শিবব্রত বর্মন
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চোর এসে এহতেশাম আখনজির ছায়া চুরি করে নিয়ে গেছে।
চোরের আর দোষ কী, সে এসে সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে নেবার মতো কিছুই পায়নি। সিঁদেল চোর। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার অমানুষিক কষ্টে পৌনে সাত ফিট লম্বা একটি সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে, সেটা কি তার ভাত খাওয়ার টিনের থালা আর ওজু করার বদনাটা নেবার জন্য? সারা বাড়িতে হাতে তোলার মতো আর একটা জিনিসও কি থাকবে না? কৃপণ বলে এমনই কৃপণ! রাগে ব্রহ্মতালু গরম করে চোর ঘুমন্ত আখনজির ছায়াটা চুরি করে নিয়ে গেছে।
এর ফলাফল এই যে, এরপর থেকে এহতেশাম আখনজির আর ছায়া পড়ে না। ভরদুপুর, কী বিকেলে তিনি যখন রাস্তা হাঁটেন, তখন রোদের বিপরীত দিকে রাস্তার উপর তার কোনো ছায়া পড়ে না। ব্যাপারটা জেনে যাওয়ার পর প্রথমটায় আখনজি তেমন একটা উদ্বিগ্ন হননি। তিনি বরং কিছুটা ভারমুক্তই বোধ করেছিলেন। মানুষের ছায়া মানুষের তেমন তো কোনো উপকারে লাগে না। খামাখা বাড়তি একটা জিনিস বয়ে বেড়ানো। ভেবে দেখলে পৃথিবীতে প্রত্যেক ব্যক্তির, প্রত্যেক প্রাণীর এমনকি প্রত্যেক বস্তুর নিজস্ব একটা করে ছায়া আছে বটে, কিন্তু থাকতেই হবে এমন তো নয়। না থাকলে কী ক্ষতিবৃদ্ধি!
ফলে ছায়াহীন দিনগুলো প্রথমটায় তার খুব ফুরফুরে মেজাজেই কেটেছে। ছায়া না
থাকার উপকারিতা তিনি নানান জনকে বুঝিয়ে বেরিয়েছেন। তবে সেটা মাত্র ছয়
দিনের জন্য। সাত দিনের মাথায় কেমন একটা অস্বস্তি ভর করতে শুরু করে আখনজির
মনে। সেটা যে ঠিক কী, ব্যাখ্যা করা খুবই মুশকিল। ব্যাংকে না রেখে তোষকের
নিচে পাঁচশ টাকার দশটা নোট রেখে ঘুমানোর উদ্যোগ নেয়ার মতো একটা অস্বস্তি।
কিংবা ঠিক তাও না, একটা অপরিচিত লোক পিছু নিয়েছে বলে মনে হওয়ার পর অচেনা
একটা শহরের রাস্তায় হাঁটতে যেমন লাগে, তেমন...না ঠিক তেমনও না। অন্ধকারে
এমন একটা লিচু খাওয়ার মতো অনুভূতি, যেটার গোড়ার দিকে অন্তত দুটা সাদা পোকা
আছে বলে মন খচখচ করতে থাকে। না, সেরকমও নয়। মোটা দাগে বুঝিয়ে বললে
ব্যাপারটা কিছুটা এরকম দাঁড়ায় যে, ছায়া ছাড়া কেমন ফাঁকা ফাঁকা, একা একা
বোধ করতে শুরু করলেন আখনজি। কেমন অন্যমনস্ক হয়ে যেতে থাকলেন। দশম দিন থেকে
তিনি বলতে শুরু করলেন, ছায়া ছাড়া দেহ আসলে অর্থহীন। আর এই ব্যাপারটা তিনি
আগে বুঝে উঠতে পারেননি। আরো নানারকম দার্শনিক কথাবার্তা বলতে শুরু করলেন
তিনি, সেগুলো বোঝা খুব শক্ত। আখনজি কথা ভালো বুঝিয়েও বলতে পারেন না।
চতুর্দশ দিনে আখনজি অনুভব করতে শুরু করলেন, তার আসলে কোনো চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। চেনাজানা লোকেরাও সেই কথাই বললো। মফস্বল শহরে
সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনের ডাক্তারের তো বালাই থাকে না। এহতেশামজি গেলেন
দাঁতের ডাক্তার রাজিব আরসালানের কাছে, যাকে কমবয়সীরা আড়ালে ‘রাজিব
দরদালান’ বলে ডাকে। চিকিৎসক হলেও সব বিষয়ে বিস্তর বইপত্র পড়ার বাতিক আছে
আরসালানের। তার ঘরের চারপাশে দেয়ালভর্তি নানারকম বইপত্র। দাঁত দোলার বাইরে
তিনি প্রায় সারাদিনই সেগুলোর মধ্যে ডুবে থাকেন। সে কারণেই সন্ধ্যার পর
বড়বাজারে মোটা নিমগাছের নিচে তার একতলা চেম্বারে যাওয়া। তো, চেম্বারে
মুখোমুখি বসে আখনজি আর ডাক্তার আরসালানের মধ্যে যেসব কথাবার্তা হলো তা
অনেকটা এরকম :
ডাক্তার : আপনি বলছেন আপনার কোনো ছায়া পড়ে না?
আখনজি : না।
ডাক্তার : রোদের মধ্যে দাঁড়ালেও না?
আখনজি : না।
ডাক্তার : বাতির আলোয়?
আখনজি : তাও না। ইলেকট্রিক লাইট, বা মোমবাতির আলো, কোনোটাই না।
ডাক্তার : আচ্ছা দাঁড়ান তো এই দেয়ালটার সামনে, আমার চার ব্যাটারির চাইনিজ
টর্চটা মেরে দেখি....আরে তাই তো! দেয়ালে তো কোনো ছায়াই পড়ছে না!
ইন্টারেস্টিং।
আখনজি : আমি কি এমনি এমনি বলছি নাকি!
ডাক্তার : তা ছায়া না পড়লে নাই পড়লো, তাতে সমস্যাটা কী?
আখনজি : সমস্যাটা কী বোঝানো মুশকিল। আমার সারাক্ষণ কেমন ফাঁকাফাঁকা লাগে।
ডাক্তার : কেন?
