুলের। সেই থেকে স্কুলে ওর নাম হয়ে গিয়েছে ফুটবল।
জামিলদের ক্লাসে আরেকজনের নাম হচ্ছে তালগাছ। ওই নামটা অবশ্য ডাক্তার স্যারের কারণেই হয়েছে। তালগাছ বেশ লম্বা। ডাক্তার স্যার ওকে দেখেই প্রথম দিন বলেছিলেন, তুই তো তালগাছ হয়ে যাচ্ছিস দিন দিন। ক’দিন পর তো খালি হাতে গাছ থেকে তাল পাড়তে পারবি। একপায়ে দাঁড়ানোর প্রাকটিস করিস তো?
তালগাছ স্যারের কথা বুঝতে না পেরে বলল, কেন স্যার?
পড়িসনি ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে’। একপায়ে দাঁড়ানোর প্রাকটিস করিস। যা এবার।
আনিসুল স্যারের নিয়ম মেনে ক্লাসের একেবারে শেষ বেঞ্চিতে বসে তালগাছ। লাইনে সবার শেষে থাকে তালগাছ।
ডাক্তার স্যার সাধারণত এই দুটো কাজই করে থাকেন- ওজন মাপেন আর উচ্চতা মাপেন। আর কারো অসুখ বিসুখ হলে অষুধ দেন। তবে সেটা খুবই কম। কারণ ওই একটাই- অসুখ হলে কি আর কেউ স্কুলে আসে? আসে না। যায় হাসপাতালে নয় তো ডাক্তারের কাছে। পঁচা পেট নিয়ে ডাক্তার স্যারের কাছে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। কখন কী বলে বসেন তার কি ঠিক আছে?
আনিসুল স্যার বললেন, নাহ্! তোরা ভূগোলে মনোযোগ দিতে পারিস না। এই ভূগোল ক্লাসেই তোদের যত গোলমাল।
সত্যিই। এই ভূগোল ক্লাস থেকেই গোলমালটা শুরু। আর ঘটনাটা ঘটল দ্বিতীয় পিরিয়ডে। মানে গণিতের ক্লাসে।
পঁচাপেটের মালিকের সন্ধান করতে করতেই ঘণ্টা বেজে গেল। আর থাকার উপায় নেই। বলা যায় না, পঁচা পেটের গন্ধ পুরো ক্লাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাজেই ঘণ্টা পড়ার শব্দ কানে যেতেই হাজিরা খাতা বগলদাবা করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন আনিসুল স্যার। এর ঠিক তিনমিনিট পরেই এলেন হাফিজ স্যার। গণিতের স্যার। বড্ড রাশভারী টিচার। তার ক্লাসে কোনো শব্দ করা চলে না। স্যার একদম বরদাস- করতে পারেন না। গণিত হচ্ছে চিন্তার বিষয়। চিন্তার সময় নো টুঁ শব্দ। শব্দ করলেই চিন্তার ব্যাঘাত ঘটে। আর এজন্যই হাফিজ স্যারের ক্লাসে থাকে পিনপতন নিরবতা।
কিন্তু জামিলের পেট তো আর গণিত কষে না। কাজেই হাফিজ স্যারের ক্লাসে বিকট শব্দে ওর পেট ডেকে ওঠল। জামিলের পেট পিনপতন নিরবতাকে এভাবে বুড়ো আঙল দেখাবে ভাবতে পারেনি কেউ। জামিল নিজেই ভাবতে পারেনি।
স্যার তখন ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে লিখে বীজগণিতের সূত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। শব্দ পেয়েই ঘুরে তাকালেন। চোখ লাল করে বললেন, শব্দ করল কে?
শব্দটা হাফিজ স্যার যতখানি জোরে পেয়েছেন, তারচেয়ে জোরে পেয়েছে শফিক। উত্তেজনায় সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে শফিক বলল, স্যার মনে হয় মেঘ ডাকছে। বাইরে গিয়ে দেখে আসবো?
হাফিজ স্যার অবাক হয়ে তাকালেন শফিকের দিকে। এতবড় সাহস! তিনি না বলতেই উঠে দাঁড়াল? তার বেশ রাগ হলো। তবে রাগলে তিনি চেঁচামেচি করেন না। তিনি ঠাণ্ডা গলায় বললেন, এ কিউব মাইনাস বি কিউবের সূত্রটা বলো?
শফিক আমতা আমতা করতে লাগল। এ কিউব মাইনাস বি কিউবের সূত্রটা স্যার মাত্র বোঝাচ্ছেন। মনে হয় এতক্ষণে বুঝিয়েও শেষ করেছেন। কিন্তু ওর তো মনোযোগ ছিল না।
হাফিজ স্যার বললেন, স্কুলে আসো কেন? কাল থেকে আসবে না। এবার কান ধরে বেঞ্চির উপর দাঁড়িয়ে থাকো।
শফিক বলল, স্যার মেঘ ডাকার শব্দে মনোযোগ দিতে পারছি না।
হাফিজ স্যার বললেন, মেঘের কাজ মেঘ করছে। তোমার কাজ তুমি করবে। চারদিকে নানান শব্দ থাকবেই। পৃথিবী কখনো সাউন্ডলেস হবে না। কেন হবে না জানো?
শফিক বলল, কেন স্যার?
হাফিজ স্যার এবার ক্লাসের সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা কেউ বলতে পারবে?
তালগাছ দাঁড়িয়ে বলল, কারণ স্যার পৃথিবীর সকল বস্তুই শব্দ উৎপন্ন করে।
হাফিজ স্যার বললেন, সকল বস বলতে তুমি কাদের বোঝাচ্ছ?
তালগাছ এবার আর জবাব দিতে পারল না। চুপ করে রইল। হাফিজ স্যার আবার প্রশ্ন করলেন, বস্তু কত প্রকার?
তালগাছ বলল, দুই প্রকার। জড়বস্তু ও জীববস্তু।
হাফিজ স্যার বললেন, কোন ধরনের বস্তু শব্দ উৎপন্ন করে?
তালগাছ বলল, জীববস্তু স্যার।
হাফিজ স্যার জানতে চাইলেন, কেবল জীববস্তু? তাহলে তুমি বলতে চাইছ জড়বস্তু শব্দ উৎপন্ন করে না?
তালগাছ বলল, না স্যার।
হাফিজ স্যার বললেন, জীববস্তু কীভাবে শব্দ উৎপন্ন করে?
তালগাছ বলল, একেক জীব একেক রকমভাবে ডাকে। ওতেই শব্দ উৎপন্ন হয়।
হাফিজ স্যার এবার ডাস্টারটা হাতে নিয়ে বললেন, এটা কী?
তালগাছ বলল, ডাস্টার স্যার।
হাফিজ স্যার আবার প্রশ্ন করলেন, এটা কোন ধরনের বস্তু?
তালগাছ বলল, জীববস' স্যার।
হাফিজ স্যার ভ্রু কুঁচকে তাকালেন তালগাছের দিকে। তারপর বললেন, তুমি কেবল
হাতে পায়েই লম্বা হয়েছ, বুদ্ধি-বিবেচনায় এখনও বামন রয়ে গেছ। ডাস্টার কি
কখনো জীববস্তু?
তালগাছ যুক্তি দেখিয়ে বলল, ডাস্টার তো স্যার কাঠ দিয়ে তৈরি। আর কাঠ হয় গাছ থাকে। গাছ জীববস্তু। কাজেই ডাস্টারও জীববস্তু।
হাফিজ স্যার এবার মুচকি হেসে বললেন, বেশ তোমার বুদ্ধি। আচ্ছা বেশ।
তারপর পকেট থেকে কলম বের করে বললেন, এটা কোন বস্তু?
তালগাছ বলল, জড়বস্তু স্যার।
হাফিজ স্যার এবার কলম দিয়ে তার সামনে থাকা টেবিলে জোরে জোরে আঘাত করলেন।
বিকট শব্দ তৈরি হলো। তারপর বললেন, এই শব্দটা কে করল, জড়বস্তু নাকি
জীববস্তু?
তালগাছ বলল, জড়বস্তুর সাহায্য নিয়ে জীববস্তু করল স্যার।
নাহ্! এরা ঠিক ব্যাপারটা বুঝবে না। এদের বুঝিয়েও লাভ নেই। হাল ছেড়ে দিলেন
হাফিজ স্যার। তাছাড়া তিনি তো বিজ্ঞানের টিচার নন। গণিতের টিচার। বিজ্ঞান
নিয়ে এদের সাথে আলোচনা করা ঠিক না। তবু বললেন, শোনো, যে কোনো জড় বা
জীববস্তু শব্দ উৎপন্ন করতে পারে। যেমন ধরো রেডিও। ওটা একটা জড়বস্তু। ওটা
কেবল চালিয়ে দিলেই শব্দ উৎপন্ন করে। চালাতে অবশ্য কোনো জীববস্তুর সাহায্য
প্রয়োজন হয়, কিন্তু একবার চালিয়ে দিলে ক্রমাগত শব্দ তৈরি করতেই থাকবে।
কাজেই শব্দ যে কোনো বস্তুই উৎপন্ন করতে পারে। কিন্তু চাঁদে কী শব্দ আছে?
নেই। চাঁদে যারা গিয়েছেন তারা চাঁদে শব্দ পাননি। তাই বলে চাঁদে শব্দ
উৎপন্ন হয় না? অবশ্যই হয়। কিন্তু সেই শব্দ পাওয়া যায় না। কেন পাওয়া যায় না
জানো?
তালগাছ বলল, না স্যার।
হাফিজ স্যার বললেন, বেশ ভালো কথা। এবার বসো।
এরপর সবার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, তোমরা কেউ জানো?
মনে হয় কেউ জানে না। জানলে এতক্ষণে দাঁড়িয়ে যেতো। হাফিজ স্যার মুচকি
হাসলেন। তারপর যেই কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুললেন অমনি উঠে দাঁড়াল জামিল।
হাফিজ স্যার বললেন, তুমি জানো?
জামিল বলল, স্যার আমি টয়লেটে যাবো।
হাফিজ স্যার বললেন, টয়লেটে যাবে! কেন?
জামিল বলল, খুব জরুরি স্যার। আর পারছি না।
হাফিজ স্যার বুঝলেন অবস্থা শোচনীয়। তিনি বললেন, ঠিক আছে যাও।
চটপট হাত থেকে ঘড়িটা খুলে টেবিলের ওপর রেখেই ছুটল জামিল। কেবল ঘড়ি নয়, ওর
শার্ট আর প্যান্টের পকেটে যা যা ছিল, সবই বের করে টেবিলের ওপর রেখে ছুটল।
কেন যে আজ সকালে ও ঘুঘনিটা খেয়েছিল?
প্রতিদিন স্কুলে আসার সময় বাবা ওকে কিছু টাকা দিয়ে বলেন, স্কুলে গিয়ে কিছু কিনে খাস। ভালো জিনিস খাবি। হাবিজাবি কিছুই খাবি না।
প্রতিদিনই টাকা নেয়ার সময় মাথা দুলিয়ে জানায় জামিল, আচ্ছা বাবা।
বাবা আবার বলেন, বাজে জিনিস খেলে কিন্তু পেট খারাপ করবে। মনে থাকবে?
জামিল আবারও মাথা দুলিয়ে জানায়, মনে থাকবে।
কিন্তু আজ মনে ছিল না। আজ ঘুঘনিটা দেখেই ওর মুখ ভরে গিয়েছিল তরল পদার্থে।
ওটা না খেলেই নয়। তারওপর পেঁয়াজ আর শসা দিয়ে কী সুন্দর মেখে দিচ্ছিল
ঘুঘনিঅলা লোকটি। ও কী না খেয়ে থাকা যায়?
প্রথমে তিনটাকার ঘুঘনি খেল ও। আহ্! কী টেস্ট! এ না খেয়ে থাকা যায় না।
বাবার উপদেশ বাণী বেমালুম ঘুঘনির সাথে খেয়ে বসে আছে ও। আর তখন যদি মনেও
পড়ত তবু লাভ হতো না। ঘুঘনির কাছে বাবার উপদেশ বাণী একেবারেই নিরস।
একেবারেই পানসে। আরো তিনটাকার ঘুঘনি খেল ও। তবু মুখে স্বাদটা লেগে রইল।
আর খাবে? না থাক। বেশি খাওয়া ঠিক না। বাবার উপদেশবাণী মনে পড়ল তখন। কিন্তু
এমন মজাদার ঘুঘনিকে ও কোনোভাবেই আজেবাজে খাবার মানতে আর রাজী নয়। কাজেই
ওটা আজেবাজে খাবার নয়। আর যেহেতু ওটা আজেবাবে খাবার নয়, কাজেই যত ইচ্ছে
খাওয়া যায়।
একের পর এক ছেলেরা ঘুঘনি কিনছে আর খাচ্ছে। ঘুঘনিঅলার ঘুঘনি বানিয়ে দেয়াটাও
দারুণ হয়েছে। নিশ্চয়ই তার হাতের যশ আছে। না হলে এত মজাদার ঘুঘনি বানায়
কেমন করে? ও ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ঘুঘনিঅলার সামনে।
ওকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঘুঘনিঅলা বলল, আরো খাবে?
