শুরু হচ্ছে শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস
২৪-২৫ মে ঢাকায় বসবে শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রথম আসর। যৌথভাবে এই আয়োজনটি করছে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি। ‘বিএফএফ শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস’ নামের আয়োজনটিতে অংশ নিতে পারবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া যে কেউ।
মানে দাঁড়াল, চাইলে তুমিও আয়োজনে অংশ নিতে পারবে। অংশ নিতে হবে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও পোস্টার- যে কোনো একটি মাধ্যমে।
যদি তুমি নিবন্ধ জমা দাও, সেটা বিভিন্ন সেশনে উপস্থাপনও করতে হবে। আর যদি সেটা মনোনীত হয়, তাহলে পরে কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তবে প্রকল্প বা পোস্টার জমা দিতে চাইলে, এখনই সেগুলো বানিয়ে দিতে হবে না। কেবল প্রকল্প বা পোস্টারের ধারণা পাঠাতে হবে। ধারণাটা মনোনীত হলে তোমাকে জানানো হবে। তখন তুমি কংগ্রেসের সাহায্য নিয়েই তোমার প্রকল্প কিংবা পোস্টারটি বানাতে পারবে। তবে পোস্টারের ক্ষেত্রে একটি জিনিস মাথায় রেখো- পোস্টারের আকার হতে পারবে সর্বোচ্চ ২৩ বাই ২৬ ইঞ্চি।
ও, ভালো কথা। কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত ৩০ জনকে নিয়ে একটি আবাসিক বিজ্ঞান ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হবে। ক্যাম্পটির নামকরণ করা হয়েছে আমাদের দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে- জগদীশচন্দ্র বসু আবাসিক বিজ্ঞান ক্যাম্প। পরে, সেখান থেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় পাঠানোরও ব্যবস্থা করা হবে।
এখন, তোমার নিবন্ধ কিংবা প্রকল্প বা পোস্টারের ধারণা কোন ঠিকানায় পাঠাবে? পাঠানোর ঠিকানা- শিশু-কিশোর কংগ্রেস সচিবালয়, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন, লেভেল- ৫, ৬/৫-এ স্যার সৈয়দ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। কিংবা, ই-মেইলেও পাঠাতে পার। cscongress@bdosn.org।
আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে ওদের ওয়েবসাইটে- www.spsb.org/cscongress।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/রাশা/এনজে/ওএসপি/এইচবি/এপ্রিল ২১/১৩
হ্যালোর জন্য ঢাকা মহানগরে আবেদন গ্রহণ চলছে...
৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে হ্যালোতে ঢাকা মহনগরে শিশুদের আবেদন গ্রহণ।
বড়োদের মতো তোমাদেরও কি সাংবাদিক হতে ইচ্ছে করে? চাইলে তোমরাও কি ভালো সাংবাদিক হতে পারবে না? প্রশ্ন দুটোর উত্তরে তোমরা সব্বাই সম্ভবত হ্যাঁ বলেছো। আর তোমরা যাতে সাংবাদিকতা করতে পারো, সে ব্যবস্থাও যে করা হয়েছে, সেটিও নিশ্চয়ই জেনে গেছো। হ্যাঁ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নতুন পাতা ‘হ্যালো’-এর কথাই বলছি।
এই ‘হ্যালো’ কিন্তু শিশুকিশোরদের সাংবাদিকতার প্রথম বাংলা সাইট। আর এই পাতাতে, সাংবাদিকতা করতে হলে কী কী করতে হবে, তাও তোমরা এতোদিনে জেনে গেছো। আর যদি জানা না-ই থাকে, চলে যাও হ্যালোর পাতায়; hello.bdnews24.com
এ বছরের ৩১ মার্চ এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সাইটটির উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায়, সাইটটি পরিচালনা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এখন, নতুন করে হ্যালো-এর গল্প কেনো বলছি? কারণ, ৪ এপ্রিল থেকে শুর“ হয়েছে হ্যালোতে ঢাকা মহনগরের শিশুদের আবেদন গ্রহণ। আবেদন করতে চাইলে, তুমি অনলাইনে, কিংবা ডাকযোগে- দুইভাবেই আবেদন করতে পারো। অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাইটে, কিংবা হ্যালো ওয়েবসাইটে গিয়েই করতে পারবে। আর ডাকযোগে আবেদন পাঠাতে চাইলে, তার ঠিকানা হলো-