আখনজি : ছেচল্লিশ বছর ধরে একটা জিনিস ছিল আমার সঙ্গে। দিন নেই রাত নেই,
আমাকে নিঃস্বার্থভাবে সঙ্গ দিয়ে গেছে। এখন হুট করে সেটা নেই হয়ে যাবে, এটা
হতে পারে!
ডাক্তার : তা তো বটেই। ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক।
আখনজি : শুধু সেটা হলেই কথা ছিল না, আরো সমস্যা আছে। ছায়া না থাকার কারণে
কোনো দেহ না থাকলে যেরকম অস্বস্তি লাগে, সেরকম অস্বস্তি লাগছে আমার।
নিজেকে কেমন অদৃশ্য অদৃশ্য লাগছে।
ডাক্তার : সেটা কেন?
আখনজি : আচ্ছা ভেবে দেখুন, একটা জিনিসের ছায়া কেন পড়ে? সায়েন্টিফিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করুন।
ডাক্তার : আলো বাধা পায় বলে ছায়া পড়ে। আপনার দেহ যতোটা অংশ জুড়ে, ততটা
অংশের মধ্যে দিয়ে আলো যেতে পারে না। বাকি চারপাশ দিয়ে বাতাস ভেদ করে আলো
চলে যায়। আর এ কারণে আপনার দেহের অবয়বের মাপে একটা ছায়া পড়ে আলোর উৎসের
উল্টোদিকে।
আখনজি : এখন, আমার ছায়া পড়ছে না মানে হলো আমার দেহের ভিতর দিয়েও আলো চলে যাচ্ছে। যাচ্ছে কিনা বলুন?
ডাক্তার : যাচ্ছে।
আখনজি : মানে আমি স্বচ্ছ। বাতাস যেমন স্বচ্ছ, ঠিক তেমন। স্বচ্ছ হওয়ার মানে কিন্তু অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। বাতাস যেমন অদৃশ্য।
ডাক্তার : যুক্তিতে তো সেরকমই দাঁড়ায়।
আখনজি : এখন যে জিনিসটা স্বচ্ছ, মানে অদৃশ্য, মানে দেখা যায় না, সেই জিনিসটা আছে না নেই, সেটা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হতেই পারে।
ডাক্তার : পারে তো।
আখনজি : মানে জিনিসটা যে আছে, এরকম পাকা, অকাট্য প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তো ধরেই নিতে হবে যে, নেই।
ডাক্তার : সেরকমই তো কথা।
আখনজি : তো সেই কারণেই, আমি আছি না নেই, এই ধন্দ কাটাতে পারছি না।
এরপর এহতেশাম আখনজি যেসব কথা বললেন, তাতে ডাক্তার রাজিব আরসালানের মাথা
কেমন ঝিমঝিম করতে লাগলো। ওইদিন আরো চারজন রোগী বাইরে কাঠের চেয়ারে বসে
অপেক্ষা করছিল। দুজন প্রচণ্ড দাঁত ব্যাথায় কোঁকাচ্ছিল। বাকি দুজনের অর্ধেক
রুট ক্যানাল করা হয়েছে। তিনি সবাইকে বিদায় করে দিয়ে গটগট করে বাসায় চলে
গেলেন। বাসায় গিয়ে তিনি কালো চামড়ায় মোড়ানো একটা ঢাউস বই বের করে পড়তে
শুরু করলেন। বইটার নাম “অ্যাপিয়ারেন্স অ্যান্ড রিয়ালিটি”। টানা চারদিন
বইটা তিনবার পড়ার পর অবশেষে তিনি যখন বই বন্ধ করলেন, তখন টের
পেলেন তার
চোখের পাতা আর বন্ধ হচ্ছে না। পুরনো ট্রেনের বগির মরচে পড়া কব্জায় দরজা
আটকে গেলে যেমন হয়, সেরকম তার চোখের পাতা আটকে গেছে। বিস্ফারিত চোখে
নির্নিমেষে জগতের অ্যাপিয়ারেন্স এবং রিয়ালিটি বিরতিহীন দেখে যেতে বাধ্য
হতে লাগলেন তিনি।
তবে ডাক্তার আরসালানের গল্প পরে বলা যাবে। আমরা আপাতত ছায়াবঞ্চিত এহতেশাম আখনজির পরিণতির দিকে মনোযোগ দেই।
ছায়া না থাকার কারণে নানারকম দার্শনিক প্রশ্ন আখনজির মাথায় উঁকি দিতে
থাকলো। পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপার ঘটলো তার মধ্যে। তিনি লক্ষ্য করলেন, তার
পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে। এমন অনেক বিষয় তিনি এখন লক্ষ্য করেন,
যেগুলো আগে তেমন একটা চোখে পড়তো না। কারোই চোখে পড়ে না। হয়তো ছায়া না
থাকলেই কেবল এইসব বিষয় চোখে পড়ে। আখনজি লক্ষ্য করলেন, ছায়া সংক্রান্ত্র-
জটিলতায় ভোগার ব্যাপারে তিনি মোটেও একা নন। তার আশপাশেই আরো বহু লোক এরকম
সমস্যা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা কাউকে কিছু বলে না বলেই কারো চোখে পড়ে
না। যেমন, আখনজি লক্ষ্য করলেন গুড়পট্টির উল্টোদিকে লেদমেশিনের দোকানটার
ম্যানেজার সাহেব, যার নাকে একটা জড়-ল, তারও কোনো ছায়া পড়ে না। রেলগেটের
পাশে সাইকেলের দোকানদার লোকটা, যিনি কিনা খুবই লম্বা, অথচ সবাই যাকে খাটো
বলে ভুল করে, সেই কর্পুর সামনে-র সমস্যাটা আরো গভীর। তার ছায়াটা ধীরে ধীরে
ফিকে হয়ে আসছে। অর্থাৎ ছায়াটা একবারে বিদায় না নিয়ে আসে- আসে- বিদায়