জামিল বলল, নাহ্!
তবে এই বলায় কোনো জোর ছিল না। মনে হচ্ছিল আরেকবার বললেই খাবে। এবং
ঘুঘনিঅলা ঠিক বুঝে নিয়েছে জামিলের ইচ্ছেটা। কম দিন ধরে তো আর ঘুঘনি বেচে
না। এখানকার যত স্কুল আছে, সব স্কুলের টাইম টেবিল ওর মুখস্ত। কোন স্কুল
কখন শুরু হয়, কোন স্কুলে কখন টিফিনের ঘণ্টা পড়ে, কখন ছুটি হয়- সব ও জানে।
একটা হাতঘড়িও আছে ওর। একেবারে ঘড়ি ধরে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক সময় মতো স্কুলের
গেটের কাছে চলে আসে। মাথায় একটা বিশাল এলুমুনিয়ামের ভাণ্ড। ওই ভাণ্ডের
অর্ধেকটা জায়গা দখল করে রাখে ঘুঘনি। আর বাকি অর্ধেকটা জায়গায় থাকে ঘুঘনি
দেয়ার জন্য কাগজ, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, তেলের ছোট্ট একটা শিশি, একটা ছুরি,
কয়েকটা আস্ত শসা আর একখণ্ড ছোট্ট কাঠের তক্তা। এই কাঠের তক্তার উপর রেখে
ছুরি দিয়ে কাটাকুটির কাজ সারে ও। আরো দুটো ছোট ছোট ভাণ্ড আছে। একটায় থাকে
টাকাকড়ি। আরেকটায় কেটে রাখা পিঁয়াজ, শসা আর কাঁচামরিচের মিশ্রন। একটা
লবণদানিও আছে। আরো আছে। একটা ভাণ্ড। এই ভাণ্ডে ঘুঘনিটা নিয়ে পেঁয়াজ,
কাঁচামরিচ আর শসার মিশ্রণ দিয়ে একটা কাঠের ডাণ্ডা দিয়ে ভালো মতো মাখিয়ে
দেয়। আর একটা শিশি আছে। এই শিশিতে আছে তেঁতুল দিয়ে তৈরি টক পানি।
ঘুঘনিঅলা যখন হাঁটে তখন ডানহাত দিয়ে মাথার উপর রাখা ভাণ্ডটা ধরে রাখে। আর
বাঁ হাতে ধরে থাকে একটা কাঠের ফ্রেম। কোথাও যখন দাঁড়ায় মানে ঘুঘনি বিক্রি
করে তখন ওই কাঠের ফ্রেমের ওপর ভাণ্ডটা রাখে।
না বললেও জামিলের চোখেমুখে আরো ঘুঘনি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে। এই ইচ্ছেটাই
দেখতে পেয়েছে ঘুঘনিঅলা। মুচকি হেসে বলল, বেশি করে শসা দিয়ে মেখে দেবো। আরো
মজা করে বানিয়ে দেবো। দেবো?
জামিল কিছু বলল না। ঘুঘনিঅলা বুঝল মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। সে আবার ঘুঘনি
বানাতে শুরু করল। নতুন একটা শসার খোসা ছাড়াল। তারপর কাঠের ছোট্ট তক্তার
ওপর রেখে শসাটাকে কুচি কুচি করে কাটল। নতুন একটা পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে
সেটাও কুচি কুচি করল। তারপর কাঠের ডাণ্ডাটা দিয়ে খানিকটা ঘুঘনি ঢালল ছোট
ভাণ্ডটায়। বেশি করে শসা, পেঁয়াজ আর কাঁচামরিচের মিশ্রণ দিল। তারপর কাঠের
ডাণ্ডাটা দিয়ে ঘুটতে শুরু করল। দুবার ঘুঁটা দিয়েই বলল, পাঁচটাকার বানাই?
খেয়ে দেখো বেশ মজা হবে।
ঘুঘনি বানানো দেখেই জামিলের মুখ আবার তরল পদার্থে ভরে ওঠল। হঠাৎ মনে পড়ল
টাকা আছে তো? পকেট হাতড়ে দেখল আরো ঘুঘনি খাওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা ওর কাছে
আছে। তারপর বলল, আচ্ছা।
এবার আরো কিছুটা ঘুঘনি ছোট ভাণ্ডটায় ঢালল ঘুঘনিঅলা। সাথে আরো কিছুটা শসা,
পেঁয়াজ আর কাঁচামরিচের মিশ্রণ দিল। তারপর বেশ জোরে জোরে ঘুটতে শুরু করল।
কিছুটা তেতুলের পানির মিশ্রন দিল। তারপর দিল খানিকটা লবণ। আবার ঘুটতে শুরু
করল। ঘুটা শেষ করে বড় দুটো কাগজ একটার উপর আরেকটা রেখে ঘুঘনিটা দিল
জামিলের হাতে। আর দিল একটা ছোট শক্ত কাগজ। এই শক্ত কাগজ চামচের কাজ করবে।
কাগজের চামচ দিয়ে খানিকটা ঘুঘনি মুখে দিয়েই উমম করে একটা শব্দ করল জামিল।
দারুণ হয়েছে এবারের ঘুঘনিটা। এরপর দাম মিটিয়ে সরে এল ঘুঘনিঅলার সামনে
থেকে। ভয়ে। যদি আরো খেতে ইচ্ছে করে? বেশি খাওয়া ঠিক নয়। যতই ভালো খাবার
হোক, বেশি খেলেই পেটে ঝামেলা পাকাতে পারে। কাগজের চামচ দিয়ে পুরো ঘুঘনিটা
খেয়ে শেষ করে ফেলল ও। ঘুঘনিটা এতই মজা হয়েছে, ঘুঘনি দেয়া কাগজটাও চেটে
নিল। ঘুঘনি শেষ করে ঢুকে পড়ল স্কুলে। আর তারপর তো প্রথম পিরিয়ড থেকে শুরু
হল পেটের ভিতর লড়াই। সেই লড়াই যেন তেন লড়াই নয়। জামিল ভেবেছিল ঘুঘনিটা হজম
করতে পারবে। কিন্তু পেটের ভিতর ঢুকে এত গণ্ডগোল করবে এটা কী আর ও জানতো?
এই গণ্ডগোল টয়লেটে গিয়েই তবে থামল।
জামিল টয়লেটে যেতেই দ্বিতীয় পিরিয়ডের ঘণ্টা পড়ে গেল। ঘণ্টা পড়লে আর
অপেক্ষা করেন না হাফিজ স্যার। কিন' চাঁদে কেন শব্দ উৎপন্ন হয় না সেটা তো
বলা হলো না। বুঝিয়ে বললে অবশ্য ভালো হতো। কিন্তু বুঝিয়ে বলার সময় কোথায়?
তবু কোনো রকমে বললেন, কারণটা হচ্ছে বাতাস। চাঁদে বাতাস নেই বলেই কোনো শব্দ
শোনা যায় না। বাতাস আছে বলেই পৃথিবীতে এত শব্দ।
বলেই আর দেরি করলেন না হাফিজ স্যার। বেরিয়ে গেলেন ক্লাস থেকে। কিন্তু
শব্দের কথাটা কেন বলতে চাইলেন, সেটা আর ব্যাখ্যা করতে পারলেন না।
গণিত ক্লাসের পর সমাজবিজ্ঞান ক্লাস। ওদের সমাজবিজ্ঞান ক্লাস নেন আনিস
স্যার। মোটাসোটা মানুষ। বিশাল এক গোঁফ স্যারের। ওরা এই স্যারের নাম দিয়েছে
গুম্ফু স্যার। গুম্ফু স্যার ক্লাসে আসেন আট-দশ মিনিট দেরি করে। দেরিটা
অবশ্য ইচ্ছে করে না। তিনি হাঁটেন বেশ ধীরে ধীরে। এক ক্লাস শেষ করে টিচারস
কমন রুমে গিয়ে দুমিনিট জিরিয়ে নেন। তারপর পরের ক্লাসে আসেন। এতেই তার সময়
লাগে দশ মিনিটের বেশি। এবং খুব একটা পড়া ধরেন না কাউকে। তবে যেদিন ধরেন,
সেদিন কেউ পড়া না পারলে খবর করে ছাড়েন। আগে নাকি তার বেত মারার অভ্যাস
ছিল। কিন্তু ওদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেত মারা নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি
টিচারদের বলে দিয়েছেন, ছলে বা কৌশলে যে ভাবেই হোক পড়া আদায় করে নিতে হবে
ছাত্রদের কাছ থেকে। কিন্তু বল প্রয়োগ করা যাবে না। ওটা করে কম বুদ্ধির
টিচাররা। যখনই কোনো টিচার ছাত্রদের সাথে বুদ্ধিতে না পারেন, তখনই বল
প্রয়োগ করেন। বল প্রয়োগ মানে বেত প্রয়োগ। আর বেত প্রয়োগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর
থেকে বেশ শান্তিতে আছে ওরা। নাহলে এতদিনে কী যে হতো বলা যায় না।
এই বেত প্রয়োগ নিয়ে একটা ঘটনাও ঘটেছিল। ঘটনাটা গুম্ফ স্যার মানে আনিস
স্যারকে নিয়েই। তিনি নাকি একবার কোন এক ছাত্রকে এত বেশি বেতিয়েছিলেন যে,
ছেলেটা অজ্ঞান হয়ে যায়। ছেলেটাকে সাথে সাথে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে
পাঠাতে হয়েছিল। পরে ওই ছাত্রের বাবা এসে বেশ হম্বি তম্বি করেছিলেন।
থানা-পুলিশ করার ভয়ও দেখিয়েছিলেন। ভাগ্যিস কিছুক্ষণ বাদেই জ্ঞান ফিরে
এসেছিল ওই ছাত্রের। নয় তো থানা পুলিশ থেকে রেহাই পেতেন না আনিস স্যার। সেই
থেকে আনিস স্যার আর বেত ধরেন না। আর যে টিচাররা বেত ধরার অভ্যাস করেছিলেন,
তাদেরও সে অভ্যাস বাদ দিতে হয়েছিল। তবে আনিস স্যার ক্লাসে ঢুকেই প্রথমে
জানতে চান, কে কে পড়া শিখে আসিসনি দাঁড়া।
যারা পড়া শিখে আসেনি ওরা দাঁড়ায়। ভাগ্যিস ওদের ক্লাস টিচার আনিসুল স্যার
বেঞ্চিতে বসার একটা নিয়ম করে দিয়েছিলেন- বেশি লম্বুরা পিছনে আর কম লম্বুরা
সামনে। সে নিয়মের কারণে খুব সহজেই দেখা যায় কে কে পড়া শিখে আসেনি। এই নিয়ম
না থাকলে কোনো লম্বু যদি সামনে থাকত আর ওই লম্বুর পিছনে যদি কমলম্বু থাকত,
তবে দেখা যেত না।
আনিস স্যার এরপর দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদের গুণতে শুরু করেন। গোণার পর যদি
দ্যাখেন বেশিরভাগ ছাত্র পড়া শিখে আসেনি, তবে সেই পড়াটা আবার পড়ে আসতে
বলেন। তবে সবদিন এটা করেন না। কোনো কোনো দিন যারা পড়া শিখে আসেনি, তাদের
বেঞ্চির উপর কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। তবে নিজের কান নিজে নয়, একজনকে
আরেকজনের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নিজের কান নিজে ধরলে তবু মানা যায়।
নিজের কান অন্য কেউ ধরলেই তো অপমান লাগে। এই অপমানে অনেকেই পড়া শিখে আসে।
এবং একসময় দেখা যায় প্রায় সব ছেলেই পড়া শিখে এসেছে।
শাস্তিটা দারুণ। মনে মনে হাসেন আনিস সাহেব। এই শাস্তির একটা ঝামেলার দিকও
আছে। যদি কোনো দিন পড়া শিখে না আসা ছাত্রের সংখ্যা বেজোড় হয়ে যায়, তখনই
ঝামেলায় পড়েন তিনি। বেজোড় হলেই একজন ছাত্র বাকি থাকে যার কান ধরার মতো কেউ
নেই। পর পর দুদিন এমন ঝামেলায় পড়ার পর নিজেই একটা বুদ্ধি বের করলেন। যারা
পড়া শিখে আসে বলে, ওরা বসে থাকে বেঞ্চিতে। ওদের একজন একজন করে পড়া ধরেন।
এভাবে পড়া ধরতে ধরতে প্রথমেই যে আটকে যাবে মানে পড়া না পারবে, তাকে দাঁড়
করিয়ে দেয়া হবে। ব্যস। আর কোনো সমস্যাই রইল না। জোড় মিলিয়ে বেশ তৃপ্তি পান
আনিস স্যার। কান ধরার জোড় মেলানোর পর কিন্তু আর কাউকে পড়া ধরেন না। যদি
আবার সংখ্যাটা বেজোড় হয়ে যায়? কিন্তু কেউ জানে না, স্যার কোনদিন কাকে পড়া
ধরবেন। তবে ফুটবলের প্রতি বিশেষ একটা দুর্বলতা তার আছে। এটা ক্লাসের সবাই
জানে। কারণ ফুটবলকে কোনোদিন পড়া ধরেননি তিনি। মনে হয় ফুটবল সেটা বুঝতে
পেরেছে। তাই প্রতিদিনই ফুটবল পড়া শিখে এসেছে বলে বসে থাকে।
আজও আনিস স্যার ক্লাসে ঢুকেই বললেন, যারা পড়া শিখে আসিসনি তারা বেঞ্চের উপর কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
ইদানিং আর গোণাগুণতির ঝামেলায় যান না তিনি। ছাত্ররা বুঝে নিয়েছে একজনকে
আরেকজনের কান ধরেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ওরা এর মধ্যেই নিজেদের জুটি গড়ে
নিয়েছে। কান ধরলেও বেশ আলতো করে ধরে। ভাবটা এমন আমার কানের চেয়েও তোমার
কানের প্রতি আমার দরদ বেশি। দ্যাখো কত আস্তে ধরেছি।
আনিস স্যার ক্লাসে আসার কিছুক্ষণ পরেই জামিল এসে হাজির। দরজার বাইরে থেকে হাঁক দিল, মে আই কামিং স্যার?
