মৃত্যুঞ্জয় রায়
টুয়েন্টি ডাউন লোকাল ট্রেনটা সেদিন বিষ্টুপুর ইস্টিশনে পৌঁছতে মাঝরাত পেরিয়ে গেল। বিকেল থেকেই দুর্যোগ শুরু হয়েছে। কালবৈশাখীর প্রচন্ড ঝড়ে প্রকৃতি যেন প্রলয় নাচ নাচছে। দুদ্দাড় ভেঙ্গে পড়ছে গাছপালা। রেল লাইনের দুপাশে লাগানো ইউক্যালিপটাস আর আকাশমণির ডাল ভাঙছে মটামট। ট্রেনটা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু ঝড় আর থামেনা। অবশেষে আস্তে আসে- চলতে শুরু করলো। জোর বাতাসে রেললাইনের ফাঁক থেকে পাথর উড়ে যায় আর কি! ঝড়ের সাথে বৃষ্টি। বৃষ্টির ছাটে কিছুই দেখা যায় না। ট্রেনের ময়লা কাঁচের জানালা বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরও ঘোলাটে হয়ে গেছে। আকাশেও জমাট কালো মেঘ। কড়কড় বাজের আওয়াজ আর ফ্লাশ লাইটের মতো তীব্র আলো মাঝে মাঝে এসে পড়ছে ট্রেনের জানালার কাঁচে। রেলগাড়ির ভেতর টিমটিম করে জ্বলছে বাতিগুলো। সে আলোয় অন্তর ব্যাগ থেকে একটা ভুতের বই বের করে খানিকটা পড়বার চেষ্টা করলো। কিন্তু সবই বৃথা। খুবই কম আলো। কিছুই পড়া যায়না। কিছুক্ষণ বইয়ের পাতা ওল্টালো অন্তর। না বইয়ের পাতায় আঁকা ভুতের ছবিগুলো যেন নড়ছে। পাতা থেকে উঠে ভুতগুলো হাঁটাহাঁটি করতে চাইছে। কিশোর অন্তর বইটা বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিলো, যা শালার ভুতেরা। এবার ব্যাগে বন্দী হয়ে থাক।
কিশোর অন্তর আর ওর বাবা চলেছে ঈদ কাটাতে ওদের গ্রামের বাড়ি কাগমারী গাঁয়ে। ওখানেই এবার ঈদ করবে ওরা। ওর মা আসেনি। সকালে ঢাকার বাসা থেকে বেরোনোর সময়ও কত্ত রোদ। কিন্তু বিকেল ঘুরতেই সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল- খালি ঝড় আর বৃষ্টি। অন্তর ওর বাবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘আর কতক্ষণ লাগবে বাবা কাগমারী পৌঁছতে?’
‘এতক্ষণ তো বিষ্টুপুর ইস্টিশনে পৌঁছে যাওয়ার কথা। ওখান থেকে তোমার দাদা বাড়ি আরও ঘণ্টা চারেকের পথ। কিন্তু এখন ঠিক বুঝতে পারছি না কখন পৌঁছব।’
বিষ্টুপুর ইস্টিশনে যখন ট্রেনটা এসে থামলো তখন রাত দুটো দশ। ঝড় বৃষ্টি
তখনো থামার লক্ষণ নেই। বৃষ্টি হয়েই চলেছে, যেন আষাঢ় মাস। কিন্তু কি আর
করা। ট্রেন থেকে না নামলে ট্রেন ছেড়ে দেবে। অগত্যা ওই বৃষ্টির মধ্যেই
অন্তরও ওর বাবার সাথে নেমে পড়লো বিষ্টুপুর ইস্টিশনে। ট্রেন থেকে নামলো
মাত্র ওরা দুজন। না-না, একটু পরে ট্রেনটা ঠিক ছাড়ার সময় নামলো আরও একজন।
ইয়া জোব্বা টাইপের রেইনকোট পড়ে লোকটা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে খুব ধীরে ধীরে
হেঁটে আসছে প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়ে। মাথায় একটা কাউবয় হ্যাট। বিদ্যুতের
চমকে মাঝেমাঝে লোকটাকে একটু আধটু দেখা যাচ্ছে। অন্তররা ততক্ষণে স্টেশন
মাস্টারের ছোট্ট কামরাটার ভেতর এসে দাঁড়িয়েছে। টিনের চালে ঝমাঝম বৃষ্টি
হচ্ছে। ওয়েটিং রুম একটা আছে, ওটার চাল ভাঙ্গা, নোংরা। তাই ওখানে বসা
অসম্ভব। স্টেশন মাস্টারের একটা ভাঙ্গা টেবিল আর একটা চেয়ার, টেবিলের উপর
কাগজের স্তুপ। টেবিলের উপর একটা হ্যারিকেন জ্বলছে টিমটিম করে। চেয়ারটায়
হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে স্টেশন মাস্টার। ট্রেন থেকে নেমে এই রুম পর্যন্ত
আসতেই ওরা বেশ ভিজে গেছে। রাত না পোহানো পর্যন্ত কাগমারী গাঁয়ে যাওয়ার কোন
উপায় নেই। রুমে বসবার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই অন্তরের বাবা কাঁধ থেকে
ব্যাগটা নামিয়ে তার উপরেই ওকে বসতে বললো। এসব করতে করতে কখন যে রেইনকোট
পরা লোকটা রুমের ভেতর ঢুকে পড়েছে অন্তরের বাবা সেটা খেয়াল করেনি।
‘কাগমারী যাবেন বুঝি?’
‘জ্বী। কিন্তু আপনি জানলেন কেমন করে?’
হা হা করে হেসে উঠলো রেইনকোট পরা লোকটা।
‘কাগমারী তো অনেক দূরের পথ। কিসে যাবেন? ঘোড়ায় চড়ে? না ভ্যানগাড়িতে? অবশ্য
আজ যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে ভ্যানগাড়ি চলে কিনা কে জানে? রাস্তাঘাট সব পানি
কাদায় একাকার হয়ে আছে। এখন কিছু পাবেন না। তাই ও গাঁয়ে আর এখন আপনাদের
যাওয়া হবে না। রফিক সাহেব নিশ্চই আপনাদের অপেক্ষায় সারা রাত জেগে বসে
থাকবেন।’
রফিকউদ্দিন অন্তরের দাদাজানের নাম। লোকটা তাহলে ওদের চেনে!