নি"েছ। প্রখর রোদেও তার ছায়া জোৎস্নার আলোয় পড়া ছায়ার মতো ম্যাড়ম্যাড়ে
লাগে। আর তাদের সমাজকল্যাণ অফিসের পিয়ন আনোয়ার পাশার ব্যাপারটা তো আরও
অদ্ভুত। আনোয়ার পাশা লোকটা বেজায় মোটা। অথচ তার ছায়াটা পড়ে একেবারে
লিকলিকে একটা মানুষের। দেখে মনে হয়, ছায়াটা বোধ হয় ভুলে অন্য কারো সাথে
বদল হয়ে গেছে। মহিমগঞ্জের হাটে আখনজি এমন একটা লোককে আনমনে হাঁটতে
দেখেছেন, দিনের বেলা রোদের মধ্যে যার দুটো ছায়া পড়ছিল। একটা শরীরের দুটো
ছায়া, দুটো দুরকম, কী অদ্ভুত! আরো অদ্ভুত একটা ঘটনা দেখে তো আখনজির চক্ষু
চড়কগাছ। যশোর বাসস্ট্যান্ডে তিনি এমন একটা লোককে দেখেছেন, যার শুধু ছায়াটা
আছে, দেহটা নেই। অর্থাৎ কোনোভাবে লোকটার দেহ চুরি হয়ে গেছে, ছায়াটা থেকে
গেছে। এটা কিভাবে ঘটতে পারে বা দেহ ছাড়া ছায়াটার চলতে ফিরতে সমস্যা হচ্ছে
কিনা, বা একা একা লাগছে কিনা, এসব কথা তিনি লোকটাকে (বা ছায়াটাকে) জিজ্ঞেস
করবেন বলে স্থির করেছেন কি করেননি, ততক্ষণে লোকটা নড়াইলগামী একটা বাসে উঠে
বসেছে এবং বাসটা ছেড়ে দিয়েছে। তিনি অবশ্য পেছন পেছন দৌড়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু খুব ভিড়অলা বাসে এমনকি পাদানিতে পা রাখারও অবস্থা ছিল না। তিনি
দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছেন, অপসৃয়মান বাসের জানালার ধারে বসে ‘ছায়াসর্বস্ব’
লোকটা তার দিকে স্থির চেয়ে আছে। লোকটার চোখে তিনি এমন এক হতাশা, এমন এক
লুকানো দীর্ঘশ্বাস দেখেছেন, যা তিনি আর কখনও কোথাও দেখেননি।
ছায়া হারানোর পর এভাবে ধীরে ধীরে একটা গোপন জগৎ স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকলো
আখনজির সামনে। সেই জগৎটা আমাদের চারপাশেই আছে, কিন্তু আমরা সেটা লক্ষ্য
করি না। লক্ষ্য করার সময় পাই না। আখনজি সেটা লক্ষ্য করতে থাকলেন বলে তার
হতাশা বা মন খারাপ ভাব যে একটু কমলো, তা মোটেও নয়। বরং আরো দ্বিগুণ হলো
তার আক্ষেপ। ছায়াহীনতা তার অসহ্য লাগতে লাগলো। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের
একটা উপায় তিনি খুঁজতে শুরু করলেন।
অবশেষে একদিন বিকালবেলা তিনি যখন গুমটি ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে ফেরিঅলার কাছ
থেকে পেঁপে খাচ্ছেন, ঠিক তখনই চিন্তাটা তার মাথায় এলো : আচ্ছা, এই যে,
চোরেরা যে ঘটিবাটি, স্যান্ডেল, টু ব্যান্ডের রেডিও, তারে শুকানোর জন্য
নেড়ে দেওয়া আলোয়ান এসব চুরি করে, চুরি করার পর সেগুলো নিয়ে তারা কী করে?
নিশ্চয়ই কোথাও বেচে দেয়। নাহলে তো এসব জিনিসে তাদের ঘর ভরে যাওয়ার কথা।
নিশ্চয়ই বেচে দেয়! কারো কাছে বেচে দেয়। কোনো দোকানদার সেগুলো কিনে নেয়।
তো, সেই যে বদমায়েশ, পাষণ্ড চোরটা তার ছায়া চুরি করে নিয়ে গেছে, সে কি আর
এমনি এমনি সেটা নিয়ে গেছে। কোথাও বেচে দেওয়ার জন্যেই নিয়ে গেছে নিশ্চয়ই।
তার মানে এই শহরেই কোথাও ছায়া কেনাবেচার কোনো দোকান আছে। থাকতেই হবে। আলবৎ
আছে! নাহলে তার ছায়াটা চুরি হতোই না।
এই চিন্তা মাথায় আসায় পর বিচলিত হয়ে উঠলেন আখনজি। দুই টুকরো পেঁপের দাম না
দিয়ে তিনি উদগ্রীব হয়ে হেঁটে চলে গেলেন। পেঁপেঅলাও তার কাছে থেকে টাকা
চাইলো না। কেননা সেই মুহূর্তে জীবনের অর্থহীনতা বিষয়ক এক জটিল চিন্তায়
আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল পেঁপেঅলা এবং তার সবগুলো পেঁপেসহ পুরো
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যে এক বিশাল মায়া এই গভীর সত্যে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল সে।
এরকম মুহূর্ত একজন মানুষের জীবনে কালেভদ্রে আসে।
পরের কয়েকটা দিন আখনজি আতিপাতি করে খুঁজতে শুরু করলেন সেরকম একটা দোকান,
যেটা ছায়া বিক্রি করে। কাজটা যে সহজ হবে না, তা তিনি গোড়াতেই ধরে
নিয়েছিলেন। প্রথমত, এরকম একটা দোকান থেকে থাকলে, সেটা ছায়া হারানোর আগেই
তার চোখে পড়ত। ছোট্ট মফস্বল একটা শহরে কয়টাইবা আর দোকান থাকে!