আনিস স্যার জবাব দিলেন, ইয়েস স্যার।
জামিল এসে নিজের জায়গায় বসে পড়ল। ওকে বসতে দেখে আনিস স্যার বললেন, তুই বসে পড়লি কেন? পড়া শিখে এসেছিস?
জামিল বলল, জী স্যার।
আনিস স্যার আবার জানতে চাইলেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলি?
জামিল বলল, টয়লেটে স্যার।
আনিস স্যার অবাক হয়ে বললেন, টয়লেটে? টয়লেটে এতক্ষণ কী করেছিস?
জামিল জবাব দিল, বড়টা স্যার।
আনিস স্যার বললেন, বড়টা মানে?
জামিল বলল, মানে স্যার বড় বাথরুম করেছি।
আনিস স্যার এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন বিষয়টা। বুঝতে পেরে বললেন, ছোটটা ছাড়া শুধু বড়টা সারতে পারলি?
আর অমনি হো হো করে হেসে ওঠল কয়েকজন। আনিস স্যার হাসলেন না। জামিলকে বললেন, বেশ পাওয়ার তো তোর?
পিছন থেকে কে যেন হাঁক দিল, স্যার বড়টার সাথে তো ছোটটা ফ্রি।
এবার পুরো ক্লাস হেসে ওঠল। আর না হেসে থাকতে পারেননি আনিস স্যার। হেসে
ফেললেন। হাসতে হাসতে বললেন, বেশ তো রস জানিস তোরা। তা পড়া শিখে আসিস না
কেন? আচ্ছা। আজ বস। কাল থেকে পড়া শিখে আসবি ঠিক মতো। মনে থাকবে?
দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরা এবার একসুরে বলল, থাকবে স্যার।
আনিস স্যার বললেন, মনে না থাকলে কী হবে জানিস তো?
ওরা জানে। এরপর পড়া শিখে না এলে আরো ভয়াবহ শাস্তি। শাস্তিটা হচ্ছে বড়
বেঞ্চির নিচে মাথা ঢুকিয়ে রাখা। বেশ কষ্টকর। ঘাড় ব্যথা হয়ে যায়। হাঁটু টন
টন করে। এই শাস্তি পাওয়ার পর ওদের মনে হয়, এরচেয়ে বেতের বাড়ি খাওয়া অনেক
ভালো। আনিস স্যারও নিশ্চিত, কাল যখন পড়া ধরবেন, তখন সবাই পড়া বলতে পারবে।
কাজেই তিনি আজ আরো কিছু পড়াবেন। সমাজবিজ্ঞান বইটা খুলে নতুন একটা অধ্যায়
শুরু করতে যাবেন, তখনই উঠে দাঁড়াল জামিল। বলল, স্যার আমি একটা কথা বলবো।
আনিস স্যার বললেন, বল।
জামিল বলল, স্যার আমার হাতঘড়িটা চুরি হয়ে গেছে।
২.
বাথরুম সারতে বেশ সময় লেগেছে জামিলের। অনেকক্ষণ ধরে ও বসেছিল। তবে বেশ পাতলা হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি ওর পেটের ভিতর ঝামেলা পাকাবে ঘুঘনিটা বুঝতে পারেনি। খেয়েছে অবশ্য অনেকক্ষণ আগে। আজ বেশ আগে ও স্কুলে এসেছে। স্কুলে আজ একটা ম্যাচ ছিল। ক্রিকেট ম্যাচ। তাই ক্লাস শুরুর দুই ঘণ্টা আগেই
হাজির
হয়েছিল। ওর ক্লাস শুরু হয় বারোটায়। এর আগে মর্নিং শিফট। স্কুলের বিশাল
মাঠ। এবং মাঠে বেশ ঘাস। এই মাঠে ক্রিকেট খেলে মজাও আছে। ভাগ্যিস মাঠটা
স্কুলের এক পাশে। সামনে নয়। সামনে থাকলে তো আর ক্রিকেট খেলা যেত না। আর
সকালে ক্লাস শুরুর আগে না খেললে, খেলার সময় পাওয়া যায় না। ক্লাস শেষ হতে
হতে বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা বেজে যায়। সাড়ে পাঁচটার সময় সন্ধ্যে হয়ে যায়।
তখন আর খেলার সময় থাকে না। তাছাড়া খেলার জন্য ওদের মহল্লায় কোনো খালি
জায়গা নেই। আগে খালি প্লট ছিল। ওই খালি প্লটেই ওরা খেলত। এখন আর কোনো খালি
প্লট নেই। কাজেই স্কুলের মাঠই ভরসা। খেলার নেশায় ওরা কয়েকজন ক্লাস শুরুর অনেক আগেই চলে আসে স্কুলে। খেলা শেষ করে তারপর ক্লাস করে। বড় মাঠে খেলার মজাও অন্যরকম। জোরে বল মারলেও আউট হওয়ার ভয় নেই। প্লটে যখন খেলত, তখন নিয়ম ছিল জোরে বল মারা যাবে না। জোরে বল মারলেই কারো না কারো বাড়িতে গিয়ে বল পড়বে। আর কারো বাড়িতে বল পড়া মানেই হইচই চেঁচামেচি। কাজেই নিয়ম হলো কারো বাড়িতে বল পড়লেই আউট। শুধু বাড়িতে নয়, কারো বাড়ির জানালায় বল লাগলেও আউট। ব্যাটিং করার সময় এতটা নিখুঁত মেরে খেলা যায় না। কার মারা বল কখন কোথায় চলে যায়, কে জানে। আবার বোলিং করার জায়গাও ছিল অল্প। আর এই স্কুলের মাঠে পুরো পিচ বানিয়ে খেলা যায়।
খেলার শেষ দিকেই পেটটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠেছিল জামিলের। তখন পাত্তা দেয়নি। খেলা শেষ করে হাতমুখ ধুয়ে ক্লাসে এসে বসে। আর প্রথম পিরিয়ড থেকেই পেটের ভিতর ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়। দ্বিতীয় পিরিয়ডে বেশ চাপ অনুভব করে। হাফিজ স্যার যদি তখন টয়লেটে যাওয়ার অনুমতি না দিতেন, তাহলে মনে হয় ক্লাসেই কিছু একটা হয়ে যেত। প্যান্ট নষ্ট হতো। তখন কী হতো? বেশ লজ্জায় পড়ে যেতে হতো। এর আগে একবার এমন হয়েছিল। ওদের ক্লাসেই। এবং ওটা ঘটেছিল হাফিজ স্যারের ক্লাসেই।
হাফিজ স্যার সেদিন একটা উপপাদ্য বোঝাচ্ছিলেন। উপপাদ্যের সূত্রটা ছিল, ত্রিভূজের দুই বাহুর সমষ্টি তার তৃতীয় বাহু অপেক্ষা বৃহত্তর।
পিছনের বেঞ্চি থেকে একজন বলল, স্যার সমষ্টি মানে কী?
হাফিজ স্যার বললেন, সমষ্টি মানে হলো যোগফল।
পিছনের বেঞ্চির ছেলেটা আবার বলল, তাহলে স্যার এত কঠিন করে লেখা কেন? আরো সহজ করে সূত্রটা লিখলে ভালো হতো না?
হাফিজ স্যার তখন বললেন, ঠিকই বলেছ। এটা বললেই হতো ত্রিভূজের দুই বাহুর যোগফল তৃতীয় বাহুর চেয়ে বড়। আমার মনে হয় সূত্রটায় খানিকটা সাহিত্য রস ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আবার বলল ছেলেটা, গণিতে সাহিত্য ঢোকানোর চেষ্টা করা কি ঠিক হয়েছে স্যার?
হাফিজ স্যার বললেন, গণিত খুব কাঠখোট্টা টাইপের জিনিস তো তাই কিছুটা সাহিত্যের আবরণ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই বলে ভেবো না কোনো সাহিত্যিক গণিতবিদ হতে পারবে না। দুনিয়াতে এমন সাহিত্যিকও ছিলেন যিনি গণিতেও বেশ দক্ষ ছিলেন। যেমন বাট্ট্রান্ড রাসেল। তোমরা অনেকেই হয়ত তার নাম শুনে থাকবে। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, দার্শনিক, গণিতবিদ। তবে তিনি গণিতবিদ হয়েছিলেন ঠেকায় পড়ে। শুনতে চাও কেমন করে?
শুনতে আবার কে না চায়? বিশেষ করে রাশভারী টিচার হাফিজ স্যার যখন একজন সাহিত্যিকের গণিতবিদ হওয়ার গল্প শোনাতে চান, তখন না শুনে উপায় আছে? ক্লাসের সবাই নড়ে চড়ে বসল। আর একসাথে বলে ওঠল, হ্যাঁ স্যার শুনবো।
হাফিজ স্যার তখন শুরু করলেন বাট্রান্ড রাসেলের গল্প।
বই পড়তে পড়তে বাট্টান্ড রাসেল চোখের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিলেন। প্রায় অন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। ডাক্তারের কাছে গেলেন তিনি। ডাক্তার সোজা জানিয়ে দিলেন, বেশ কিছুদিন বই পড়া যাবে না।
বাট্টান্ড রাসেলের মনে হলো বই পড়া যাবে না, এই কথা শোনার আগে তার মরন হলো না কেন? বই না পড়ে কেমন করে থাকবেন তিনি। কেমন করে সময় কাটাবেন? শেষে সময় কাটানোর একটা উপায় বের করলেন। গণিত নিয়ে চিন্তা শুরু করলেন। যেহেতু গণিতে লেখাজোখার ঝামেলা অনেক কম, কিন্তু চিন্তার খোরাক বেশি- কাজেই চোখদুটো সুস্থ রাখতে হলে গণিতই ভরসা। কাজেই ভাবতে লাগলেন তিনি গণিত নিয়ে। গণিত বিষয়ে তার অনেক গবেষণা আছে। তোমরা অনেকেই তো এখন বই পড়তে চাও না। অথচ দ্যাখো বই পড়তে পড়তে চোখের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এখন তোমরা বই না পড়ে কেবল টিভি দেখে সময় কাটাও।
একজন বলল, তখন টিভি থাকলে বাট্ট্রান্ড রাসেলও টিভি দেখে চোখের বারোটা বাজাতেন।
হাফিজ স্যার রাগ করলেন না। মুচকি হেসে বললেন, হতে পারে। ভাগ্যিস তখন টিভি
আবিস্কৃত হয়নি। হলে হয়ত আমরা বাট্রান্ড রাসেলের মতো দার্শনিক, গণিতবিদ,
সাহিত্যিক পেতাম না। তবে যারা বিখ্যাত হওয়ার তারা এমনিতেই হবেন। টিভি
থাকলেও হবেন, না থাকলেও হবেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন অনেক
আলসে বানিয়ে দিয়েছে, তেমনি অনেক আনন্দও দিয়েছে। আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের
অনেক অবদান। এই অবদানকে আশীর্বাদ হিসেবে আমরা গ্রহণ করবো নাকি অভিশাপ
হিসেবে নেবো সেটা আমাদের ব্যপার। আমার মনে হয় বাট্টান্ড রাসেল আশীর্বাদ
হিসেবেই নিতেন। সে যাই হোক সূত্রটা ছিল ত্রিভূজের তিনবাহুর যোগফল তৃতীয়
বাহুর চেয়ে বড়। কে কে বুঝতে পারোনি বলো। দাঁড়িয়ে বলো।ঠিক তখনই দাঁড়িয়ে ছিল সেই ছেলেটি। হাফিজ স্যার বললেন, তুমি বুঝতে পারোনি?