‘আপনি দেখছি আমার বাবাকে চেনেন। আমাকেও চেনেন নাকি?’
প্রায় অন্ধকার ঘরটার ভেতরেও একটা অট্টহাসির শব্দ শোনা গেলো।
‘ চিনবো না কেন। ভীষণ খারাপ লোক। আচ্ছা রায়হান সাহেব, আপনি কি আপনার বাবাকে চেনেন?’
অন্তর ভেজা কাপড়ে জবুথবু হয়ে বসে আছে। শীত শীত করছে। লোকটার কথা শুনে
অন্তরের বাবার বড্ড রাগ হলো। কেউ নিজের বাবার বদনাম শুনতে চায়না।
‘লোকটা একদম বদমাইশ নম্বর ওয়ান। ফার্স্টক্লাস চিটিংবাজ। খুনি। জলজ্যান্ত
একটা মানুষকে গলা টিপে মারতে তার একটুও হাত কাঁপে না। আচ্ছা, আপনি কি
আপনার বাবাকে কখনো কোন মানুষ মারতে দেখেছেন? আপনার বাবা যে একজন ঠাণ্ডা
মাথার খুনি সেইটা কি আপনি জানেন?’
অন্তরের বাবা খুব বিরক্ত হলো লোকটার কথা শুনে। ইচ্ছে হলো লোকটার গালে একটা কষে চড় বসিয়ে দিতে।
‘কি আবোল তাবোল বকছেন? এরকম বাজে কথা প্লিজ আর বলবেন না।’ রাগটা খুব চেপে গেলো সে।
মনে মনে ভাবলো, লোকটা নিশ্চই পাগল কিসিমের, মাথায় ছিট আছে। রাত ভোর না
হওয়া পর্যন্ত লোকটা যদি এভাবে বকবক করতে থাকে তাহলে এরপর না জানি কি হয়।
কিন্তু এখান থেকে বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। লোকটাও যেতে পারবে না। তাই
সাই সুই না দিয়ে চুপচাপ থাকাটাই ভালো। লোকটা যা ইচ্ছে বলে যাক। এমন সময়
স্টেশন মাস্টার চেয়ারে বসেই একটা লম্বা হাই তুলে বললেন, ‘দেখুন, আমার বড্ড
ঘুম পাচ্ছে। ভোর থাকতেই আবার জাগতে হবে আপ ট্রেনটাকে পার করাতে। তাই
আপনারা যে যেখানে যাওয়ার দয়া করে কেট পড়ুন তো। আমি এখন দরজাটা বন্ধ করে
ঘুমুবো।’
‘বলেন কি? এই বৃষ্টি মাথায় দুর্যোগের মধ্যে আমরা কোথায় যাব?’
‘তার আমি কি জানি?’
স্টেশন মাস্টার কথাটা বলতে বলতে হ্যারিকেনটা হাতে করে ওদের কাছে উঠে এলেন।
হ্যারিকেনের আলোয় অন্তরের বাবা লোকটার মুখ এক পলক দেখে চমকে উঠলো। চোখ
দুটো টকটকে লাল জবা ফুলের মতো। চোখের মনি আছে কিনা ঠাহর করা গেলো না। ঘরের
ভেতর রেইনকোট বা হ্যাটের কোনো দরকার নেই। তবু লোকটা গা থেকে ওগুলো খুলছে
না। কাঁধ ঝাকিয়ে জোরে হেসে উঠলো লোকটা, ‘হোটেল ফোটেল কিচ্ছু পাবেন না এই
বিষ্টুপুরে। তার চেয়ে চলুন পাশেই একটা চায়ের দোকানের ছাপড়া আছে। একটা
বেঞ্চিও পাতা আছে ঝাপের নিচে। দোকান বন্ধ চুলায় গরম কয়লাও থাকতে পারে।
হাত-পা সেঁকে নিতে পারবেন।’
কোন কিছু ভাবার কোন ফুসরতই দিলো না স্টেশন মাস্টার। একরকম ঠেলেই ওদের ঘর
থেকে বের করে দিলো সে। রেইনকোট পরা লোকটা যেখানে দাঁড়িয়েছিলো সেখান থেকে
কয়েক পা সরে যেতেই হ্যারিকেনের আলোয় মেঝেতে সে জায়গাটা দেখেই চমকে উঠলো
অন্তর আর ওর বাবা। তাজা রক্তের দাগ। লোকটা পিছু ফিরে তাকিয়ে ওদের ভয়
ভাঙালো, ‘ও কিছুনা। বোধ হয় ধাউস একটা জোঁক লেগেছিলো পায়ে। টের পাইনি। খুব
রক্ত চুষে নিয়েছে। অজান্তে কখন অন্য পায়ের ডলা খেয়ে পিষে গেছে টের পাইনি।’
ওরা বেরিয়ে যেতেই স্টেশন মাস্টার দরাম করে দরজাটা বন্ধ করে দিলো।
‘আপনার পিতা যে খারাপ এইটা আপনি জানেন না?’