“ছায়াবিতান”, “ছায়ালয়” “ছায়াঘর” এরকম কোনো সাইনবোর্ড তার কোনোদিনই চোখে
পড়েনি। নদীর ধারে একটা হলুদ বাড়ি চোখে পড়েছে বটে, যেটার গেটে মার্বেল
পাথরের ফলকে লেখা, “ছায়াবীথি”। তবে আখনজি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ওই বাড়িতে এক
রিটায়ার্ড জেলা জজ আর তার পোষা বিড়াল ছাড়া আর কেউ থাকে না। জজ সাহেবের
একটা চোখ আর তার বেড়ালের একটা পা নেই বটে, তবে এটুকুই। ছায়া সংক্রান্ত
কোনো জটিলতা তাদের নেই।
কাজেই আখনজি ভেবে দেখলেন, ছায়া বিক্রির দোকান নিশ্চয়ই গোপন, “আন্ডারকাভার”
হবে। মানে, সাইনবোর্ডে তো উল্লেখ থাকবেই না, এমনকি বাইরে থেকে দেখেও বোঝার
কোনো উপায় থাকবে না যে, সেটা একটা ছায়া বিক্রির দোকান। সেরকম একটা দোকান
খুঁজে পাওয়ার কোনো উপায় তো চোখে পড়ছে না।
ভাবতে ভাবতে একটা উপায় উঁকি দিল আখনজির মনে। অফিসের পিয়ন আনোয়ার পাশাকে
ধরলেন তিনি। সেই আনোয়ার পাশা, যারা ছায়াটা তার দেহের সঙ্গে মেলে না।
সরাসরি তো আর বলা যায় না। একথা-সেকথার মাধ্যমে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেক পরোক্ষ
ভঙ্গিতে কথাটা বললেন আখনজি, সেটা এতো পরোক্ষ যে প্রায় বোঝাই যায় না, কী
প্রসঙ্গে বলা। আর আনোয়ার পাশাও এমন ঘুরিয়ে পেচিয়ে এতো দূর দিয়ে, এমন
পরোক্ষভাবে জবাবটা দিলো যে, সেটা যে একটা জবাব বোঝার উপায় নেই।
আনোয়ার পাশার এইসব অনিশ্চিত কথাবার্তার সূত্র ধরে আখনজি একদিন ভরদুপুরে
অফিস ফাঁকি দিয়ে গিয়ে হাজির হলেন রেললাইনের উল্টোদিকে বড় শিরিষ গাছের নিচে
একটা ছাতার দোকানে। বাইরে সাইনবোর্ডে দোকানটার নাম লেখা “ছত্রধর”। ভেতরে
খোলা আলমারিতে, কাঠের পাটাতনে নানারকম ছাতা সাজানো : টিপছাতা, ডাঁটওয়ালা
ছাতা, কালো রঙের ছাতা, ফুল আঁকা চাইনিজ ছাতা আবার ওয়াকিং স্টিক ছাতা। ছাতা
যে এতো বিচিত্র রকম হতে পারে, সেটা জানা ছিল না আখনজির। কিন্তু দোকানটায়
অস্বাভাবিক কিছুই নেই। কাউন্টারে একটা মাঝবয়েসী টেকো লোক বসে আছে। তার
মধ্যেও অস্বাভাবিক কিছুই নেই। লোকটা না লম্বা, না খাটো, না মোটা, না সরু।
সবকিছু মাঝারি। আর আখনজি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে লোকটা যেভাবে হেসে সম্ভাষণ
জানালো, আর দশটা
দোকানেও সেভাবেই সম্ভাষণ জানানো হয়ে থাকে।
দোকানি আখনজিকে জিজ্ঞেস করলো , “কোন ধরনের ছাতা দেখাবো, স্যার?”
আখনজি একবার ভাবলেন ফিরে যান। কিন্তু তিনি সাহস সঞ্চয় করে আনোয়ার পাশার শিখিয়ে দেওয়া কথাটা বলে ফেললেন।
“আমার এমন একটা ছাতা দরকার যেটা বৃষ্টির সময় রোদ ঠেকায়, আর রোদের সময় বৃষ্টি।”
লোকটা কাউন্টার ছেড়ে আখনজির দিকে এগিয়ে আসছিল। কথাটা শোনামাত্র হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। চোখ পিটপিট করে আখনজির দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।
তারপর আখনজিকে ভেতরে রেখে দোকানের সাঁটার লাগিয়ে দিল বিকট “ঘড় ঘড়” শব্দে। শব্দটা এতো জোরালো হলো যে, আখনজির কলজে কেঁপে গেল।
তারপর লোকটা বলল, “এদিকে আসুন।”
আখনজি কোন দিকে যাবেন বুঝতে পারলেন না। শুধু লোকটার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকলেন।
লোকটা এক কোণায় রাখা একটা ছাতার ডাট নাড়িয়ে দিলো। আর তাতে বিপরীত দিকের
দেয়াল সরে যেতে লাগলো নিঃশব্দে। দেয়াল পুরো সরে গেলে দেখা গেল, ওপাশে বড়
একটা চোরা কুঠুরি।
তারা দুজনাই সেই কুঠুরিতে পা রাখলেন।
আখনজি দেখলেন, আলোঝলমল এই কুঠুরিতেও বহু আলমারি থরে থরে সাজানো। দেরাজে
দেরাজে ভাজ করা সুদৃশ্য প্যাকেট। কেউ বলে না দিলেও আখনজি টের পেলেন এই সব
প্যাকেটেই পুরে রাখা হয়েছে মানুষের ছায়া। ঠিক যেভাবে রেইনকোট বা
ম্যাকিনটোশ ভাঁজ কোরে ছোট প্যাকেটে রাখা হয়, সেভাবে ভাঁজ করে রাখা
ছায়াগুলো।
লোকটা গম্ভীরভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “সাইজ কতো?”
এই তো বিপদ! নিজের ছায়ার সাইজ তো আখনজির জানা নেই। আর ছায়ার কী নির্দিষ্ট
সাইজ থাকে নাকি। দুপুরবেলা আর বিকালবেলার ছায়া তো দুরকম সাইজের হয়।
আখনজি অনেক বিতং করে লোকটাকে যেটা বোঝানোর চেষ্টা করলেন, সেটা হলো, তিনি
আসলে নিজের হারিয়ে যাওয়া ছায়াটাই কিনতে এসেছেন। তিন মাস আগে এক সিঁদেল চোর
ছায়াটা চুরি করে নিয়ে গেছে। সে যদি এই দোকানে ছায়াটা বিক্রি করে দিয়ে
থাকে, তবে সেটা তিনি আবার কিনে নিতে চান। লোকটা বুঝলো বলেই মনে হলো। ফলে
প্রতিটি আলমারির প্রতিটি তাকে রাখা প্রতিটি প্যাকেট খুলে খুলে ভাজ করা
ছায়া বের করে দেখা হলো।
না। আখনজির ছায়াটি নেই।
এর মানে, হয় চোর ছায়াটা এখানে বিক্রি করেনি, নতুবা বিক্রি করেছিল, তবে ছায়াটা অন্য কেউ এখান থেকে কিনে নিয়ে গেছে।
এখন কী করা!