ছেলেটি বলেছিল, স্যার আমি একটু টয়লেটে যাবো।
স্যার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, একটু পরে যাও। সূত্রটা বুঝতে পেরেছ তো?
ছেলেটি বলেছিল, স্যার আমার খুব জরুরি দরকার।
হাফিজ স্যার বলেছিলেন, আর তিনমিনিট পরেই ঘণ্টা পড়বে তখন যেও। সূত্রটার কোথায় বুঝতে পারোনি বলো।
ছেলেটি বলল, বুঝেছি স্যার। তাহলে বসবো?
হাফিজ স্যার বললেন, বসো।
বসো বলার সাথে সাথে বসে পড়েছিল ছেলেটি। আর বসার কিছুক্ষণ পরেই বিশ্রি একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল পুরো ক্লাসে।
ক্লাসের সবাই ইতি উতি তাকাতে লাগল। গন্ধটা কোথা থেকে আসছে বুঝতে পারছে না কেউ। হাফিজ স্যারের নাকেও গন্ধটা গেল। তিনি বললেন, বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারছি না। টয়লেটে যেরকম গন্ধ পাওয়া যায়, এই ক্লাসেও হঠাৎ করে তেমন গন্ধ আসছে।
কেউ একজন আবার সঠিক কথাটা জানালো, গন্ধ নয় স্যার, দুর্গন্ধ!
হাফিজ স্যার বললেন, ঠিক ধরেছিস। দুর্গন্ধ। কিন্তু দুর্গন্ধের উৎস কোথায়? আশপাশে তো টয়লেট নেই। টয়লেটের দুর্গন্ধ এত দূরে আসার কথা নয়। ক্লাসের আশপাশে কেউ বাজে কাজ করে রাখেনি তো?
করে রাখার কোনো সম্ভাবনা নেই। যদিও ক্লাসের পূর্ব দিকে খালি জায়গা আছে। আর কিছুটা খালি জায়গার পর স্কুলের সীমানা দেয়াল। সীমানা দেয়াল বেশ উঁচু। কেবল উঁচুই নয়। উপরে কাঁটাতারের বেড়াও দেয়া আছে। কাজেই বাইরে থেকে কেউ দেয়াল ডিঙিয়ে বাজে কাজটি করতে পারবে না। আগে প্রায়ই এমন হতো। আগে স্কুলের সীমানা দেয়াল ছিল নিচু। সহজেই আজে বাজে লোকজন স্কুলের ভিতর ঢুকে পড়তে পারতো। কেবল বাইরের লোকজনই নয়, স্কুলের অনেক ছাত্রও দেয়াল ডিঙিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিত। যে ক্লাসের পড়া শেখা থাকত না, সে ক্লাসের ঠিক আগে দেয়াল ডিঙিয়ে চলে যেত বাইরে। তারপর ক্লাস শেষের ঘণ্টা বাজলে আবার দেয়াল ডিঙিয়ে চলে আসত ক্লাসে। স্কুলের মূল দরজা দিয়ে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। গেটে দারোয়ান থাকে তিনজন। আর ক্লাস শুরুর পর কোনো ছাত্র স্কুলে থেকে বেরুতে পারে না। ক্লাস পালানোর ঘটনা ধরা পড়ল কয়েকটা। তারপরই স্কুলের সীমানা দেয়াল উঁচু করে দেয়া হলো। তবু কেমন করে যেন বাইরে চলে যেত ডানপিটে কিছু ছাত্র। ওদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছিল না কোনোভাবেই। শেষে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হলো উঁচু সীমানা দেয়ালের উপর। এখন আর কেউ দেয়াল ডিঙিয়ে বাইরে বেরুতে পারে না।
ক্লাসরুম আর সীমানা দেয়ালের মাঝের খালি জায়গাটায় ভালো মতো চোখ বোলালেন হাফিজ স্যার। নাহ্! কোনো বাজে জিনিস চোখে পড়ছে না। তাহলে?
তখনই কে যেন আবিস্কার করল বিষয়টা। চিৎকার করে জানিয়ে দিল, স্যার ক্লাসেই একজন হাগু করে দিয়েছে।
সেই থেকে সেই ছেলেটির নাম হয়ে গেছে হাগু মিয়া।
হাগু মিয়া এরপর আর বেশিদিন এই স্কুলে পড়েনি। ওর নামটা এত বেশি চাউর হয়ে গিয়েছিল যে, সবাই ওর আসল নামটাই ভুলে গিয়েছিল। এমনকি টিচাররা পর্যন্ত ওকে হাগু মিয়া বলে ডাকতেন। এখন কোথায় আছে কে জানে? হয়ত দূরের কোনো স্কুলে, যেখানে ওকে কেউ হাগু মিয়া নামে ডাকে না।
ভাগ্যিস হাফিজ স্যার হাগু মিয়ার ঘটনা মনে রেখেছিলেন। আর মনে রেখেছিলেন বলেই জামিল টয়লেটে যেতে চাওয়ার সাথে সাথে অনুমতি দিয়ে দিলেন। নয়ত আবার ক্লাসটাকেই দুর্গন্ধ বানিয়ে ফেলবে। হাফিজ স্যারের মনে আছে, ওই রুমে ছাত্ররা কয়েকদিন ক্লাসই করতে চায়নি। ক্লাস থেকে নাকি কেবল হাগু মিয়ার হাগুর গন্ধ আসতো। হাফিজ স্যার বলতেন, ওটা হচ্ছে তোমাদের মনের ভুল। তোমাদের মস্তিষ্কের কোষে ওই গন্ধটা কিছুদিন স্থায়ী হয়েছিল। তাই গন্ধ না থাকার পরও গন্ধ অনুভব করতে তোমরা।
এই সমস্যার জন্য ক্লাসরুমই বদলে দেয়া হয়েছিল। ওদের পাশের ক্লাসের ছেলেদের এনে বসানো হয়েছিল ওদের ক্লাসে আর ওরা ক্লাস করত পাশের ক্লাসে। ওদের পাশের ক্লাসের ছেলেরা ওদের রুমে ক্লাস করতে এসে কিন্তু কোনো দুর্গন্ধ পেত না। আর এতেই ওরা প্রমাণ পেয়ে গেল, হাফিজ স্যারের কথাই ঠিক।
যদি ঘটনাটা আবার ঘটত তাহলে দ্বিতীয় হাগু মিয়া হতো জামিল। অনেক শোকার খোদার কাছে, জামিলকে নতুন হাগু মিয়া হতে হয়নি।
হাফিজ স্যারের কাছ থেকে ছুটি পেয়েই কোনো মতে হাত ঘড়ি খুলে, পকেটে যা যা ছিল সব টেবিলের ওপর রেখে সোজা টয়লেটে চলে এল জামিল। একটা বাথরুম খোলা পেয়েই ঢুকে পড়ল ওটায়। বাথরুমের প্যানের দিকে তাকাল না। ও জানে এসব প্যান বেশ নোংরা থাকে। অনেক ছেলেরা প্যান নোংরা করে রাখে।
ওর তখন ভয়ানক চাপ। মনে হয় এটাই সত্যিকারের নিম্নচাপ। মহাবিপদ সংকেত। ঝড়ের বেগে ভীষণ শব্দ করে বাথরুম সারল ও। বুঝতে পারল ওর পেটের অবস্থা বেশ শোচনীয়। ঘুঘনির মজা বেরুচ্ছে। বাথরুম হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পেটও কামড়াচ্ছে।
বাথরুম সারতে বেশ সময় লাগল ওর। বাথরুম সেরে জরুরি কাজটা সারতে যাবে, তখনই দেখল কলে পানি নেই। মানুষের জীবনে এরচেয়ে শোচনীয় অবস্থা আর কী হতে পারে? ও কাউকে বলতেও পারছে না, আবার কিছু করারও নেই। কাজেই চুপচাপ গায়ের শার্টটা টেনে নাকে চেপে ধরে বসে রইল। বেশ অনেকক্ষণ পর পানি এল কলে। আর কলে পানি আসতেই জরুরি কাজ সেরে মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে এল ক্লাসে। ও টয়লেটে গিয়েছিল হাফিজ স্যারের ক্লাসের সময় আর বাথরুম শেষ করে এসে দেখল আনিস স্যারের ক্লাসে। গণিত ক্লাস থেকে সমাজ বিজ্ঞান ক্লাস। তবে গণিত ক্লাসে হাফিজ স্যার কী বুঝিয়েছেন, কিছুই বলতে পারবে না। ওই সময় কী গণিত মাথায় ঢোকে?
তারপর ক্লাসে এসেই দেখতে পেল ওর হাতঘড়ি বাদে সবজিনিসই ঠিক মতো আছে। তাহলে হাতঘড়ি কোথায় গেল? নিজের ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজল জামিল। নেই। টয়লেটে যাওয়ার সময় সবকিছু খুলে রেখে না গেলে যদি টয়লেটে পড়ে যেত? বলা তো যায় না, কখন কী স্লিপ করে চলে যায় প্যানের ভিতর।
কিন্তু ওর হাতঘড়ি কে নেবে? ওর ডানপাশে বসা তারেককে জিজ্ঞেস করলো। তারেক জানে না। বা পাশে বসা শফিককে জিজ্ঞেস করল। শফিক তো তখন কান ধরে দাঁড়িয়ে ছিল বেঞ্চির ওপর। কাজেই ওরও জানার কথা নয়। এরপর শফিকের পাশে বসা জগলুলের কাছেও ঘড়ির কথা জানতে চাইল জামিল। জগলুলও কিছু বলতে পারল না। তাহলে কোথায় গেল? বেঞ্চির নিচে পড়ে যায়নি তো আবার? বেঞ্চির নিচেও খুঁজল- নেই। নেই, নেই, নেই। নেই যখন তখন কেউ না কেউ নিশ্চয়ই নিয়েছে। আর যে নিয়েছে সে ওদের ক্লাসেরই কেউ হবে। হাফিজ স্যার যখন ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তখন কোনো এক ফাঁকে অন্য বেঞ্চি থেকে কেউ এসে সরিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু কে সরাবে? কাকে সন্দেহ করবে? যদিও ওর কাউকেই সন্দেহ হয় না। আবার সবার দিকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। শেষে আর থাকতে না পেরে দাঁড়িয়ে জানিয়েই দিল আনিস স্যারকে, স্যার আমার হাতঘড়িটা চুরি হয়ে গেছে।
৩.