‘না।’ অন্তরের বাবার চোয়াল শক্ত হয়ে আসছে। জমাট অন্ধকার, তবে বৃষ্টিটা
পড়ছে হালকা ঝিরি ঝিরি। গায়ে লাগেনা। তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে কথা হচ্ছে।
স্টেশনের একেবারে উত্তর মাথায় গিয়ে ওরা একটু ডান দিকে মোড় নিলো। নীচে
কাদায় পা পড়তেই ফ্যাচাৎ করে একটা শব্দ হলো। অস্পষ্টভাবে একটা ছাপড়ার নীচে
বেঞ্চিটা দেখা গেলো। বেঞ্চিটার কাছাকাছি পৌঁছতেই লোকটা রেইনকোটের পকেট
থেকে ম্যাচ বের করে একটা সিগ্রেট ধরালো। সে আলোতেই ওরা একটা ভেজা বেঞ্চকে
এবার দেখতে পেলো। সেই সাথে দেশলাইয়ের আলোয় লোকটার মুখটা আবার দেখা গেলো।
হ্যাঁ, ঠিকই ওর চোখটা টকটকে লাল, রক্তের মতো। শ্যামলা ভাঙাচোরা একটা মুখ,
কপালে বড় একটা কাটা দাগ, একজোড়া গোঁফ, চওড়া মোটা ঠোঁট।
‘জানি, আমার কথা আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না। কিন্তু খোদার কসম, সত্যই আপনার পিতা একজন চরম খারাপ লোক, খুনি। ধুন্ধুমার গিরিংগিবাজ।’
‘আঃ, থামুন তো।’ অন্তরের বাবা একটু মৃদু প্রতিবাদ করলো লোকটার কথায়।
কিন্তু লোকটার তাতে কোনো ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেলো না। সে তার কথা বলেই
যেতে থাকলো, ‘কিশওয়ারকে চেনেন? এক অভাগা যুবকের নাম। আপনার পিতা তাকে
সিঙ্গাপুর পাঠাতে চেয়েছিলেন। সেই লোভে একদিন কিশওয়ার ওদের সব সম্পত্তি
বেচে চার লাখ টাকা আপনার পিতার হাতে তুলে দিয়েছিলো। কত আর? বছরখানেক আগের
হবে। কিন্তু আপনার পিতা তাকে সিঙ্গাপুর পাঠাতে পারেনি। অবশেষে কিশওয়ার
একদিন তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলো আপনার পিতার কাছে।’
‘আপনি ভুল করছেন। আমার পিতা কখনোই আদম ব্যাপারী ছিলো না। আপনি হয়তো অন্য কোন রফিক সাহেবের কথা বলছেন।’
থিক থিক করে একটা পিশাচে হাসি বেরিয়ে এলো লোকটার মুখ থেকে। শব্দটা শোনা গেলো বড় বিচ্ছিরি করে।
‘মাসের পর মাস ঘুরে টাকা না পেয়ে শেষে কিশওয়ার একদিন খুব রেগে যাচ্ছেতাই
গালাগাল করলো আপনার পিতাকে। অবশেষে রফিক সাহেব কিশওয়ারকে টিকিট আর ভিসা
নেয়ার জন্য ডেট দিলেন। ঢাকা থেকে নাকি ওসব নিয়ে একজন লোক আসবে বিস্টুপুর
ইস্টিশনে। তাই কিশওয়ারকে তিনি ইস্টিশনেই আসতে বললেন। দিনটা ছিলো গত পরশু।
সেদিনও ট্রেনটা খুব লেট ছিলো। রফিক সাহেব সত্যি সত্যিই এসেছিলেন। রাত
বাড়ছিলো। কিশওয়ার বিদেশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ট্রেনটার অপেক্ষা করছিলো-
একজন মানুষ আসবে। তার হাতে থাকবে কিশওয়ারের প্লেনের টিকিট, পাসপোর্ট ভিসা
এনওসি ইত্যাদি ইত্যাদি। সে স্বপ্নের দেশ সিঙ্গাপুরে যাবে চাকরি করতে।
সেদিন কোন বৃষ্টি ছিলো না, তবে রাতটা ছিলো অমাবস্যার। রাত বাড়ার সাথে সাথে
ইস্টিশন ফাঁকা হয়ে যায়। কোন মানুষ ছিলো না। রোজকার মতো স্টেশন মাস্টার
ছিলো তার ঘরে। কিন্তু ট্রেন আর আসে না। স্টেশন থেকে একটু দূরে রেললাইনের
উপর পা দুলিয়ে বসে দুজন ট্রেনের অপেক্ষায় চেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কি হলো
জানেন?’
‘কি?’ কথাগুলো শুনে আড়ষ্ট হয়ে আসছে অন্তরের বাবার হাত পা।
‘হঠাৎ রফিক সাহেব কিশওয়ারের গলা টিপে ধরলেন। অদ্ভুত কায়দা জানেন লোকটা।
একেবারে হাতপাকা। নিমেষেই রেললাইনের উপর লুটিয়ে পড়লো কিশওয়ারের মৃতদেহ।
রফিক সাহেব হাত ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতেই টুয়েন্টি ডাউন লোকালটা বিষ্টুপুর
ইস্টিশনের প্ল্যাটফর্মে ঢুকলো। তারই ধীরে চলা চাকায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলো
কিশওয়ারের মৃতদেহটা। রফিক সাহেব সেদিন একটা সাদা ঘোড়ায় চড়ে ইস্টিশনে
এসেছিলেন। সেই ঘোড়ায় চড়েই শান্তভাবে আবার ফিরেও গেলেন কাগমারী। কিন্তু
সবাই জানলো, কিশওয়ার ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে।’
অন্তরের বাবার এসব কথা শুনে খুব ঘাম হচ্ছে শরীরে, মাথাটার মধ্যে জোর চক্কর
দিচ্ছে। লোকটা যা বলছে তা যদি আসলেই সত্যি হয়! বেঞ্চিতে পাশে বসে অন্তর ওর
কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। ঝড় থেমে গেছে। দূরের কোনো মসজিদ থেকে আযান হচ্ছে।
চারদিক একটু একটু করে ফর্সা হতে শুরু করেছে। পূবের আকাশটা লালচে হয়ে
উঠেছে। ঝড়ে ভাঙ্গা ডালপালা এদিক ওদিক ছিটিয়ে পড়ে আছে। সকাল হলেই ঈদ।
লোকটার মুখের দিকে অপলক চেয়ে রইলো অন্তরের বাবা। শ্যামলা ভাঙাচোরা একটা
মুখ, কপালে বড় একটা কাটা দাগ, একজোড়া গোঁফ, চওড়া মোটা ঠোঁট। সেই একই
চেহারা।
‘জানি, এসব কথা আপনি বিশ্বাস করেননি। সত্যই তো। কোনো প্রমাণ ছাড়া কি কেউ এসব বিশ্বাস করে?’