দোকানি লোকটা বেশ ঠাণ্ডা মাথার আর সহমর্মী। সে পরামর্শ দিলো, যতোদিন না
তার ছায়াটি এই দোকানে আসছে, বা কে সেটা কিনেছে, তিনি খুঁজে বের করতে
পারছেন, ততদিন কাজ চালানোর জন্য তিনি এখান থেকে একটা ছায়া কিনে নিয়ে যেতে
পারেন। (দোকানি অবশ্য বলেছিল, “কিনে ব্যবহার করতে পারেন”। কিন্তু ছায়া
“ব্যবহার করা” কথাটা দিয়ে যে ঠিক কী বোঝায়, আখনজির কাছে পরিস্কার হয়নি।)
কারণ ছায়া ছাড়া তো আর বেশিদিন চলা যায় না!
কথাটা আখনজির মনে ধরলো।
“তা আমি চাইলেই ছায়াটা বদলে নিতে পারবো তো? মানে ধরুন, যখন আমার ছায়াটি
পেয়ে গেলাম, তখন? বা এই ছায়াটা আমার পছন্দ না হলে আমি বদলে আরেকটা ছায়া
নিয়ে যেতে পারবো তো?”
“নিঃসন্দেহে। এটা কোনো ব্যাপারই না। আগেরটা ফেরত দিয়ে নতুনটা নিয়ে যাবেন, ঠিক যেভাবে মানুষ জুতা বদলায় সেভাবে। আমরা মেমো দিয়ে দেবো।”
বেশ ভালো বন্দোবস্ত তো!
আখনজি আশ্বস্ত হলেন।
তারপর তিনি ছায়া পছন্দ করতে শুরু করলেন। এই কাজটা তার খুবই কঠিন মনে হলো।
ছায়া যে ঠিক কিভাবে বাছতে হয়, মানে একটা ছায়ার তুলনায় আরেকটা ছায়ার
ভালোমন্দ যে ঠিক কিভাবে আলাদা করতে হয়, সেটা তার জানা নেই। অনভ্যস্ততা।
হয়তো শিগগির তিনি শিখে নেবেন।
এভাবে বাছতে বাছতে তিনি একটা ছায়া পছন্দ করলেন। মানে পছন্দ হয়েছে বলে ভাণ করলেন।
ছায়াটা মোটামুটি তার শরীরের সঙ্গে যায়। আনোয়ার পাশার মতো ওরকম বেঢপ, বে-ফিট দেখাবে না।
দাম?
কিভাবে দামাদামি করবেন?
আনোয়ার পাশা বলে দিয়েছিল যে, দোকানটার সব ভালো। শুধু একটা জিনিস ছাড়া।
ব্যাপক দর কষাকষি করতে হয়। আনোয়ার পাশা অবশ্য দরকষাকষির বদলে “মুলামুলি”
শব্দটি ব্যবহার করেছিল।
আখনজিও তুমুল মুলামুলি করলেন।
তারপর দাম মিটিয়ে ছায়াটা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।
পরের একটা মাস আখনজির মোটামুটি ভালো কাটলো।
নতুন ছায়া নিয়ে তিনি কিছুটা উচ্ছ্বসিত ভাব দেখালেন। নানাভাবে ঘুরিয়ে
ফিরিয়ে তিনি ছায়া দেখেন। দুপুরে বা বিকালে হাঁটার সময় তাকে সর্বদা দেখা
যায়, নিচে ছায়ার দিকে চেয়ে হাঁটছেন। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা যে ঘটলো না, তা
নয়। বাসায় চেয়ারে বসে তিনি মোমের আলোয় দেয়ালে পড়া অস্থির কাঁপাকাঁপা ছায়ার
দিকে তাকিয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে সেটার দিকে চেয়ে হাত নাড়েন। ছায়াটিও হাত
নাড়ে।
কিন্তু এক মাস মাত্র।
তারপর আখনজি অনুভব করতে শুরু করলেন, ছায়াটি তাকে ঠিকমতো “স্যুট” করছে না।
এমনিতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি যা করেন, ছায়াও তাই করে। কিন্তু কেমন যেন
অনীহা নিয়ে করে। করার যেন মোটেও ইচ্ছা নেই। ছায়ার এই অবাধ্যতা এতোই সূক্ষ
যে, কাউকে বলে বোঝানো মুশকিল।
ধীরে ধীরে আখনজির অস্বস্তি বাড়তে থাকলো। সেটা এমন পর্যায়ে গেল যে, আখনজি
ঠিক করলেন, ছায়াটি তিনি ফেরত দিয়ে আসবেন। অন্যের ছায়া নিয়ে চলার চেয়ে,
কোনো ছায়া না থাকা বরং ভালো। যতোদিন নিজের ছায়াটি ফেরত না পাচ্ছেন, ততদিন
তিনি বরং ছায়াহীন অবস্থায় প্রতীক্ষা করবেন।
ছায়া ফিরিয়ে দিতে আখনজি রেললাইনের উল্টোদিকে শিরিষ গাছের তলায় গেলেন।
কিন্তু গিয়ে তিনি অবাক হয়ে গেলেন।
সেই ছাতার দোকানটি নেই।
যেখানে দোকানটি ছিল, সেখানে এখন একটা সাইকেলের দোকান।
আখনজি সেই দোকানে ঢুকে নানান সাংকেতিক ভাষায় দোকানদারের সঙ্গে কথা বলার
চেষ্টা করে বুঝলেন, লাভ নেই। এটা সাধারণ একটা সাইকেলের দোকানই। তার বেশি
কিছু নয়।
সেই ছাতার দোকানটা হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে গেছে।
শহরের কোথাও আর সেটা খুঁজে পাওয়া গেল না।
আখনজির আর ছায়া ফেরত দেওয়া হলো না।
আখনজি হতাশায় ডুবে গেলেন।
ভিন্ন একটা মানুষের ছায়া নিয়ে তাকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে হবে, এমন একটা ছায়া যা তাকে স্যুট করে না।
- বাবা - হুমায়ূন কবীর ঢালী
- হেস্কু - মাহফুজুর রহমান
- বুদ্ধি - সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
- নজরুল ও জুটুর গল্প - রহীম শাহ
- মেয়েটি মাকড়সা হয়ে গেল - কাজী কেয়া
- কাজলকাকা ভূত নয় - ইমতিয়ার শামীম
- অর্পণের মা - আলী হাবিব
- রাশিয়ান রূপকথা: ধপাস ভালুক - রহীম শাহ
- মুখোশ রহস্য - আহমেদ রিয়াজ
- মুরগী ছানা তিতি - আরিফুন নেছা সুখী
- অহংকারী রাজকন্যা - বিএম বরকতউল্লাহ
- পুতুল ভূত - রানা জামান
- রাখাল ও জাদুর আম গাছ - হুমায়ুন কবীর ঢালী
- দুষ্টু ছানাদের গল্প - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- তুতুন - আল নাহিয়ান