আনিস স্যার অবাক হয়ে বললেন, তোদের ক্লাসে দেখছি চোর ঢুকে পড়েছে। কী করা যায় বল তো? আচ্ছা তুই বস। দেখি কী করা যায়।জামিলের চেহারা বেশ কাঁদো কাঁদো। মনে হয় কেঁদেই ফেলবে। ওর চোখদুটো প্রায় ভিজে এসেছে। ঘড়িটা ওর ছোটমামা কিনে দিয়েছেন। ছোটমামা থাকেন সুইডেন। গতবছর দেশে আসার সময় সবার জন্য একটা করে ঘড়ি নিয়ে এসেছেন। জামিলের ছোটবেলা থেকেই ঘড়ি পরার সখ। কিন্তু ওদের বাসার কেউ ওর এই সখটাকে পাত্তা দেয়নি। ছোটমামা ওদের জন্য ঘড়ি এনেছেন শুনে খুব খুশি হয়েছিল ও। চমৎকার ঘড়ি। প্লাস্টিকের বেল্ট। গোল ডায়াল। প্রত্যেকটা ঘণ্টার ঘরে নম্বর লেখা। রাতে সময় দেখা যায়। ঘণ্টার অক্ষরগুলো রেডিয়ামের। প্রায় সময় ঘড়ি পরে থাকে জামিল। কেবল গোসল আর বাথরুম করার সময় ঘড়ি খুলে রেখে যায়। ছোটমামা যদিও বলেছিলেন পানি নিরোধক ঘড়ি। তবু ও ঘড়িতে পানি লাগায় না। বৃষ্টি হলে ও ঘড়ি খুলে পকেটে রেখে দেয় যাতে বৃষ্টির পানিও না লাগে। যতটা সম্ভব ঘড়ির যত্ন করে ও। আর এজন্যই ওর ঘড়িটা এখন পর্যন্ত আর সবার ঘড়ির চেয়ে অনেক নতুন দেখায়। সখের ঘড়ি চুরি হলে কার না মন খারাপ হয়?
আনিস স্যার বেশ জোরে চেঁচিয়ে বললেন, যে ঘড়িটা নিয়েছিস দিয়ে দে।
যে ঘড়িটা নিয়েছে, এভাবে বললে কি আর ঘড়ি ফেরত দেবে? দেবে না। এটা আনিস স্যার যেমন জানেন, জামিলও জানে। স্যার বললেন, আমি সবার ব্যাগ চেক করবো। সবাই ব্যাগ নিয়ে আমার সাথে আয়।
স্যার সবাইকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেলেন টিচারস কমন রুমে। ঢাঁই করে রাখা হলো
সবার ব্যাগ। একটা একটা করে ব্যাগ চেক করতে হবে। এবং এটা অন্য কাউকে দিয়ে
করানো যাবে না। করতে হবে তাকে নিজে। ওই দিনের হাজিরা খাতা নিয়ে দেখলেন,
ক্লাসে উপসি'ত ছেচল্লিশজন ছাত্র। চারজন আসেনি।সবার ব্যাগ জমা রেখে স্যার এবার সবাইকে ক্লাসে গিয়ে বসতে বললেন। সবাই ক্লাসে গিয়ে বসল। তারপর সবাইকে চুপচাপ বসে থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে গেলেন টিচারস কমন রুমে। সবার ব্যাগ তল্লাশি করবেন।
জামিলদের ক্লাস ক্যাপটেন সাইফুল হক। বেশ চটপটে ছেলে। সাইফুল হক বসে দ্বিতীয় বেঞ্চিতে। তার মানে খুব একটা লম্বু নয়। আবার সবচেয়ে কম লম্বুর দলেও নয়। স্যার চলে যেতেই সাইফুল হক বলল, কেবল একটা ছেলের জন্য আজ আমাদের ক্লাসের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়বে। এ দুর্নাম কি সহজে যাবে? যে ঘড়ি নিয়েছ দিয়ে দাও। এখনও সময় আছে।
ওদের সেকেন্ড ক্যাপটেন রফিকুল। ও বসে একেবারে শেষ বেঞ্চিতে। রফিকুল বলল, আমি গোয়েন্দাগিরি করবো নাকি?
সাইফুল বলল, একটা সামান্য ঘড়ির জন্য গোয়েন্দাগিরি? ওটা ব্যাগ ঘাঁটলেই পাওয়া যাবে। যে চুরি করেছে সে তার ব্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছে।
তারপর জামিলের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার ঘড়িটা দেখলে তুমি চিনতে পারবে?
জামিল বলল, মনে হয় চিনবো। যদিও খুব সাধারণ ঘড়ি। এমন ঘড়ি এ ক্লাসের আরো তিনজনকে পরতে দেখেছি আমি।
হঠাৎ আবার পেট কামড় দিয়ে ওঠল ওর। ক্লাস ক্যাপটেনকে বলল, আমি একটু টয়লেটে যাবো।
সাইফুল বলল, একটু আগেই না টয়লেট থেকে এলে। আবার?
জামিল মুখ কুঁচকে বলল, আবার।
বলেই আর দেরি করল না। চলে গেল বাথরুমে। এই মুহূর্তে ঘড়ির চেয়েও টয়লেটে যাওয়া জরুরি। আর টয়লেটে গিয়েই বুঝতে পারল ওর পেট খারাপ হয়েছে। এর আগের বার যখন টয়লেটে গিয়েছিল, তখনও পেট খারাপের মতো অবস্থাই ছিল। ভেবেছিল প্রথমবার এমন হয়েছে, আর হয়ত না-ও হতে পারে। কিন্তু ওর ধারনা ভুল করে দিয়ে পেটটা খারাপই হয়ে গেল।
এবার আর পানির কষ্ট হল না। কলে পানি ছিল। কাজেই খুব একটা সময় লাগল না বাথরুম সারতে। বাথরুম সেরে আবার চলে এল ক্লাসে।
ক্লাসে ঢুকেই তৃতীয় পিরিয়ডের ঘণ্টা শুনতে পেল। চতুর্থ পিরিয়ডে বিজ্ঞান ক্লাস। বিজ্ঞান টিচার সামসুল স্যার। বেশ হাসিখুশি ধরনের টিচার। হাসতে হাসতে বিজ্ঞান শেখান। তার মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে। এমনকি যখন কাউকে কড়া কথা বলেন, তখনও তার মুখে হাসি লেগে থাকে। এর কারণ ক্লাসের অনেকেই জানে না। জানে কেবল একজন। মইনুল। ও বসে একেবারে প্রথম বেঞ্চে। তার মানে সবচেয়ে কম লম্বুদের একজন ও। কোনো লাইনেও সবার আগে থাকতে হয় ওকে। কারণ ওই একটাই। ক্লাসের সবচেয়ে কম লম্বু ও। মইনুল একদিন জামিলকে বলেছিল, আমাদের সামসুল স্যারের মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে কেন জানিস?
জামিল বলেছিল, জানবো না কেন? স্যার বেশ হাশিখুশি তাই।
মইনুল বলেছিল, উহু। কারণ অন্য জায়গায়। তোরা কেউ ধরতে পারিসনি। আমি বুঝেছি।
জামিল অবাক হয়ে বলেছিল, কারণটা কী শুনি!
মইনুল বলেছিল, এখন বলবো না। তুই চিন্তা করে দ্যাখ। দেখি তোরা কেউ বের করতে পারিস কি না। সাতদিনের সময় দিলাম।
সাতদিন সামসুল স্যারকে নিয়ে অনেক ভেবেছে ওরা। স্যারের মুখভঙ্গী গভীর
মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে। স্যার কেমন করে কথা বলেন, কেমন করে হাসেন,
কেমন করে অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন। তবু বের করতে পারেনি।
সাতদিন পর মইনুল বলেছিল, জানি তোরা কেউ পারবি না।
জামিল বলেছিল, তাহলে তুই-ই বলে দে।
মইনুল বলেছিল, খেয়াল করে দেখেছিস স্যারের উপরের পাটির দাঁত নিচের পাটির চেয়ে খানিকটা উঁচু।
জামিলের মনে পড়ল, সত্যিই তাই। কিন' দাঁতের পাটির উঁচুনিচুর সাথে হাসিখুশির
সম্পর্ক কোথায়- বুঝতে পারল না। জামিল বলেছিল, তাতে কী। এটা অনেকেরই থাকে।
ওই যে আমাদের ক্লাসের নবেল। ওরও তো স্যারের মতো দাঁত। ওকে তো হাসিখুশি
দেখায় না।
মইনুল বলেছিল, একটা পার্থক্য আছে। স্যারের উপরের পাটির চারটে দাঁত সবসময় বের হয়ে থাকে।
জামিলের তখন মনে পড়ল, আসলেই তো তাই!
মইনুল বলল, ওই চারটে দাঁত সবসময় বের হয়ে থাকে বলেই স্যারকে সবসময় হাসিখুশি দেখায়। মনে হয় সবসময় হাসেন।
জামিলের থেকে কথাটা এরপর এর ওর কান থেকে গড়াতে গড়াতে একসময় স্যারের কানে
গিয়েও পৌঁছল। স্যার কিন্তু এ কথা শুনে একটুও রাগ করেননি। বরং মইনুলকে ডেকে
মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, খুব গোয়েন্দা গল্প পড়িস?
মইনুল অবাক হয়ে বলল, স্যার আপনি কেমন করে জানলেন?
স্যার বললেন, এটাও বিজ্ঞান।
মইনুল আরো অবাক হয়ে বলল, এখানে আবার বিজ্ঞান এল কেমন করে?
সামসুল স্যার বললেন, কৌতূহলী না হলে বিজ্ঞানী হওয়া যায় না। বিজ্ঞানী হওয়ার
প্রধান শর্ত হচ্ছে কৌতূহলী হওয়া। সাধারণ মানুষের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি
কৌতূহলী হতে হয় বিজ্ঞানীদের। তুই বেশ কৌতূহলী। গোয়েন্দা গল্প পাঠককে অনেক
কৌতূহলী করে তোলে। তাই বলছিলাম তুই খুব গোয়েন্দা গল্প পড়িস। কার গোয়েন্দা
গল্প বেশি ভালো লাগে তোর?
মইনুল বলল, শার্লক হোমস।
স্যার মুচকি হেসে বললেন, তা তো বুঝলাম। কিন্তু শার্লক হোমস তো আর তার
নিজের গল্প নিজেই লেখেননি। তার গল্পই একজন লেখক লিখেছেন। আমি লেখকের নাম
জানতে চাইছি। জানিস?
মইনুল বলল, জানি স্যার। আর্থার কোনান ডয়েল।
স্যার মইনুলের পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ভেরি গুড। কিন্তু আর্থার কোনান ডয়েলের
শার্লক হোমস চরিত্র তৈরির পেছনে অন্য একজন লেখকের এক গোয়েন্দা চরিত্রের
নাকি ভূমিকা ছিল। জানিস কে সে?
মইনুল বলেছিল, না স্যার।
স্যার বলেছিলেন, দু পোঁ। দু পোঁ এক গোয়েন্দা চরিত্রের নাম। লেখক হচ্ছেন অ্যাডগার এলান পো।
তারপর অ্যাডগার এলান পো-এর লেখা বই পড়েছিল মইনুল। কিন্তু ভালো লাগেনি। কেন
লাগেনি সেটাও বুঝতে পেরেছিল। আসলে আর্থার কোনান ডয়েল তার গোয়েন্দা চরিত্র
শার্লক হোমসকে যতখানি রহস্যময় করে পাঠকের সামনে হাজির করেছিলেন, অ্যাডগার
এলান পো সেটা পারেননি। আর এজন্যই দুনিয়ার মানুষ দু'পা-এর চেয়ে শার্লক
হোমসকেই বেশি চেনে।
ঘণ্টা পড়ার পর বেশি সময় নেন না সামসুল স্যার। প্রায় সাথে সাথেই ক্লাসে চলে
আসেন। আজ তিনি ক্লাসে এলেন মুখ ভার করে। এমন একটা হাসিখুশি মানুষের মুখ
এমন ভার হয়ে থাকতে পারে, না দেখলে বোঝার উপায় নেই। স্যার ক্লাসে ঢুকেই
বললেন, আজ আমার মনটা খুব খারাপ। তোদের মধ্যে চোর বাস করে জানতাম না। পুরো
স্কুল জেনে গিয়েছে এই ক্লাস থেকে একটা ঘড়ি চুরি হয়েছে। টিচারস রুমে সব
টিচাররা এটা নিয়ে আলাপ করছেন। প্রধান শিক্ষক সাহেব আমাদের বলেছেন আপনার
ছাত্রদের কী শিক্ষা দেন? এই লজ্জা আমাদের টিচারদেরও। কেন যে তোরা এমন করিস?