‘নাহ্, বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রশ্নের চেয়েও বড় যে, সত্যই যদি আমার পিতা
রফিকউদ্দিন খুন করে থাকে তাহলে আপনি এতসব কথা জানলেন কেমন করে? আপনি কি
তার কাছাকাছি কোথাও ছিলেন? তিনি কি কোনো স্বাক্ষী রেখে এ কাজ করেছেন?’
একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো লোকটা, ‘সত্যই তিনি কোনো স্বাক্ষী রেখে এ কাজ
করেননি। আসল স্বাক্ষী তিনি নিজেই। তবে আমি যে কথাগুলো বললাম, তাকে জিজ্ঞেস
করলেই আপনি সব জানতে পারবেন। তবে যাওয়ার আগে স্টেশন মাস্টারকেও একটু
জিজ্ঞেস করে যেতে পারেন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন যে পরশু রাতে আসলে ঘটনাটা
ঘটেছিলো কিনা।’
মাথাটা ঝিমঝিম করছে, সব যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। ফর্সা হয়েছে কিছুটা। এবার
অন্তরের বাবা স্পষ্ট দেখতে পেলো, লোকটার চোখে কোনো মনি নেই। চোখ দুটো দিয়ে
যেন আগুন ঝরছে। চোখ থেকে অশ্রুর মতো রক্ত ঝরছে। গালের দুপাশ বেয়ে সে
রক্তের ধারা নামছে। হঠাৎ পা দুটোর দিকে তাকিয়ে ভয়ে চমকে ওঠে অন্তরের বাবা।
পা দুটো থেতলানো, রক্ত ঝরছে। ভাঙ্গা হাড় বেরিয়ে রয়েছে। রেইনকোটের ফাঁক
দিয়ে কমলা শার্টের খানিকটা অংশ দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওখানেও রক্ত।
অন্তরের বাবার মাথাটা ঘুরে উঠলো। শরীর কাঁপছে।
লোকটা রেইন কোটের মধ্য থেকে দুটো হাত বের করে অন্তরের বাবার গলার কাছে
ধরলো। কমলা রঙের শার্টের আস্তিন রক্তে ভিজে আরও কমলা হয়ে গেছে। এ কি!
লোকটার হাত দুটো কংকালের মতো কাঠি কাঠি কেন?
‘এখন যদি আপনাকে আমি আপনার বাবার মতো গলা টিপে মেরে ফেলি, কেউ ঠেকাতে আসবে
না। আপনি মরে যাবেন। আপনাকে গলাটিপে মারার জন্যই আমি এসেছিলাম। কিন্তু পরে
ভাবলাম, তাহলে তো আপনার সত্য কথাগুলো জানা হবে না। আপনার বাবা যে সত্যই
একজন খারাপ লোক সেটা জানা হবেনা। পৃথিবীতে যখন কোনো সন্তান জানতে পারে যে
তার পিতা একজন খারাপ লোক তখন সেই সন্তানের যন্ত্রণার আর শেষ থাকে না। তাই
ও কথা জানার পর শেষ জীবনটা প্রতি মুহূর্তে আপনি যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে
থাকবেন, ওটাও এক ধরনের মরা।’
ঝিম মেরে বসে রইলো অন্তরের বাবা। অন্তর তার কোলে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর সম্বিৎ ফিরে এলো। উঠতে হয়। কিন্তু ব্যাগটা গেলো কই? ব্যাগ
নেই, লোকটাও হাওয়া। অন্তরের বাবার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, লোকটা এক মহা
ধড়িবাজ। নানা ফন্দি ফিকির করে আর গল্প ফেঁদে ব্যাগটা হাতানোই ছিলো তার আসল
উদ্দেশ্য। ব্যাগ গেছে যাক। তবু একটা কথা মনে মনে ভেবে শান্তি পেলো সে-
গল্পটা নিশ্চই সত্যি নয়। অন্তরের বাবার মনটাকে দুর্বল করার জন্য ওর বাবাকে
খুনি সাজিয়ে গল্পের প্লট সাজিয়েছিলো লোকটা। মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে
ব্যাগটা হাতিয়ে কেটে পড়েছে। যাক, কি আর করা! এখন অন্তরকে নিয়ে তাড়াতাড়ি
কাগমারী পৌঁছতে হবে- ঈদের নামাজ ধরতে হবে।
প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বেরোনোর সময় দেখলো স্টেশন মাস্টারের দরজাটা ফাঁক করা।
তার মানে এত ভোরেই সে উঠে পড়েছেন। অন্তরের বাবা দরজাটা আর একটু ফাঁক করে
ভেতরে ঢুকে একটা গলা খাকারি দিলো।
‘কে?’
‘জ্বী আমরা। গতরাতের প্যাসেঞ্জার।’
‘ও। এখনো যাননি? ভ্যানগাড়ি পাননি বুঝি?’
‘না, মানে ঠিক তা নয়। আমি একটা কথা জানতে এসেছি।’
‘কি কথা?’
‘পরশু রাতে এই স্টেশনে এক যুবক কি ট্রেনে কাটা পড়েছে? তাকে চেনেন?’
‘জ্বী। তবে চিনিনা। নাম শুনেছি কিশওয়ার।’
অন্তরের বাবার মেরুদণ্ড বেয়ে যেন বরফের স্রোত নামছে। চোখ মুখ ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তার মানে লোকটার কথা সত্যি।
‘কেমন চেহারা ছিলো ছেলেটার, বলতে পারবেন?’
