অদৃশ্য শত্রু
অনীশ দাস অপু
মূল গল্প : ফিলিপ কে. ডিক
মেজর লরেন্স হ্যাল বিনোকিউলার মাইক্রোস্কোপের ওপর ঝুঁকে পড়ল, অ্যাডজাস্টমেন্ট কারেকশন করছে।
‘ইন্টারেস্টিং, বিড়বিড় করল সে। ‘ব্যাপারটা বেশ মজার, না? তিন হপ্তা ধরে এ গ্রহে আমার ক্ষতিকর কোন লাইফ-ফর্ম খুঁজে বেড়াচ্ছি, অথচ এখনো তার দেখা মেলেনি।’ লেফটেন্যান্ট ফ্রেন্ডলি কালচারাল বোলগুলোর পাশে, ল্যাব টেবিলের কোনায় বসল সাবধানে।
‘কেমন জায়গাটা? কোন রোগজীবাণু নেই, নেই মশা মাছি, ইঁদুর, নেই-’
সিধে হল হ্যাল। ‘অদ্ভূত একটা জায়গাই বটে। গোটা গ্রহের কোথাও কোন ক্ষতিকর উপাদান খুঁজে পাইনি আমরা। ভাবছি এটাই আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই কল্পনার স্বর্গের বাগান কিনা।’
হ্যাল জানালার কাছে গিয়ে তাকাল বাইরে। দারুণ একটি দৃশ্য। ঢেউ খেলানো জঙ্গল এবং পাহাড়, সবুজ ঢাল উদ্ভাসিত হয়ে আছে নানা রঙের ফুল আর সীমাহীন দ্রাক্ষাকুঞ্জে, জলপ্রপাত, ঝুলন্ত শেওলা, ফলের গাছ, লেক। যেন ‘প্ল্যানেট ব্লু’র সব কিছুই নিপুণ হাতে সাজিয়ে রেখেছে কেউ যেন ছ’মাস আগে স্কাউটশিপ এটা তৈরি করে রেখে গেছে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলল হ্যাল। ‘এমন জায়গায় বারবার আসতে কার না মন চায়’
ফ্রেন্ডলি একটা চ্যুইয়িং গাম মুখে দিয়ে বললো, ‘জানো, গ্রহটা একটা অদ্ভূত প্রভাব ফেলেছে আমার ওপর। আমার এখন আর ধূমপান করতে ইচ্ছে করে না। যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলতেও বাধে।’
নিজের মাইক্রোস্কোপের কাছে ফিরে গেল হ্যাল। ‘আমার একটু কাজ আছে, ফ্রেন্ডলি। কয়েকটা কালচার এখনো বাকি রয়ে গেছে। দেখি কোন ভয়ংকর জীবাণুর সন্ধান পাই কিনা।’
‘চেষ্টা করতে থাকো’ টেবিল থেকে লাফিয়ে নামল ফ্রেন্ডলি। ‘ভাল কথা এক নম্বর রুমে কনফারেন্স ডাকা হয়েছে। চলে এসো, ‘বলে চলে গেল সে। ওর পায়ের শব্দ ক্রমে মিলিয়ে গেল করিডর। ল্যাবে একা হয়ে গেলো হ্যাল।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে, কি যেন ভাবল ও। তারপর মাইক্রোস্কোপের স্লাইড সরিয়ে নতুন আরেকটা ঢোকাল। আলোতে মার্কিংগুলো পড়তে লাগল।
ল্যাবটা উষ্ণ এবং নীরব। সূর্যের আলো জানালা গলে ঢুকে পড়ে মেঝেতে গলে পড়ছে। বাতাসে গাছের পাতা হঠাৎ হঠাৎ শিউরে উঠছে। ঘুম এসে গেল হ্যালের। হঠাৎ লাফিয়ে উঠল ও মাইক্রোস্কোপের দুটো আইপিস দুটোকে গলা থেকে ছোটানোর প্রাণপণ চেষ্টা করল হ্যাল। পারল না। ইস্পাতের দাড়া জোড়া ফাঁদের মত চেপে বসেছে গলায়। মাইক্রোস্কোপটাকে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিল হ্যাল, লাফ মেরে পিছিয়ে এল। কিন্তু মাইক্রোস্কোপও হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল তার দিকে, জড়িয়ে ধরল পা। মুক্ত পা’টা দিয়ে লাথি বসাল হ্যাল, পকেট থেকে বের করল ব্লাস্ট পিস্তল।মাইক্রোস্কোপ পিছু হঠতে শুরু করল। হাতের ব্লাস্ট পিস্তল গর্জে উঠল হ্যাল-এর। টুকরো টুকরো হয়ে গেল মাইক্রোস্কোপ।
‘গুড গড!’ ধপ করে বসে পড়ল হ্যাল, হাতের চেটো দিয়ে মুছল ঘর্মাক্ত মুখ। ‘এসব কি!’ গলা ডলছে ও। ‘কি এসব!’