তখনই আবার পেট কামড়ানো শুরু হলো জামিলের। এখনই আবার টয়লেটে না গেলেই নয়। দাঁড়িয়ে বলল, স্যার একটু টয়লেটে যাবো।
সামসুল স্যার বললেন, যা।
স্যারের অনুমতি পেয়েই টয়লেটে ছুটল জামিল। টয়লেটে যেতে যেতে মনে মনে ঠিক
করে ফেলল ও, আর কখনো ঘুঘনি খাবে না। এবং ঘুঘনি সত্যিই একটা বাজে খাবার।
বাথরুম থেকে ফিরে আবার নিজের জায়গায় বসতে বসতেই খবর এল সবার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে, কিন্তু কারো ব্যাগেই হাত ঘড়ি পাওয়া যায়নি।
৪.
টিফিন পিরিয়ডের আগেই স্কুলের সবাই জেনে গিয়েছে ক্লাস এইটের ক গ্রুপের একটা ছেলের হাতঘড়ি চুরি হয়েছে। কয়েকজন স্যার মিলে ওই ক্লাসের সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছেন। কিন্তু বৃথা। কোনো ব্যাগেই হাতঘড়ি নেই। এবার সব ছাত্রদের পকেট তল্লাশি করা হবে। এবং এই তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ টিফিনে বাসায় যেতে পারবে না বলে প্রধান শিক্ষক নির্দেশ দিয়েছেন।ঘড়িটা এখনও স্কুলের ভিতরেই কোথাও আছে। কিন্তু কোথায় আছে?
একটু পর ওদের ক্লাস টিচার আনিসুল স্যার, গণিত টিচার হাফিজ স্যার, সমাজবিজ্ঞান টিচার আনিস স্যার আর ওদের হেডস্যার দল বেঁধে এলেন ওদের ক্লাসে। হেড স্যার ক্লাসে ঢুকতেই সবাই উঠে দাঁড়াল। হেড স্যারের মুখও থমথমে।
হেড স্যার বললেন, বসো সবাই।
সবাই বসল। স্যার ক্লাসের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত প্রত্যেকের দিকে তাকালেন। হঠাৎ স্যারের চোখ চলে গেল জানালার দিকে। প্রত্যেক ক্লাসের দুই দিকে জানালা আছে। পশ্চিম দিকে আর পূর্ব দিকে। পশ্চিম দিকের জানালার ওপাশে করিডর। আর পূর্ব দিকের জানালার ওপাশে কিছুটা খালি জায়গা। খালি জায়গার পর স্কুলের সীমানা দেয়াল। হেড স্যার পূর্ব পাশের জানালার দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, ওই জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়নি তো কেউ আবার?
তখনই স্যাররা ছুটলেন পূর্ব পাশের জানালার দিকে। ইতি উতি খুঁজলেন। নেই।
হেড স্যার এবার পিয়ন হায়দারকে ডেকে বললেন, হায়দার! ওপাশে গিয়ে দ্যাখতো ঘড়িটা কোথাও পড়ে আছে কি না?
জানালা দিয়ে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। গ্রিল দেয়া জানালা। পূর্ব দিকের
জানালার ওপাশে যাওয়ার একটা রাস্তা আছে। ওখানে যে কেউ যেতে পারে না। ওই
পথটা আটকানো। একটা লোহার গেট আছে। ওই গেটে তালা মারা থাকে। হায়দার চাবি
দিয়ে তালা খুলে গেট খুলল। তারপর ওপাশে গেল। এবং পুরো খালি জায়গাটা তন্ন
তন্ন করে খুঁজল। নেই।নেই শুনেই হেডস্যারের কপাল কুঁচকে গেল। তিনি আবার জানতে চাইলেন, ভালো মতো খুঁজে দেখেছিস তো?
হায়দার বলল, জী স্যার।
হেড স্যার বললেন, গাছের মরা পাতা পড়ে আছে। পাতা সরিয়ে দেখেছিস? কোনো পাতার নিচে আড়াল হয়ে থাকতে পারে। আবার খুঁজে দ্যাখ।
হায়দার আবার খুঁজতে গেল। এবং বেশ কিছুক্ষণ পরে এসে জানাল, নেই।
হেড স্যার বললেন, আশ্চর্য! ঘড়িটা উধাও? তাহলে নিশ্চয়ই পকেটে রয়েছে। সবার পকেট তল্লাশি করা হবে। কার ঘড়ি হারিয়েছে দাড়াও।
জামিল দাঁড়াল। হেড স্যার বললেন, ঘড়ি তো তোমার হাতে থাকার কথা। হাত থেকে খুলেছিলে কেন?
জামিল বলল, স্যার টয়লেটে গিয়েছিলাম।
হেড স্যার বললেন, টয়লেটে যেতে হলে ঘড়ি খুলে যেতে হয় নাকি?
জামিল বলল, আসলে স্যার আমার বড় টয়লেট পেয়েছিল। তাই ঘড়ি খুলে রেখে গিয়েছিলাম।
ঠিক তখনই আবার শুরু হলো পেট কামড়ানো। সাথে ভীষণ নিম্নচাপ। নিম্নচাপের কারণে গুঁজো হয়ে গেল জামিল। হেড স্যার বললেন, কী হয়েছে তোমার?
জামিল বলল, স্যার পেটে গণ্ডগোল। টয়লেটে যাবো স্যার?
হেড স্যার বললেন, যাও।
জামিল বেরিয়ে সোজা টয়লেটে গেল।
হেড স্যার এবার ক্লাস টিচার আনিসুল স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন, আর কী করা। সবাইকে তল্লাশি করা ছাড়া তো কোনো উপায় দেখছি না। ভেবেছিলাম ওটা করতে হবে না। কিন্তু এখন দেখছি করতেই হচ্ছে। খুব অপমানজনক কাজ।
ব্যস শুরু হয়ে গেল তল্লাশি।
জামিল বাথরুম থেকে ফিরে আসতে আসতেই তল্লাশি শেষ। পাওয়া গেল না কারো কাছে।
হেড স্যার খুব চিন্তিত। কপাল কুঁচকে বললেন, আমি বুঝতে পারছি না ঘড়িটা তাহলে কোথায় যেতে পারে। যে নিয়েছে সে ওটা গিলে ফেলেনি তো আবার!
ঠিক তখনই উঠে দাঁড়াল মইনুল। বলল, স্যার ঘড়িটা এই রুমেই আছে।
আনিসুল স্যার বললেন, আছে তো বের করে দে। কোথায় আছে? এতক্ষণ বলিসনি কেন?
মইনুল বলল, আছে মানে স্যার খুঁজে বের করতে হবে।
এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন সামসুল স্যার। এবার মুখ খুললেন, আমার মনে হয় ও বের করতে পারবে।
তারপর মইনুলের দিকে তাকিয়ে বললেন, বের করতে পারবি না?
মইনুল মাথা নেড়ে জানাল, পারবো স্যার।
সামসুল স্যার বললেন, ও সখের গোয়েন্দাগিরিও করে। প্রচুর গোয়েন্দা বিষয়ক বই পড়ে। আমার বিশ্বাস ও বের করতে পারবে।
হেড স্যার বললেন, ভালোই হলো। কখনো কোনো গোয়েন্দাকে হাতে কলমে কাজ করতে দেখিনি। আজ দেখবো। দেখি তুমি বের করতে পারো কি না।
মইনুল বলল, স্যার আমি কি সামনে আসবো?
হেড স্যার বললেন, তোমার যা করার ইচ্ছে করতে পারো।
মইনুল বেঞ্চি থেকে উঠে এল সামনে। টিচাররা যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে এসে
দাঁড়াল। তারপর বলল, স্যার যাদের হাতে ঘড়ি আছে তাদের একদিকে যেতে বলুন।
সামসুল স্যার বললেন, যাদের হাতে ঘড়ি আছে তারা এই পশ্চিম দিকে চলে আয়। আর যারা ঘড়ি পরিস না তারা চলে যা ওই দিকে।
বলেই পূর্ব পাশটা দেখিয়ে দিলেন।
কিছুক্ষণ পর দেখা গেল পশ্চিমপাশে চৌদ্দজন এসে দাঁড়িয়েছে। তার মানে আজ দৌদ্দজনের হাতে ঘড়ি আছে।
মইনুল এবার একজনের সামনে গিয়ে বলল, তোমার ঘড়িটা খোলো।
ছেলেটা ঘড়ি খুলল। বাম হাতে ঘড়ি পরেছিল ছেলেটা। মইনুল ওর কব্জি পরীক্ষা করে বলল, এবার ওপাশে যাও।
এভাবে ছয়জনের কব্জি পরীক্ষা করে দেখল। সপ্তমছেলেটির কব্জি পরীক্ষা করে বলল, কতদিন ধরে ঘড়ি পরো?
ছেলেটি খুব একটা লম্বা নয়। মনে হয় পঞ্চম বেঞ্চিতে বসে। বেশ চুপচাপ ধরনের।
ক্লাসে কথাও বলে কম। সবার সাথে তেমন একটা মেশেও না। এ বছরই এ স্কুলে ভর্তি
হয়েছে।
মইনুলের প্রশ্নের জবাবে বলল, অনেকদিন। একবছর তো হবেই।
মইনুল আবার প্রশ্ন করল, এ ঘড়িটা কতদিন হয় কিনেছ?
ছেলেটা মইনুলের এ প্রশ্ন শুনে ঢোক গিলল। তারপর কোনো রকমে বলল, পাঁচ-ছয়মাস।
আর কোনো প্রশ্ন করল না ছেলেটাকে। বাকি সবার ঘড়ি আর কব্জি পরীক্ষা করল।
সবার কব্জি আর ঘড়ি পরীক্ষা করা শেষ করে ওই ছেলেটির ঘড়িটা নিজের হাতে নিলে।
ঘড়িটা উঁচু করে জামিলকে দেখিয়ে বলল, এটাই কি তোমার ঘড়ি?
বলেই ঘড়িটা নিয়ে গেল জামিলের কাছে। জামিল ভালো মতো লক্ষ্য করে দেখল। উল্টে
পাল্টে দেখল। বিশেষ করে ঘড়ির পিছনের দিকে একটা দাগ আছে। ওই দাগটা ও ইচ্ছে
করেই দিয়েছিল। ও যখন দেখল এই ক্লাসে ওর মতো আরো দুজন একই রকম ঘড়ি পরে,
তখনই কী মনে করে দাগটা দিয়ে রেখেছিল ও। এবং এই ঘড়িতে ওই দাগটা আছে। ভালো
মতো দেখে টেখে বলল, হ্যাঁ। এটাই আমার ঘড়ি।
৫.
পুরো ক্লাস অবাক হয়ে ঘড়ি উদ্ধার দেখল। ওদের হেড স্যারও দেখলেন। আনিসুল
স্যার, হাফিজ স্যার, আনিস স্যার আর সামসুল স্যারও দেখলেন। সামসুল স্যারের
মুখে অবশ্য মিটি মিটি হাসি। তার ধারনা ভুল হয়নি। ঠিকই ঘড়িটা উদ্ধার করে
দিয়েছে মইনুল। কিন্তু কেমন করে?
হেড স্যারই প্রথমে প্রশ্নটা করলেন, তুমি কেমন করে বুঝলে ওটা ওর ঘড়ি নয়?
মইনুল ওই ছেলেটাকে দেখিয়ে বলল, তার আগে স্যার ওকে একটা প্রশ্ন করি?
ছেলেটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। মইনুল ওর কাছে গিয়ে বলল, তোমার ঘড়িটা কোথায়?
ছেলেটা ক্ষীণ কণ্ঠে জবাব দিল, বাসায়। ভুলে আজ রেখে এসেছি।
তারপর হঠাৎ ও ছুটে এসে হেড স্যারের পা জড়িয়ে ধরে বলল, স্যার আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর কখনো এমন কাজ করবো না।
কথাটা কয়েকবার বলল ও। এবং হেড স্যারের পা অমন করেই জড়িয়ে ধরে রইল।
হেড স্যার এবার অন্য স্যারদের দিকে তাকিয়ে বললেন, কী করবো?
সামসুল স্যার বললেন, ক্ষমা করে দিন স্যার। আর এমন ভুল না করলেই হলো।
হেড স্যার বললেন, ঠিক আছে। যাও নিজের জায়গায় গিয়ে বসো।
তারপর ক্লাসের সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, সবাই এবার যার যার জায়গায় বসো।
ক্লাসের সবাই যার যার জায়গায় গিয়ে বসল। মইনুলও নিজের জায়গায় বসতে গেল।
অমনি হেড স্যার বললেন, এই ছেলে, তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমাদের এতগুলো চোখের
সামনে এমন ভেল্কিবাজি দেখালে, কিন্তু কিছুই তো বুঝতে পারলাম না। বুঝিয়ে
দিয়ে যাবে না?