‘শ্যামলা ভাঙাচোরা একটা মুখ, কপালে বড় একটা কাটা দাগ, একজোড়া গোঁফ, চওড়া
মোটা ঠোঁট। কমলা রঙের একটা শার্ট পরা ছিলো। ট্রেনে কাটা পড়ে শরীরটা দুভাগ
হয়ে পড়েছিলো। চেনন নাকি? কিছু হয় আপনার?’ পাল্টা প্রশ্ন করলেন স্টেশন
মাস্টার।
‘না।’ বলে দ্রুত অন্তরকে নিয়ে স্টেশনের বাইরে চলে এলো সে। ভাবলো, স্টেশন
মাস্টারের বর্ণনা মতো ওই চেহারার লোকটার সাথেই তো কাল রাতে ওর দেখা হয়েছে,
কথা হয়েছে। তাহলে কি কিশওয়ার মরেনি? আহত হয়ে স্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছ? তা কি
করে হয়? স্টেশন মাস্টার বলছে সে মরে গেছে!’ একটু সহজ হওয়ার চেষ্টা করলো
নিজেকে, ‘ট্রেনে কাটা পড়ে লোক তো মরতেই পারে। সেটা স্টেশনের লোকজন জানবে
তাতে আর আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? গতরাতের লোকটাও সে কথা জানে। গল্পটা বলে
ওকে ঠকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যে কথা অন্য সবাই জানেনা তা হলো তার বাবা
রফিকউদ্দিন লোকটাকে গলাটিপে মেরে রেল লাইনের উপর ফেলে রেখে চলে গেছে। ও
কথা সে জানলো কি করে? এটাও নিছক গল্প।’
ততক্ষণে স্টেশন জেগে উঠেছে। দু একজন লোক আর ভ্যান আসতে শুরু করেছে। একটা
ভ্যান নিয়ে ওরা রওনা হলো কাগমারীর পথে। রাস্তা ভীষণ খারাপ। পৌঁছতে পৌঁছতে
বেলা সাড়ে দশটা। নামাজ শেষে সবাই বাড়ি ফিরছে। বাড়ি পৌঁছে উঠোনেই দেখা হলে
তার বাবা রফিকউদ্দিনের সাথে।
‘আইছস তরা? আইছস? কুনো বিপদ হয়নাই তো? সরাডা রাইত আমি ঘুমাইবার পারি নাই।’
অন্তরের বাবা সে কথার কোন জবাব না দিয়ে শুধু বললো, ‘আব্বা, আপনার সাথে কিছু কথা আছে।’
‘কথা পরে হবে। এক্ষুন গোসল সাইরা আগে নামাজডা পইড়া ল তো। সিমাই খাইয়া আগে একটু জিরায়া ল। পরে কত পারো কথা কইও।’
‘না, এখনই আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই। খুব জরুরি। চলো ও ঘরটায় যাই।’
অন্তর ততক্ষণে ওর দাদীজানকে পেয়ে মহাখুশিতে তার সাথে ভেতরে চলে গেছে। দুজন
দুটো চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসলো। রফিকউদ্দিন চিন্তিত, কি বলে ছেলেটা কি
জানি?
‘বাবা, আজ ঈদের দিন। আজ কোন মিথ্যা বলতে নেই। তুমি আমারে সত্য কথাগুলো বলবে।’
‘তর কি হইছে রে বাজান?’
অন্তরের বাবার চোখমুক্ত শক্ত, ‘কিশওয়ারকে চেনো তুমি?’
নামটা শুনেই যেনো আঁতকে উঠলেন রফিক সাহেব, ‘তুই চিনস নাকি?’
‘তার মানে ওকে চেনো তুমি।’
‘হ, চিনি। ক্যান কি হইছে?’
‘তার কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে কত টাকা নিয়েছিলো?’
খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন রফিক সাহেব। কি বলবেন?
‘তরে ক্যাডা কইছে?’
‘যেইই বলুক। কথাটা কি সত্য?’
নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়েন রফিক সাহেব, ‘ঈদের দিন তুই এ কি প্যাঁচাল শুরু করলি রে বাজান?’
‘কিশওয়ারকে তুমি বিদেশে পাঠাতে পারনি। তার টাকাটা যাতে আর ফেরত দেয়া না
লাগে সেজন্য ঠাণ্ডা মাথায় তাকে খুন করেছ। বিষ্টুপুর স্টেশনে পরশু রাতে
তাকে গলা টিপে মেরে রেল লাইনের উপর ফেলে রেখে চলে এসেছ। পরে ট্রেনের নিচে
কাটা পড়ে ওর মৃতদেহটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। লোকেরা জানে কিশওয়ার ট্রেনের
নিচে কাটা পড়ে মরেছে। সেদিন ওর পরনে ছিলো কমলা রঙের এটা শার্ট। কথাগুলো কি
সত্য?’