- সাইকেল বাবু - লিটন মহন্ত
- রূপকথা নীল পূর্ণিমার সোমেশ্বরী - রবীন ভাবুক
- পরীরাণী - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- সাদাসোনা মেঘ, নীল ঘুড়ি আর খোলা মাঠে একা ছেলেটা - নূর সিদ্দিকী
- অন্ধকারের এক রহস্যমানুষ আর রাজহাঁস - মিন্টু হোসেন
- চকোলেট দৌড় - সোহানা রহমান
- স্কুলপড়ুয়া পাখি, প্রজাপতি আর ছড়া - মেহেরুবা নিশা
- গরুর ঘায়ে! - আহমেদ রিয়াজ
-
ঝুমি ও একটি কুকুর -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
উপন্যাস: পিশাচ-কন্যা -
সামান্থা লি
রূপান্তর: অনীশ দাস অপু - অক্স ও বুল (সায়েন্স ফিকশন গল্প) - আবুল কালাম আজাদ
- আমি ভূত - সোহানা রহমান
- সবুজ মাঠ - শিবলী নোমান
- মন্দ মানুষ - চন্দন চৌধুরী
- ঈদে মুক্তির আনন্দ - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- জোনাকিদের গ্রহে ভয়েজার ১ - মিন্টু হোসেন
- তর্ক-বিতর্ক - পাভেল মহিতুল আলম
- খরচি মামার সাইকেল - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- লাল জামা - বিএম বরকতউল্লাহ্
- আমার বন্ধু ডোরেমন - আহমেদ রিয়াজ
-
অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস অজানা দ্বীপে অভিযান -
মূল : এডগার অ্যালান পো
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- ঢেউয়ের বন্ধুরা - নূর সিদ্দিকী
- ভাষা - জাহিদুল আলম
- বর্ণান্ধ - মারিয়া হোসেন
- ভূতের সঙ্গে আড়ি - মুহসীন মোসাদ্দেক
- নরহরি দাস - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
- কাকদের পুরীষ উৎসব! - মহিউদ্দীন আহ্মেদ
- সে সত্যিই ছিল একটা বাচ্চা পরি - মেহেরুবা নিশা
-
মেঘকন্যা আর টুনটুনিছানা -
বিএম বরকতউল্লাহ্
- নবম মাত্রার গোবট - ধ্রুব নীল
-
পরী এবং পরিবেশ -
মাহাবুবুল হাসান নীরু
- দুঃখী বুড়ি ও নেংটি ইঁদুর - বিএম বরকতউল্লাহ্
- ভালো 'মন খারাপ' - চন্দন চৌধুরী
- রকির চাওয়া - জুবায়ের হুসাইন
- মৌমাছি ও কাঠুরিয়া - সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্
- ফিরে দেখা - রবীন ভাবুক
- মতির মাথায় গাব - ধ্রুব নীল
- প্রজাপতি হবো - এনায়েত রসুল
- চাঁদনি-হালুয়া - সঞ্চারিণী
- জলে কোলাহল - চন্দন চৌধুরী
- এক টুকরো মেঘ ও দুঃখী গাছ - বিএম বরকতউল্লাহ
- আমার রোবট 'রবি' - মোঃ মিন্টু হোসেন
- কত আটায় কত রুটি - আবুল কালাম আজাদ
- আংটি - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- শহরে একদিন - আহমেদ রিয়াজ
- পল্টুর বন্ধু - আহসান হাবীব
-
হরর গল্প -
মিস্ট্রেস স্যারি মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- নিলেশের অন্য ভূবন - আফরোজা অদিতি
- ভাষার খোঁজে নেপালে - সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
- গিফট - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- ভূত শিকার - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
-
ডানাকাটা পাখি ও সীম বীজ -
চন্দন চৌধুরী
- গোয়েন্দা মেনু'দা - রবীন ভাবুক
- তিনা আর লাল গোলাপ - আফরোজা অদিতি
- পরীটি কি জাদু জানে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- আরকনির রুমাল - মোঃ মিন্টু হোসেন
- পুষ্পিতার ঈদ - আফরোজা আদিতি
- হাতির ডিম - আহমেদ রিয়াজ
- কঙ্ক - শুভ অংকুর
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- প্রান্ত ও তার এ্যাডনোক্সিয়ান বন্ধু (সায়েন্স ফিকশান) - আবুল কালাম আজাদ
- এক যে ছিলো রাসেল - বেবী মওদুদ
- আতঙ্কের প্রহর [রহস্য গল্প] - অনীশ দাস অপু
- ঈদ শপিং - আহসান হাবীব
- উপন্যাস- আলিবাবা ও চালিচার - শিবব্রত বর্মন
- মৌমাছি - মোস্তফা কামাল বিপ্লব
- সূত্রধর স্যার - জাহিদুল আলম
-
কোনো এক অমাবস্যার রাতে -
আহমেদ রিয়াজ
- বিজ্ঞানী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গড়ে আটকা এক নেকড়ে - মোঃ মিন্টু হোসেন
- প্রজাপতি - এনায়েত রসুল
- পরী এসেছিল - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- বিচ্ছু ভাগনের কাণ্ড - জাহিদুল আলম
- নিশান আর ব্ল্যাকহোল - আফরোজা অদিতি
- পরীর বন্ধু অহনা - এনায়েত রসুল
-
স্যারের বিপদ -
জাহিদুল আলম
-
নতুন স্যার -
আবুল কালাম আজাদ
-
মিকাই-এর বাঘের ছানা -
মিন্টু হোসেন
-
আলুভর্তা -
জান্নি রোদারি
অনুবাদ: জামিল বিন সিদ্দিক -
বেকার আয়না -
জাহিদুল আলম
-
একদিন রাতে ধবধবে বিড়ালটা -
আহমেদ রিয়াজ
- অবাক বইপাঠ - মুনির রানা
- জোকার - শিবব্রত বর্মন