মইনুল আবার ফিরে এল। তারপর বুঝিয়ে বলল, যে হাতে আমরা ঘড়ি পরি, সে হাতের কব্জিতে ঘড়ির একটা ছাপ পড়ে যায়।
হেড স্যার বললেন, হুঁ। খুব সাধারণ কথা। এই সাধারণ বিষয়টাকেই অসাধারন করে তুললে কেমন করে সেটাই বলো।
মইনুল আবার বলল, আমরা যে ঘড়ি পরবো, ঠিক সে ঘড়িটার ছাপই তো হাতের কব্জিতে থাকবে।
হেড স্যার বললেন, অবশ্যই। অন্য ঘড়ির ছাপ তো পড়ার কথা নয়।
মইনুল বলল, ওর হাতে অন্য রকম একটা ঘড়ির ছাপ ছিল। যে ঘড়িটা ও পরে ছিল, ওই
ঘড়ির ছাপ ওটা ছিল না। তার মানে ও যে ঘড়িটা পরেছিল, সেটা ওর ঘড়ি নয়।
হেড স্যারের কপাল এতক্ষণ কুঁচকে ছিল। এবার আর কপাল কুঁচকানো নেই। তিনি
মইনুলের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন, সাবাস গোয়েন্দা। এই সাধারণ বিষয়টা আমরা কেন
বুঝতে পারিনি?
হেড স্যার বললেন, তাহলে তো দেখছি প্রত্যেক ক্লাসে একজন করে গোয়েন্দা থাকা
দরকার। যদি ক্লাসে ক্লাসে না থাকে, তাহলে প্রত্যেক স্কুলে একজন তো থাকা
অবশ্যই দরকার। ঠিক আছে। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থেকো।
বলে মইনুলের সাথে করমর্দন করলেন। তাতেই মইনুলের বুক ফুলে বুকের ছাতি হয়ে গেছে ইয়া বড়।
তারপর জামিলের দিকে তাকিয়ে হেড স্যার বললেন, ঘড়ি তো পেয়েছ। ঘড়ি হারিয়ে
চেহারার কী হাল করে রেখেছ। এত ভেঙে পড়েছিলে কেন? চোখমুখ তো একেবারে বসে
গেছে দেখছি।
মইনুল বলল, ওর চোখ মুখ এমনি এমনি বসেনি স্যার। আসলে ও ডিহাইড্রেশনে ভুগছে।
হেড স্যার বললেন, এটা তুমি কেমন করে জানলে? বাথরুমেও তল্লাশি চালিয়েছ নাকি?
মইনুল লজ্জার হাসি হেসে বলল, ও স্যার বেশ কয়েকবার পেট চেপে ধরে টয়লেটে
গিয়েছে। তাছাড়া স্কুলে ঢোকার সময় ওকে আমি প্রচুর ঘুঘনি খেতে দেখেছি।
হেড স্যার বললেন, কেন যে তোমরা হাবিজাবি জিনিস খাও, বুঝি না। এখন বোঝো। ওই
ঘুঘনি না খেলে তোমার ঘড়িটা হাতছাড়া হতো? হতো না। ঘুঘনি খেয়েছ বলেই তো পেটে
গণ্ডগোল হল। আর পেটে গণ্ডগোল হওয়ার কারণেই তোমাকে টয়লেটে যেতে হলো। তা-ও
আবার ঘড়ি খুলে। এবার শিক্ষা হলো তো? ক’বার গিয়েছ টয়লেটে?
জামিল বলল, স্যার তিনচারবারের বেশি।
হেডস্যার বললেন, বলো কি। আজ তো তোমাদের ডাক্তার স্যারও আসেননি। তোমার তো
বাসায় চলে যাওয়া উচিত। শিগগির বাসায় যাও। বাসায় গিয়ে স্যালাইন খাও। আর
বিশ্রাম নাও।
৬.
ঘড়ি ফিরে পেয়ে বেশ খুশি জামিল। পেট ব্যথাটাও খুব একটা নেই বলে মনে হচ্ছে।
মইনুল ওকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়ার জন্য ওর সাথেই এসেছে। বেশ দুর্বল হয়ে
পড়েছে জামিল।
জামিল বলল, তোকে থ্যাংকস। তুই না থাকলে মনে হয় ঘড়িটা আর পেতাম না।
মইনুল বলল, আর কখনো ঘুঘনির ধারে কাছেও ঘেঁষবি না। মনে থাকবে তো?
জামিল বলল, থাকবে না আবার।
মইনুল বলল, আজ একটা জিনিস খেয়াল করেছিস?
জামিল বলল, কী জিনিস?
মইনুল বলল, সামসুল স্যারের মুখে কিন্তু প্রথমদিকে হাসি ছিল না। মুখটা বেশ ভার ভার লাগছিল। কেন জানিস?
জামিল বলল, অমন তো লাগার কথা নয়। স্যারের তো সবসময়ই চারটে দাঁত বের হয়ে
থাকে। আর দাঁত বের হয়ে থাকে বলেই তো মনে হয় স্যার সবসময় হাসছেন। কিন্তু
কেন অমন লাগলো?
মইনুল বলল, কারণ স্যার আজ তার উপরের পাটির সবগুলো দাঁত ঠোটের ভিতর ঢুকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন।
জামিল অবাক হয়ে বলল, কিন' এটা কেমন করে সম্ভব?
মইনুল বলল, আবেগের পার্থক্যের কারণে মানুষের শরীরের অনেক অঙ্গই ব্যাতিক্রম আচরণ করতে পারে। স্যার বেশ রেগে ছিলেন। বিশ্বাস হয়?
জামিল বলল, অবশ্যই হয়। একটু আগেও আমার পেট কামড়ানো ছিল। কিন্তু এখন নেই।
মইনুল বলল, ঘড়িটা ফিরে পাওয়ার আনন্দে নিশ্চয়ই!
জামিল বলল, না। ভয়ে।
মইনুল অবাক হয়ে বলল, ভয়ে! মানে?
জামিল বলল, বাসায় যদি জানে ঘুঘনি খেয়ে আমার পেট কামড়ানো আর পেটে গণ্ডগোল,
তাহলে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যাবে। ওই ভয়েই আমার পেট কামড়ানো নেই। সত্যি তুই ঠিকই
বলেছিস, আবেগের পার্থক্যের কারণে শরীরের অনেক অঙ্গই ব্যতিক্রম আচরণ করতে
পারে। এমনকি পাকস্থলি পর্যন্ত। হাঃ হাঃ হাঃ।
জামিলের এই হাসিটা বেশ রাগ ধরানোর হাসি। মইনুল অনেককষ্টে রাগটা চেপে রাখল। অসুস্থ মানুষের প্রতি রাগ দেখানো ঠিক না।
- মেয়েটি মাকড়সা হয়ে গেল - কাজী কেয়া
- কাজলকাকা ভূত নয় - ইমতিয়ার শামীম
- অর্পণের মা - আলী হাবিব
- রাশিয়ান রূপকথা: ধপাস ভালুক - রহীম শাহ
- মুখোশ রহস্য - আহমেদ রিয়াজ
- মুরগী ছানা তিতি - আরিফুন নেছা সুখী
- অহংকারী রাজকন্যা - বিএম বরকতউল্লাহ
- পুতুল ভূত - রানা জামান
- রাখাল ও জাদুর আম গাছ - হুমায়ুন কবীর ঢালী
- দুষ্টু ছানাদের গল্প - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- তুতুন - আল নাহিয়ান
- সাইকেল বাবু - লিটন মহন্ত
- রূপকথা নীল পূর্ণিমার সোমেশ্বরী - রবীন ভাবুক
- পরীরাণী - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- সাদাসোনা মেঘ, নীল ঘুড়ি আর খোলা মাঠে একা ছেলেটা - নূর সিদ্দিকী
- অন্ধকারের এক রহস্যমানুষ আর রাজহাঁস - মিন্টু হোসেন
- চকোলেট দৌড় - সোহানা রহমান
- স্কুলপড়ুয়া পাখি, প্রজাপতি আর ছড়া - মেহেরুবা নিশা
- গরুর ঘায়ে! - আহমেদ রিয়াজ
-
ঝুমি ও একটি কুকুর -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
উপন্যাস: পিশাচ-কন্যা -
সামান্থা লি
রূপান্তর: অনীশ দাস অপু - অক্স ও বুল (সায়েন্স ফিকশন গল্প) - আবুল কালাম আজাদ
- আমি ভূত - সোহানা রহমান
- সবুজ মাঠ - শিবলী নোমান
- মন্দ মানুষ - চন্দন চৌধুরী
- ঈদে মুক্তির আনন্দ - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- জোনাকিদের গ্রহে ভয়েজার ১ - মিন্টু হোসেন
- তর্ক-বিতর্ক - পাভেল মহিতুল আলম
- খরচি মামার সাইকেল - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- লাল জামা - বিএম বরকতউল্লাহ্
- আমার বন্ধু ডোরেমন - আহমেদ রিয়াজ
-
অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস অজানা দ্বীপে অভিযান -
মূল : এডগার অ্যালান পো
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- ঢেউয়ের বন্ধুরা - নূর সিদ্দিকী
- ভাষা - জাহিদুল আলম
- বর্ণান্ধ - মারিয়া হোসেন
- ভূতের সঙ্গে আড়ি - মুহসীন মোসাদ্দেক
- নরহরি দাস - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
- কাকদের পুরীষ উৎসব! - মহিউদ্দীন আহ্মেদ
- সে সত্যিই ছিল একটা বাচ্চা পরি - মেহেরুবা নিশা
-
মেঘকন্যা আর টুনটুনিছানা -
বিএম বরকতউল্লাহ্
- নবম মাত্রার গোবট - ধ্রুব নীল
-
পরী এবং পরিবেশ -
মাহাবুবুল হাসান নীরু
- দুঃখী বুড়ি ও নেংটি ইঁদুর - বিএম বরকতউল্লাহ্
- ভালো 'মন খারাপ' - চন্দন চৌধুরী
- রকির চাওয়া - জুবায়ের হুসাইন
- মৌমাছি ও কাঠুরিয়া - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- ফিরে দেখা - রবীন ভাবুক
- মতির মাথায় গাব - ধ্রুব নীল
- প্রজাপতি হবো - এনায়েত রসুল
- চাঁদনি-হালুয়া - সঞ্চারিণী
- জলে কোলাহল - চন্দন চৌধুরী
- এক টুকরো মেঘ ও দুঃখী গাছ - বিএম বরকতউল্লাহ
- আমার রোবট 'রবি' - মোঃ মিন্টু হোসেন
- কত আটায় কত রুটি - আবুল কালাম আজাদ
- আংটি - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- শহরে একদিন - আহমেদ রিয়াজ
- পল্টুর বন্ধু - আহসান হাবীব
-
হরর গল্প -
মিস্ট্রেস স্যারি মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- নিলেশের অন্য ভূবন - আফরোজা অদিতি
- ভাষার খোঁজে নেপালে - সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
- গিফট - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- ভূত শিকার - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
-
ডানাকাটা পাখি ও সীম বীজ -
চন্দন চৌধুরী
- গোয়েন্দা মেনু'দা - রবীন ভাবুক
- তিনা আর লাল গোলাপ - আফরোজা অদিতি
- পরীটি কি জাদু জানে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- আরকনির রুমাল - মোঃ মিন্টু হোসেন
- পুষ্পিতার ঈদ - আফরোজা আদিতি
- হাতির ডিম - আহমেদ রিয়াজ
- কঙ্ক - শুভ অংকুর
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- প্রান্ত ও তার এ্যাডনোক্সিয়ান বন্ধু (সায়েন্স ফিকশান) - আবুল কালাম আজাদ
- এক যে ছিলো রাসেল - বেবী মওদুদ
- আতঙ্কের প্রহর [রহস্য গল্প] - অনীশ দাস অপু
- ঈদ শপিং - আহসান হাবীব
- উপন্যাস- আলিবাবা ও চালিচার - শিবব্রত বর্মন
- মৌমাছি - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- সূত্রধর স্যার - জাহিদুল আলম
-
কোনো এক অমাবস্যার রাতে -
আহমেদ রিয়াজ
- বিজ্ঞানী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গড়ে আটকা এক নেকড়ে - মোঃ মিন্টু হোসেন
- প্রজাপতি - এনায়েত রসুল
- পরী এসেছিল - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- বিচ্ছু ভাগনের কাণ্ড - জাহিদুল আলম
- নিশান আর ব্ল্যাকহোল - আফরোজা অদিতি
- পরীর বন্ধু অহনা - এনায়েত রসুল
-
স্যারের বিপদ -
জাহিদুল আলম
-
নতুন স্যার -
আবুল কালাম আজাদ
-
মিকাই-এর বাঘের ছানা -
মিন্টু হোসেন
-
আলুভর্তা -
জান্নি রোদারি
অনুবাদ: জামিল বিন সিদ্দিক -
বেকার আয়না -
জাহিদুল আলম
-
একদিন রাতে ধবধবে বিড়ালটা -
আহমেদ রিয়াজ
- অবাক বইপাঠ - মুনির রানা
- জোকার - শিবব্রত বর্মন