রফিকউদ্দিনের চোখ ছলছল করছে। মাথা নিচু করে ছেলের সামনে বসে আছেন। কোন
উত্তর দিচ্ছেন না। অন্তরের বাবা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘তার চেহারাটা কেমন
ছিলো বলো তো।’
‘শ্যামলা ভাঙাচোরা একটা মুখ, কপালে বড় একটা কাটা দাগ, একজোড়া গোঁফ, চওড়া মোটা ঠোঁট।’
মুহূর্তের মধ্যে অন্তরের বাবার মাথাটা ঝিলিক দিয়ে ওঠে। কাল রাতে তো অবিকল
ও রকম চেহারার একটা লোকের সাথেই সে কথা বলেছে। তাহলে কি ওই লোকটাই ছিলো
কিশওয়ার? সত্যি কি সে মরেনি? নাকি ও ছিলো তার প্রেতাত্মা! একটা ভুতের সাথে
তার কাল রাতটা কেটেছে!’ মনে পড়তেই গা-টা কাঁটা দিয়ে উঠলো, তবে লোকটা যাই
হোক, সে বড় উপকার করেছে। না হলে হয়তো জানাই হতো না যে তার বাবা সত্যই
একজন খারাপ লোক, খুব খারাপ।
- মেয়েটি মাকড়সা হয়ে গেল - কাজী কেয়া
- কাজলকাকা ভূত নয় - ইমতিয়ার শামীম
- অর্পণের মা - আলী হাবিব
- রাশিয়ান রূপকথা: ধপাস ভালুক - রহীম শাহ
- মুখোশ রহস্য - আহমেদ রিয়াজ
- মুরগী ছানা তিতি - আরিফুন নেছা সুখী
- অহংকারী রাজকন্যা - বিএম বরকতউল্লাহ
- পুতুল ভূত - রানা জামান
- রাখাল ও জাদুর আম গাছ - হুমায়ুন কবীর ঢালী
- দুষ্টু ছানাদের গল্প - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- তুতুন - আল নাহিয়ান
- সাইকেল বাবু - লিটন মহন্ত
- রূপকথা নীল পূর্ণিমার সোমেশ্বরী - রবীন ভাবুক
- পরীরাণী - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- সাদাসোনা মেঘ, নীল ঘুড়ি আর খোলা মাঠে একা ছেলেটা - নূর সিদ্দিকী
- অন্ধকারের এক রহস্যমানুষ আর রাজহাঁস - মিন্টু হোসেন
- চকোলেট দৌড় - সোহানা রহমান
- স্কুলপড়ুয়া পাখি, প্রজাপতি আর ছড়া - মেহেরুবা নিশা
- গরুর ঘায়ে! - আহমেদ রিয়াজ
-
ঝুমি ও একটি কুকুর -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
উপন্যাস: পিশাচ-কন্যা -
সামান্থা লি
রূপান্তর: অনীশ দাস অপু - অক্স ও বুল (সায়েন্স ফিকশন গল্প) - আবুল কালাম আজাদ
- আমি ভূত - সোহানা রহমান
- সবুজ মাঠ - শিবলী নোমান
- মন্দ মানুষ - চন্দন চৌধুরী
- ঈদে মুক্তির আনন্দ - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- জোনাকিদের গ্রহে ভয়েজার ১ - মিন্টু হোসেন
- তর্ক-বিতর্ক - পাভেল মহিতুল আলম
- খরচি মামার সাইকেল - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- লাল জামা - বিএম বরকতউল্লাহ্
- আমার বন্ধু ডোরেমন - আহমেদ রিয়াজ
-
অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস অজানা দ্বীপে অভিযান -
মূল : এডগার অ্যালান পো
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- ঢেউয়ের বন্ধুরা - নূর সিদ্দিকী
- ভাষা - জাহিদুল আলম
- বর্ণান্ধ - মারিয়া হোসেন
- ভূতের সঙ্গে আড়ি - মুহসীন মোসাদ্দেক
- নরহরি দাস - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
- কাকদের পুরীষ উৎসব! - মহিউদ্দীন আহ্মেদ
- সে সত্যিই ছিল একটা বাচ্চা পরি - মেহেরুবা নিশা
-
মেঘকন্যা আর টুনটুনিছানা -
বিএম বরকতউল্লাহ্
- নবম মাত্রার গোবট - ধ্রুব নীল
-
পরী এবং পরিবেশ -
মাহাবুবুল হাসান নীরু
- দুঃখী বুড়ি ও নেংটি ইঁদুর - বিএম বরকতউল্লাহ্
- ভালো 'মন খারাপ' - চন্দন চৌধুরী
- রকির চাওয়া - জুবায়ের হুসাইন
- মৌমাছি ও কাঠুরিয়া - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- ফিরে দেখা - রবীন ভাবুক
- মতির মাথায় গাব - ধ্রুব নীল
- প্রজাপতি হবো - এনায়েত রসুল
- চাঁদনি-হালুয়া - সঞ্চারিণী
- জলে কোলাহল - চন্দন চৌধুরী
- এক টুকরো মেঘ ও দুঃখী গাছ - বিএম বরকতউল্লাহ
- আমার রোবট 'রবি' - মোঃ মিন্টু হোসেন
- কত আটায় কত রুটি - আবুল কালাম আজাদ
- আংটি - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- শহরে একদিন - আহমেদ রিয়াজ
- পল্টুর বন্ধু - আহসান হাবীব
-
হরর গল্প -
মিস্ট্রেস স্যারি মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- নিলেশের অন্য ভূবন - আফরোজা অদিতি
- ভাষার খোঁজে নেপালে - সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
- গিফট - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- ভূত শিকার - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
-
ডানাকাটা পাখি ও সীম বীজ -
চন্দন চৌধুরী
- গোয়েন্দা মেনু'দা - রবীন ভাবুক
- তিনা আর লাল গোলাপ - আফরোজা অদিতি
- পরীটি কি জাদু জানে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- আরকনির রুমাল - মোঃ মিন্টু হোসেন
- পুষ্পিতার ঈদ - আফরোজা আদিতি
- হাতির ডিম - আহমেদ রিয়াজ
- কঙ্ক - শুভ অংকুর
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- প্রান্ত ও তার এ্যাডনোক্সিয়ান বন্ধু (সায়েন্স ফিকশান) - আবুল কালাম আজাদ
- এক যে ছিলো রাসেল - বেবী মওদুদ
- আতঙ্কের প্রহর [রহস্য গল্প] - অনীশ দাস অপু
- ঈদ শপিং - আহসান হাবীব
- উপন্যাস- আলিবাবা ও চালিচার - শিবব্রত বর্মন
- মৌমাছি - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- সূত্রধর স্যার - জাহিদুল আলম