- ইঁদুরের ভোজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ভৌতিকবাড়ি - অনীশ দাস অপু
- মেলায় মাঠে পিউস - আফরোজা অদিতি
-
মিস্ট্রেস স্যারি -
মূল : উইলিয়াম টেন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
ভয়ঙ্কর এক লোক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
তেরো তলা -
মূল : ডন উলফসনে
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
টুঙ্গিপাড়ার খোকা -
বেবী মওদুদ
-
রাতের আতঙ্ক -
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
বৃক্ষপরী টিয়া -
আফরোজা অদিতি
-
গেকো -
অনীশ দাস অপু
-
ময়না -
আফরোজা অদিতি
-
রাজকন্যা মাঈশা আর বলঢাঁশের গল্প -
আশরাফুল ইসলাম সাগর
-
শেয়াল দেবতার প্রতিহিংসা -
মূল : রবার্ট ব্লচ
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - ফার্স্ট হওয়ার ঝামেলা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- শূন্যে ডানা মেলে - এনায়েত রসুল
-
একটু উষ্ণতার জন্য -
মূল : হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু -
শামন্তীর শীতবেলা -
মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
রাতের অতিথি -
আহমেদ রিয়াজ
- চৈতি আপু - ইমদাদুল হক মিলন
- তেতুল গাছ - আহসান হাবীব
- টুশির গল্প - বেবী মওদুদ
- চড়ুই পাখিদের ঘরের ঘটনা - ধ্রুব এষ
- বিলাই মা বিলাই ছা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- এক শিশি আলতা - এনায়েত রসুল
- কুলরাজা কুলরাণী - শাশ্বত ভট্টাচার্য
- ছায়ার মানুষ - আহমেদ রিয়াজ
- আলতা কন্যার জন্মদিন - মারুফ রেহমান।
- লেজ উঁচিয়ে - আহমেদ রিয়াজ
- ভৌতিক গল্প : থাবা - অনীশ দাস অপু
- রাজার ঈগল পাখি (কম্বোডিয়ার লোককাহিনী) - অনুবাদ: মৃত্যুঞ্জয় রায়
- আকাশ ছুঁয়ে উড়বো - এনায়েত রসুল
- আবু আর বাবু - বেবী মওদুদ
-
ভূতুড়ে বানর -
মূল : স্টিফেন কিং
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - কার ছবি - ইমদাদুল হক মিলন
- ঝন্টু মন্টুর দাদি - আহসান হাবীব
- সন্ধ্যার বিচিত্র ঘটনা - ধ্রুব এষ
-
তিন রাজপুত্র -
অনুবাদ : শিবব্রত বর্মন
মূল গল্প: আইজাক আসিমভ - নওরিনের স্কুল - এনায়েত রসুল
- বংশী নদীর ঘটনা - হামিদ কায়সার
- মাকড়সার চন্দ্র ভ্রমণ - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ইঁদুর সাহেবার হলিডে - মিজানুর খান
- জাদুর ঢোল - আহমেদ রিয়াজ
- ক্যামডেন কিলার - অনীশ দাস অপু
- পরীর দেশে - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- পিঁপড়ে যখন হাতির বন্ধু - আহমেদ রিয়াজ
- সাগর পরী - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
বৃষ্টি তুমি এসো না -
অনীশ দাশ অপু
মূল রচনা: আইজাক আসিমভ - ঝমঝমে আষাঢ়ে - আহমেদ রিয়াজ
-
ভৌতিক হাত -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প: কার্ল জ্যাকবির ‘দ্য হ্যান্ড’ -
বাবার জন্য ভালোবাসা -
মুহাম্মদ নাহিয়ান বিন খালেদ
- সেন্টমার্টিনে বাবার সাথে - জারিন তাসনিম অতসী
-
ভৌতিক ঘুড়ি -
অনীশ দাস অপু
মূল: কার্ল জ্যাকবি’র ‘দ্যা কাইট’ - ফুটবল প্রেমিক - রাশেদ শাওন
- ঘটনাটা সত্য - এনায়েত রসুল
- ভুতুড়ে বাড়ি - অনীশ দাস অপু
- ইচ্ছাপূরণ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- মায়ের কাছে ফেরা - বেবী মওদুদ
- স্বপ্ন - শিবব্রত বর্মন
- মেলায় যাবো - এনায়েত রসুল
- কুমড়ো দানব - অনীশ দাস অপু
- আসলে ছবিটা মেঘের - ধ্রুব এষ
- কাশেম আলী গরু চরাতো - আনিসুল হক
-
অদৃশ্য শত্রু -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : ফিলিপ কে. ডিক - জাদুকর - সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
-
জানের দুশমন -
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : হেনরি কুটনার - ভালোবাসার সবুজ গাছ - ইমরুল ইউসুফ
- বড়দিনের রাতে - অনীশ দাস অপু
- দেহহীন - শিবব্রত বর্মন
- নীলুর নীল চশমা - মৃত্যুঞ্জয় রায়
- রহস্যভেদী - রকিব হাসান
- দুষ্টু বিড়াল - অনীশ দাস অপু
- অপেক্ষা - মোস্তফা মামুন
- ঈশানপুরের অপুর কান্ড - সুমন কায়সার
- রাজা যখন গাছে - আহমেদ রিয়াজ
- অন্যরকম ভালোলাগা - শুভ অংকুর
- পৃথিবীর জন্য ভালোবাসা (সায়েন্স ফিকশন) - শুভ অংকুর
- কিং মিঠু - মোস্তফা মামুন
- প্রেতাত্মা - অনীশ দাস অপু
- রোবট - আনিসুল হক
- চতুর্দশতম/চৌদ্দ - নঈম তারিক
- জিকুর স্বপ্ন - আহসান হাবীব
- চোর - রকিব হাসান
- ছায়াহীন - শিবব্রত বর্মন
- ঈদের আগের রাত - মৃত্যুঞ্জয় রায়
-
মেরু ভালুকদের রাজা -
মূল : ফ্রাঙ্ক বাউম