- ইঁদুরের ভোজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ভৌতিকবাড়ি - অনীশ দাস অপু
- মেলায় মাঠে পিউস - আফরোজা অদিতি
-
মিস্ট্রেস স্যারি -
মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
ভয়ঙ্কর এক লোক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
তেরো তলা -
মূল : ডন উলফসনে
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
টুঙ্গিপাড়ার খোকা -
বেবী মওদুদ
-
রাতের আতঙ্ক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
বৃক্ষপরী টিয়া -
আফরোজা অদিতি
-
গেকো -
অনীশ দাস অপু
-
ময়না -
আফরোজা অদিতি
-
রাজকন্যা মাঈশা আর বলঢাঁশের গল্প -
আশরাফুল ইসলাম সাগর
-
শেয়াল দেবতার প্রতিহিংসা -
মূল : রবার্ট ব্লচ
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - ফার্স্ট হওয়ার ঝামেলা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- শূন্যে ডানা মেলে - এনায়েত রসুল
-
একটু উষ্ণতার জন্য -
মূল : হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
শামন্তীর শীতবেলা -
মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
রাতের অতিথি -
আহমেদ রিয়াজ
- চৈতি আপু - ইমদাদুল হক মিলন
- তেতুল গাছ - আহসান হাবীব
- টুশির গল্প - বেবী মওদুদ
- চড়ুই পাখিদের ঘরের ঘটনা - ধ্রুব এষ
- বিলাই মা বিলাই ছা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- এক শিশি আলতা - এনায়েত রসুল
- কুলরাজা কুলরাণী - শাশ্বত ভট্টাচার্য
- ছায়ার মানুষ - আহমেদ রিয়াজ
- আলতা কন্যার জন্মদিন - মারুফ রেহমান।
- লেজ উঁচিয়ে - আহমেদ রিয়াজ
- ভৌতিক গল্প : থাবা - অনীশ দাস অপু
- রাজার ঈগল পাখি (কম্বোডিয়ার লোককাহিনী) - অনুবাদ: মৃত্যুঞ্জয় রায়
- আকাশ ছুঁয়ে উড়বো - এনায়েত রসুল
- আবু আর বাবু - বেবী মওদুদ
-
ভূতুড়ে বানর -
মূল : স্টিফেন কিং
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - কার ছবি - ইমদাদুল হক মিলন
- ঝন্টু মন্টুর দাদি - আহসান হাবীব
- সন্ধ্যার বিচিত্র ঘটনা - ধ্রুব এষ
-
তিন রাজপুত্র -
অনুবাদ : শিবব্রত বর্মন
মূল গল্প: আইজাক আসিমভ - নওরিনের স্কুল - এনায়েত রসুল
- বংশী নদীর ঘটনা - হামিদ কায়সার
- মাকড়সার চন্দ্র ভ্রমণ - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ইঁদুর সাহেবার হলিডে - মিজানুর খান
- জাদুর ঢোল - আহমেদ রিয়াজ
- ক্যামডেন কিলার - অনীশ দাস অপু
- পরীর দেশে - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- পিঁপড়ে যখন হাতির বন্ধু - আহমেদ রিয়াজ
- সাগর পরী - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
বৃষ্টি তুমি এসো না -
অনীশ দাশ অপু
মূল রচনা: আইজাক আসিমভ - ঝমঝমে আষাঢ়ে - আহমেদ রিয়াজ
-
ভৌতিক হাত -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প: কার্ল জ্যাকবির ‘দ্য হ্যান্ড’ -
বাবার জন্য ভালোবাসা -
মুহাম্মদ নাহিয়ান বিন খালেদ
- সেন্টমার্টিনে বাবার সাথে - জারিন তাসনিম অতসী
-
ভৌতিক ঘুড়ি -
অনীশ দাস অপু
মূল: কার্ল জ্যাকবি’র ‘দ্যা কাইট’ - ফুটবল প্রেমিক - রাশেদ শাওন
- ঘটনাটা সত্য - এনায়েত রসুল
- ভুতুড়ে বাড়ি - অনীশ দাস অপু
- ইচ্ছাপূরণ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- মায়ের কাছে ফেরা - বেবী মওদুদ
- স্বপ্ন - শিবব্রত বর্মন
- মেলায় যাবো - এনায়েত রসুল
- কুমড়ো দানব - অনীশ দাস অপু
- আসলে ছবিটা মেঘের - ধ্রুব এষ
- কাশেম আলী গরু চরাতো - আনিসুল হক
-
অদৃশ্য শত্রু -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : ফিলিপ কে. ডিক - জাদুকর - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
-
জানের দুশমন -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : হেনরি কুটনার - ভালোবাসার সবুজ গাছ - ইমরুল ইউসুফ
- বড়দিনের রাতে - অনীশ দাস অপু
- দেহহীন - শিবব্রত বর্মন
- নীলুর নীল চশমা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- রহস্যভেদী - রকিব হাসান
- দুষ্টু বিড়াল - অনীশ দাস অপু
- অপেক্ষা - মোস্তফা মামুন
- ঈশানপুরের অপুর কান্ড - সুমন কায়সার
- রাজা যখন গাছে - আহমেদ রিয়াজ
- অন্যরকম ভালোলাগা - শুভ অংকুর
- পৃথিবীর জন্য ভালোবাসা (সায়েন্স ফিকশন) - শুভ অংকুর
- কিং মিঠু - মোস্তফা মামুন
- প্রেতাত্মা - অনীশ দাস অপু
- রোবট - আনিসুল হক
- চতুর্দশতম/চৌদ্দ - নঈম তারিক
- জিকুর স্বপ্ন - আহসান হাবীব
- চোর - রকিব হাসান
- ছায়াহীন - শিবব্রত বর্মন
- ঈদের আগের রাত - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
মেরু ভালুকদের রাজা -
মূল : ফ্রাঙ্ক বাউম
ভাষান্তর : বিদ্যুত - গাধার টুপি - আহমেদ ফারুক
- আলসে বালক আর গরুর গল্প - মো. গোলাম রহমান
- অতি চালাকির সাজা! - এনায়েত রসুল
- মাছরাঙা আর রূপোর চামুচ - মোস্তফা হোসেইন
- হাবা রাকিবের কাণ্ড - মারুফ রেহমান
- বিড়ালের বন্ধুত্ব - রূপান্তর : আবুল বাসার
- গণেশ চ্যাটার্জি আর তার কালো কুকুর - নাফে মোহাম্মদ এনাম
- শিউ-পিউর বন্ধু তানতুলু - নূর সিদ্দিকী
- মেছোভূত - ইকবাল খন্দকার
- অ্যারোসল ভূত - শাকিল ফারুক
- পাঠশালা - আহমেদ রিয়াজ
- যুদ্ধের গল্প - ফরহাদ সাফায়েতুল কবীর
- বোকাতু - আরিফ হাসান
- রূপকথার ইলিশ - অর্জিতা মাধুর্য
- সীনের বাবা সীনের মা - আহমেদ রিয়াজ
- চাঁদ - পান্থ বিহোস
- মায়ের ভাষা - মুহাম্মদ মুনতাসির আলী
- জিন্নাহ'র না জানা গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আ হ মে দ ফা রু ক
- উপহাস - আহমেদ রিয়াজ
-
ড্রাগনের যম ইভান -
মূল : ভ্লাদিমির বাইকো
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমি - টিনা আপুর জাদুর কাঠি - এনায়েত রসুল
- তারা পড়তে দেখলে - ধ্রুব এষ
- বাঘ-সিংহের গল্প - আহমেদ রিয়াজ
-
লুকোচুরি -
নিকোলাই নসভ
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমী - রহস্যময় কিশোর যোদ্ধা - আহমেদ রিয়াজ
- অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয় - বিজয় মজুমদার
- তিন ভূতুড়ে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- মরগানস উডসের ভূত - অনীশ দাস অপু
- মহাকাশে সু ভূতের অভিযান - বিধান রিবেরু
- জামাটা কোথায় গেল - আহমেদ রিয়াজ
- মি. হাকলি - নূর সিদ্দিকী
- বুলেট ভাইয়ের হাইজাম্প - মোস্তফা মামুন
-
একা কবরস্থানে -
মূল : অ্যালভিন শোয়ার্জ
অনুবাদ : হাসান খুরশীদ রুমী - তৈল মর্দন - সজ্জাদ কবীর
- ঝিন্টু - মানিক চন্দ্র দাস
- রবীন-মাহিনের মুক্তি... - আহসান হাবীব
- মামার ঘড়ি - পান্থ বিহোস
- তৃষার ভালো লাগা - এনায়েত রসুল
- খরগোশের টাকা চাষ - ভাষান্তর- মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ঈদের চাঁদ - আশীষ চক্রবর্ত্তী
-
স্টোরিটেলার -
নিকোলাই নসভ
রূপান্তর : হাসান খুরশীদ রুমী - একটা গাছের চারা - আশরাফুল আলম পিনটু
- পাহাড় যখন সরে যায় - আমীরুল ইসলাম
- ঝিম দুপুরের গল্প - শাকিল ফারুক
- জেলে আর সোনার মাছ - রহীম শাহ
- কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা - বিজয় মজুমদার
- পুতুল - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
হানাবাড়ির উন্মাদ -
মূল : ইলেন এ. কিউল
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - চ্যালেঞ্জ! - রকিব হাসান
- রাজা এলেন - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চুরি বিদ্যা বড়ো বিদ্যা - মোস্তফা মামুন
- আসলে কী ঘটেছিল - ইমদাদুল হক মিলন
- শিয়াল রাজার সাজা - এনায়েত রসুল
- রূপোলি রেণু - আলী ইমাম
- প্যালিনড্রোমিক ফর্ক... - আহসান হাবীব
- ঘড়ি উদ্ধার - আহমেদ রিয়াজ
- অপু আর তপু - আশরাফুল আলম পিন্টু
- সাদা মেঘ ও কাশফুলেরা - আহমেদ রিয়াজ
- মনের ভয় - ফাতেমা ফেরদৌস (পিংকি)
- চাঁদের বন্ধু খরগোশ - রেহানা পারভীন রুমা
- দুষ্টু টুলু - এনায়েত রসুল
- রেডিও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু - আহমেদ ফারুক
- আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- সুন্দর - মঈনুল আহসান সাবের
-
ছোট্ট তুষারমানব -
কোরিয়ার রূপকথা
রূপান্তর : মো. গোলাম রহমান - ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি - এনায়েত রসুল
- এটা আমার বাবার গল্প, মায়েরও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চাষা ও তার গরু - আহমেদ রিয়াজ
- সহকারী গোয়েন্দা - মোস্তফা মামুন
- লাল বেলুন - আমীরুল ইসলাম
- ডান-বাম - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
শেষ যাত্রা -
মূল : কার্ল জ্যাকবি
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - লিটুর ঘুম আসে না - মোস্তফা মামুন
- ভূতটা খোলা মাঠে একা শুয়ে আছে - আহমেদ রিয়াজ
- কিসমতের বিচার - হুমায়ূন কবীর ঢালী
- নিপুর আশ্রয় - এনায়েত রসুল
- দুই ভূতের কান্ড - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
কান্নার দাগ -
আফ্রিকার রূপকথা
রূপান্তর : আবুল বাসার - নূরী ও পরী - আহমেদ রিয়াজ
-
প্রকৃতি কন্যার দোলনা ঘর -
শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- ছোট্ট জাদু-নুড়ি - আমীরুল ইসলাম
- জাদুর আয়না - রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আহমেদ ফারুক