-
কোনো এক অমাবস্যার রাতে -
আহমেদ রিয়াজ
- বিজ্ঞানী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গড়ে আটকা এক নেকড়ে - মোঃ মিন্টু হোসেন
- প্রজাপতি - এনায়েত রসুল
- পরী এসেছিল - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- বিচ্ছু ভাগনের কাণ্ড - জাহিদুল আলম
- নিশান আর ব্ল্যাকহোল - আফরোজা অদিতি
- পরীর বন্ধু অহনা - এনায়েত রসুল
-
স্যারের বিপদ -
জাহিদুল আলম
-
নতুন স্যার -
আবুল কালাম আজাদ
-
মিকাই-এর বাঘের ছানা -
মিন্টু হোসেন
-
আলুভর্তা -
জান্নি রোদারি
অনুবাদ: জামিল বিন সিদ্দিক -
বেকার আয়না -
জাহিদুল আলম
-
একদিন রাতে ধবধবে বিড়ালটা -
আহমেদ রিয়াজ
- অবাক বইপাঠ - মুনির রানা
- জোকার - শিবব্রত বর্মন
- ইঁদুরের ভোজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ভৌতিকবাড়ি - অনীশ দাস অপু
- মেলায় মাঠে পিউস - আফরোজা অদিতি
-
মিস্ট্রেস স্যারি -
মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
ভয়ঙ্কর এক লোক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
তেরো তলা -
মূল : ডন উলফসনে
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
টুঙ্গিপাড়ার খোকা -
বেবী মওদুদ
-
রাতের আতঙ্ক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
বৃক্ষপরী টিয়া -
আফরোজা অদিতি
-
গেকো -
অনীশ দাস অপু
-
ময়না -
আফরোজা অদিতি
-
রাজকন্যা মাঈশা আর বলঢাঁশের গল্প -
আশরাফুল ইসলাম সাগর
-
শেয়াল দেবতার প্রতিহিংসা -
মূল : রবার্ট ব্লচ
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - ফার্স্ট হওয়ার ঝামেলা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- শূন্যে ডানা মেলে - এনায়েত রসুল
-
একটু উষ্ণতার জন্য -
মূল : হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
শামন্তীর শীতবেলা -
মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
রাতের অতিথি -
আহমেদ রিয়াজ
- চৈতি আপু - ইমদাদুল হক মিলন
- তেতুল গাছ - আহসান হাবীব
- টুশির গল্প - বেবী মওদুদ
- চড়ুই পাখিদের ঘরের ঘটনা - ধ্রুব এষ
- বিলাই মা বিলাই ছা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- এক শিশি আলতা - এনায়েত রসুল
- কুলরাজা কুলরাণী - শাশ্বত ভট্টাচার্য
- ছায়ার মানুষ - আহমেদ রিয়াজ
- আলতা কন্যার জন্মদিন - মারুফ রেহমান।
- লেজ উঁচিয়ে - আহমেদ রিয়াজ
- ভৌতিক গল্প : থাবা - অনীশ দাস অপু
- রাজার ঈগল পাখি (কম্বোডিয়ার লোককাহিনী) - অনুবাদ: মৃত্যুঞ্জয় রায়
- আকাশ ছুঁয়ে উড়বো - এনায়েত রসুল
- আবু আর বাবু - বেবী মওদুদ
-
ভূতুড়ে বানর -
মূল : স্টিফেন কিং
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - কার ছবি - ইমদাদুল হক মিলন
- ঝন্টু মন্টুর দাদি - আহসান হাবীব
- সন্ধ্যার বিচিত্র ঘটনা - ধ্রুব এষ
-
তিন রাজপুত্র -
অনুবাদ : শিবব্রত বর্মন
মূল গল্প: আইজাক আসিমভ - নওরিনের স্কুল - এনায়েত রসুল
- বংশী নদীর ঘটনা - হামিদ কায়সার
- মাকড়সার চন্দ্র ভ্রমণ - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ইঁদুর সাহেবার হলিডে - মিজানুর খান
- জাদুর ঢোল - আহমেদ রিয়াজ
- ক্যামডেন কিলার - অনীশ দাস অপু
- পরীর দেশে - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- পিঁপড়ে যখন হাতির বন্ধু - আহমেদ রিয়াজ
- সাগর পরী - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
বৃষ্টি তুমি এসো না -
অনীশ দাশ অপু
মূল রচনা: আইজাক আসিমভ - ঝমঝমে আষাঢ়ে - আহমেদ রিয়াজ
-
ভৌতিক হাত -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প: কার্ল জ্যাকবির ‘দ্য হ্যান্ড’ -
বাবার জন্য ভালোবাসা -
মুহাম্মদ নাহিয়ান বিন খালেদ
- সেন্টমার্টিনে বাবার সাথে - জারিন তাসনিম অতসী
-
ভৌতিক ঘুড়ি -
অনীশ দাস অপু
মূল: কার্ল জ্যাকবি’র ‘দ্যা কাইট’ - ফুটবল প্রেমিক - রাশেদ শাওন
- ঘটনাটা সত্য - এনায়েত রসুল
- ভুতুড়ে বাড়ি - অনীশ দাস অপু
- ইচ্ছাপূরণ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- মায়ের কাছে ফেরা - বেবী মওদুদ
- স্বপ্ন - শিবব্রত বর্মন
- মেলায় যাবো - এনায়েত রসুল
- কুমড়ো দানব - অনীশ দাস অপু
- আসলে ছবিটা মেঘের - ধ্রুব এষ
- কাশেম আলী গরু চরাতো - আনিসুল হক
-
অদৃশ্য শত্রু -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : ফিলিপ কে. ডিক - জাদুকর - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
-
জানের দুশমন -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : হেনরি কুটনার - ভালোবাসার সবুজ গাছ - ইমরুল ইউসুফ
- বড়দিনের রাতে - অনীশ দাস অপু
- দেহহীন - শিবব্রত বর্মন
- নীলুর নীল চশমা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- রহস্যভেদী - রকিব হাসান
- দুষ্টু বিড়াল - অনীশ দাস অপু
- অপেক্ষা - মোস্তফা মামুন
- ঈশানপুরের অপুর কান্ড - সুমন কায়সার
- রাজা যখন গাছে - আহমেদ রিয়াজ
- অন্যরকম ভালোলাগা - শুভ অংকুর