ভাষান্তর : বিদ্যুত - গাধার টুপি - আহমেদ ফারুক
- আলসে বালক আর গরুর গল্প - মো. গোলাম রহমান
- অতি চালাকির সাজা! - এনায়েত রসুল
- মাছরাঙা আর রূপোর চামুচ - মোস্তফা হোসেইন
- হাবা রাকিবের কাণ্ড - মারুফ রেহমান
- বিড়ালের বন্ধুত্ব - রূপান্তর : আবুল বাসার
- গণেশ চ্যাটার্জি আর তার কালো কুকুর - নাফে মোহাম্মদ এনাম
- শিউ-পিউর বন্ধু তানতুলু - নূর সিদ্দিকী
- মেছোভূত - ইকবাল খন্দকার
- অ্যারোসল ভূত - শাকিল ফারুক
- পাঠশালা - আহমেদ রিয়াজ
- যুদ্ধের গল্প - ফরহাদ সাফায়েতুল কবীর
- বোকাতু - আরিফ হাসান
- রূপকথার ইলিশ - অর্জিতা মাধুর্য
- সীনের বাবা সীনের মা - আহমেদ রিয়াজ
- চাঁদ - পান্থ বিহোস
- মায়ের ভাষা - মুহাম্মদ মুনতাসির আলী
- জিন্নাহ'র না জানা গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আ হ মে দ ফা রু ক
- উপহাস - আহমেদ রিয়াজ
-
ড্রাগনের যম ইভান -
মূল : ভ্লাদিমির বাইকো
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমি - টিনা আপুর জাদুর কাঠি - এনায়েত রসুল
- তারা পড়তে দেখলে - ধ্রুব এষ
- বাঘ-সিংহের গল্প - আহমেদ রিয়াজ
-
লুকোচুরি -
নিকোলাই নসভ
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমী - রহস্যময় কিশোর যোদ্ধা - আহমেদ রিয়াজ
- অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয় - বিজয় মজুমদার
- তিন ভূতুড়ে - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
- মরগানস উডসের ভূত - অনীশ দাস অপু
- মহাকাশে সু ভূতের অভিযান - বিধান রিবেরু
- জামাটা কোথায় গেল - আহমেদ রিয়াজ
- মি. হাকলি - নূর সিদ্দিকী
- বুলেট ভাইয়ের হাইজাম্প - মোস্তফা মামুন
-
একা কবরস্থানে -
মূল : অ্যালভিন শোয়ার্জ
অনুবাদ : হাসান খুরশীদ রুমী - তৈল মর্দন - সজ্জাদ কবীর
- ঝিন্টু - মানিক চন্দ্র দাস
- রবীন-মাহিনের মুক্তি... - আহসান হাবীব
- মামার ঘড়ি - পান্থ বিহোস
- তৃষার ভালো লাগা - এনায়েত রসুল
- খরগোশের টাকা চাষ - ভাষান্তর- মৃত্যুঞ্জয় রায়
- ঈদের চাঁদ - আশীষ চক্রবর্ত্তী
-
স্টোরিটেলার -
নিকোলাই নসভ
রূপান্তর : হাসান খুরশীদ রুমী - একটা গাছের চারা - আশরাফুল আলম পিনটু
- পাহাড় যখন সরে যায় - আমীরুল ইসলাম
- ঝিম দুপুরের গল্প - শাকিল ফারুক
- জেলে আর সোনার মাছ - রহীম শাহ
- কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা - বিজয় মজুমদার
- পুতুল - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
হানাবাড়ির উন্মাদ -
মূল : ইলেন এ. কিউল
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু - চ্যালেঞ্জ! - রকিব হাসান
- রাজা এলেন - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চুরি বিদ্যা বড়ো বিদ্যা - মোস্তফা মামুন
- আসলে কী ঘটেছিল - ইমদাদুল হক মিলন
- শিয়াল রাজার সাজা - এনায়েত রসুল
- রূপোলি রেণু - আলী ইমাম
- প্যালিনড্রোমিক ফর্ক... - আহসান হাবীব
- ঘড়ি উদ্ধার - আহমেদ রিয়াজ
- অপু আর তপু - আশরাফুল আলম পিন্টু
- সাদা মেঘ ও কাশফুলেরা - আহমেদ রিয়াজ
- মনের ভয় - ফাতেমা ফেরদৌস (পিংকি)
- চাঁদের বন্ধু খরগোশ - রেহানা পারভীন রুমা
- দুষ্টু টুলু - এনায়েত রসুল
- রেডিও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু - আহমেদ ফারুক
- আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প - আহমেদ রিয়াজ
- সুন্দর - মঈনুল আহসান সাবের
-
ছোট্ট তুষারমানব -
কোরিয়ার রূপকথা
রূপান্তর : মো. গোলাম রহমান - ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি - এনায়েত রসুল
- এটা আমার বাবার গল্প, মায়েরও - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
- চাষা ও তার গরু - আহমেদ রিয়াজ
- সহকারী গোয়েন্দা - মোস্তফা মামুন
- লাল বেলুন - আমীরুল ইসলাম
- ডান-বাম - শাহ্নেওয়াজ চৌধুরী
-
শেষ যাত্রা -
মূল : কার্ল জ্যাকবি
রূপান্তর : অনীশ দাস অপু - লিটুর ঘুম আসে না - মোস্তফা মামুন
- ভূতটা খোলা মাঠে একা শুয়ে আছে - আহমেদ রিয়াজ
- কিসমতের বিচার - হুমায়ূন কবীর ঢালী
- নিপুর আশ্রয় - এনায়েত রসুল
- দুই ভূতের কান্ড - শাহনেওয়াজ চৌধুরী
-
কান্নার দাগ -
আফ্রিকার রূপকথা
রূপান্তর : আবুল বাসার - নূরী ও পরী - আহমেদ রিয়াজ
-
প্রকৃতি কন্যার দোলনা ঘর -
শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- ছোট্ট জাদু-নুড়ি - আমীরুল ইসলাম
- জাদুর আয়না - রূপান্তর : অনীশ দাস অপু
- বিন্নির খুশি - এনায়েত রসুল
- ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি - আহমেদ ফারুক