- পৃথিবীর জন্য ভালোবাসা (সায়েন্স ফিকশন) - শুভ অংকুর
- কিং মিঠু - মোস্তফা মামুন
- প্রেতাত্মা - অনীশ দাস অপু
- রোবট - আনিসুল হক
- চতুর্দশতম/চৌদ্দ - নঈম তারিক
- জিকুর স্বপ্ন - আহসান হাবীব
- চোর - রকিব হাসান
- ছায়াহীন - শিবব্রত বর্মন
- ঈদের আগের রাত - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
মেরু ভালুকদের রাজা -
মূল : ফ্রাঙ্ক বাউম
ভাষান্তর : বিদ্যুত - গাধার টুপি - আহমেদ ফারুক
- আলসে বালক আর গরুর গল্প - মো. গোলাম রহমান
- অতি চালাকির সাজা! - এনায়েত রসুল
- মাছরাঙা আর রূপোর চামুচ - মোস্তফা হোসেইন
- হাবা রাকিবের কাণ্ড - মারুফ রেহমান
- বিড়ালের বন্ধুত্ব - রূপান্তর : আবুল বাসার
- গণেশ চ্যাটার্জি আর তার কালো কুকুর - নাফে মোহাম্মদ এনাম
- শিউ-পিউর বন্ধু তানতুলু - নূর সিদ্দিকী
- মেছোভূত - ইকবাল খন্দকার
- অ্যারোসল ভূত - শাকিল ফারুক
- পাঠশালা - আহমেদ রিয়াজ
- যুদ্ধের গল্প - ফরহাদ সাফায়েতুল কবীর
- বোকাতু - আরিফ হাসান
- রূপকথার ইলিশ - অর্জিতা মাধুর্য
- সীনের বাবা সীনের মা - আহমেদ রিয়াজ
- চাঁদ - পান্থ বিহোস
- মায়ের ভাষা - মুহাম্মদ মুনতাসির আলী
- জিন্নাহ'র না জানা গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আ হ মে দ ফা রু ক
- উপহাস - আহমেদ রিয়াজ
-
ড্রাগনের যম ইভান -
মূল : ভ্লাদিমির বাইকো
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমি - টিনা আপুর জাদুর কাঠি - এনায়েত রসুল
- তারা পড়তে দেখলে - ধ্রুব এষ
- বাঘ-সিংহের গল্প - আহমেদ রিয়াজ
-
লুকোচুরি -
নিকোলাই নসভ
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমী - রহস্যময় কিশোর যোদ্ধা - আহমেদ রিয়াজ
- অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয় - বিজয় মজুমদার
- তিন ভূতুড়ে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- মরগানস উডসের ভূত - অনীশ দাস অপু
- মহাকাশে সু ভূতের অভিযান - বিধান রিবেরু
- জামাটা কোথায় গেল - আহমেদ রিয়াজ
- মি. হাকলি - নূর সিদ্দিকী
- বুলেট ভাইয়ের হাইজাম্প - মোস্তফা মামুন
-
একা কবরস্থানে -
মূল : অ্যালভিন শোয়ার্জ
অনুবাদ : হাসান খুরশীদ রুমী - তৈল মর্দন - সজ্জাদ কবীর
- ঝিন্টু - মানিক চন্দ্র দাস
- রবীন-মাহিনের মুক্তি... - আহসান হাবীব
- মামার ঘড়ি - পান্থ বিহোস
- তৃষার ভালো লাগা - এনায়েত রসুল
- খরগোশের টাকা চাষ - ভাষান্তর- মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ঈদের চাঁদ - আশীষ চক্রবর্ত্তী
-
স্টোরিটেলার -
নিকোলাই নসভ
রূপান্তর : হাসান খুরশীদ রুমী - একটা গাছের চারা - আশরাফুল আলম পিনটু
- পাহাড় যখন সরে যায় - আমীরুল ইসলাম
- ঝিম দুপুরের গল্প - শাকিল ফারুক
- জেলে আর সোনার মাছ - রহীম শাহ
- কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা - বিজয় মজুমদার
- পুতুল - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
হানাবাড়ির উন্মাদ -
মূল : ইলেন এ. কিউল
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - চ্যালেঞ্জ! - রকিব হাসান
- রাজা এলেন - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চুরি বিদ্যা বড়ো বিদ্যা - মোস্তফা মামুন
- আসলে কী ঘটেছিল - ইমদাদুল হক মিলন
- শিয়াল রাজার সাজা - এনায়েত রসুল
- রূপোলি রেণু - আলী ইমাম
- প্যালিনড্রোমিক ফর্ক... - আহসান হাবীব
- ঘড়ি উদ্ধার - আহমেদ রিয়াজ
- অপু আর তপু - আশরাফুল আলম পিন্টু
- সাদা মেঘ ও কাশফুলেরা - আহমেদ রিয়াজ
- মনের ভয় - ফাতেমা ফেরদৌস (পিংকি)
- চাঁদের বন্ধু খরগোশ - রেহানা পারভীন রুমা
- দুষ্টু টুলু - এনায়েত রসুল
- রেডিও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু - আহমেদ ফারুক
- আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- সুন্দর - মঈনুল আহসান সাবের
-
ছোট্ট তুষারমানব -
কোরিয়ার রূপকথা
রূপান্তর : মো. গোলাম রহমান - ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি - এনায়েত রসুল
- এটা আমার বাবার গল্প, মায়েরও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চাষা ও তার গরু - আহমেদ রিয়াজ
- সহকারী গোয়েন্দা - মোস্তফা মামুন
- লাল বেলুন - আমীরুল ইসলাম
- ডান-বাম - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
শেষ যাত্রা -
মূল : কার্ল জ্যাকবি
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - লিটুর ঘুম আসে না - মোস্তফা মামুন
- ভূতটা খোলা মাঠে একা শুয়ে আছে - আহমেদ রিয়াজ
- কিসমতের বিচার - হুমায়ূন কবীর ঢালী
- নিপুর আশ্রয় - এনায়েত রসুল
- দুই ভূতের কান্ড - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
কান্নার দাগ -
আফ্রিকার রূপকথা
রূপান্তর : আবুল বাসার - নূরী ও পরী - আহমেদ রিয়াজ
-
প্রকৃতি কন্যার দোলনা ঘর -
শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- ছোট্ট জাদু-নুড়ি - আমীরুল ইসলাম
- জাদুর আয়না - রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আহমেদ ফারুক