হ্যালো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
রেড ক্রিসেন্ট কনকর্ড টাওয়ার, ১৭ তলা
১৭, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা
ঢাকা- ১২১২, বাংলাদেশ
আবেদন পাঠানোর শেষ সময় ১০ এপ্রিল, ২০১৩।
আবেদনে তোমার মানে আবেদনকারীর নাম, অভিভাবকের নাম, অভিভাবকের পেশা, বয়স, ছেলে না মেয়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম (যদি শিক্ষার্থী হও), শ্রেণী, ঠিকানা, ইমেইল অ্যাড্রেস (যদি থাকে) আর মোবাইল/ফোন নম্বর লিখতে হবে। আর তুমি যদি শারীরিক প্রতিবন্ধী হও, সেটি-ও লিখে দিও। আর তুমি যদি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কেউ হও, সেটি-ও লিখে দিও।
ভালো কথা, এর আগে কিন্তু দেশের ২০টি জেলা থেকে মোটমাট ২১০জন শিশুকিশোরকে শিশুসাংবাদিক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। তারা হ্যালো কিডজ-এ সাংবাদিকতাও শুরু করে দিয়েছে। জেলা ২০টি হলো- নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/এনজে/এইচবি/এপ্রিল ৪/১৩
২৭ বছরে 'এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি'
আমাদের প্রাণের বাংলা বর্ণমালা সুন্দর করে লেখার প্রতিযোগিতাটি এ বছর পা দিলো ২৭ বছরে।
আমাদের ভাষা আন্দোলন বিশ্বব্যাপী এক অনন্য ঘটনা। আর সে আন্দোলনের বীর সৈনিকেরা যদি তোমার হাতে খড়ি করিয়ে দেন, মানে তোমার প্রথম বর্ণলেখাটা যদি হয় তার হাত ধরেই, সেটি কতো বড়ো পাওয়া, চিন্তা করো তো! হ্যাঁ, সেই সুযোগ কিন্তু এখনও আছে। সুযোগটি করে দিয়েছে কারক নাট্য সম্প্রদায়।
অমর একুশে উপলক্ষে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারক নাট্য সম্প্রদায় প্রতি বছর আয়োজন করে ‘এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি’ শীর্ষক শিশু-কিশোরদের বর্ণ লিখন প্রতিযোগিতা। আয়োজনটি এ বছর সাতাশে পা রাখল; মানে এ বছর এটি আয়োজিত হলো ২৭তম বারের মতো।
প্রতি বছর, ২১শে ফেব্রুয়ারির পরের প্রথম শুক্রবার, শহীদ মিনারে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। এ বছর হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ভোর থেকেই বাবা-মার হাত ধরে শহীদ মিনারে আসতে থাকে শিশুরা। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় তিনটি বিভাগে- যারা এখনো স্কুলে যায়নি, তাদের একটি বিভাগ; দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত একটি বিভাগ আর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আরেকটি বিভাগ। যারা এখনো স্কুলে যায়নি, তাদের হাতে খড়ি দেয়া হয়। দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের লিখতে হয় পুরো বাংলা বর্ণমালা; মানে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ দুটোই। আর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা রং ও রেখায় ভাষা শহীদের নাম সুন্দর করে লেখার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এ বছর শিশুদের হাতে খড়ি দেন কামাল লোহানী ও ডাক্তার কাজী খালিদা খাতুন। তাদের সঙ্গে ছিলেন পরলোকগত ভাষা সৈনিক ইমদাদ হোসেনের নাতি প্রিয়াংশু হোসেন।
একুশের আল্পনা আমাদের আপন সাংস্কৃতিক ধারার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রঙ-তুলি, ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় মহান একুশের প্রতি আমাদের প্রাণের প্রকাশ এই আল্পনা। একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে তো প্রতি বছরই শহীদ মিনারে আঁকা হয় আল্পনা। অনুষ্ঠানে আসা শিশুরা ভেজা কাপড় দিয়ে শহীদ মিনারে আঁকা আল্পনা পরিষ্কার করে এবং নতুন করে রং করে। তারা বর্ণ বৃক্ষ তৈরি করে এবং হাত তুলে শপথ নেয় সুমানুষ হয়ে ওঠার। প্রতিযোগিতা চলাকালীন পুরো সময় ভাষার গান পরিবেশন করে সারগাম ললিতকলা একাডেমী।
বিকালে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ভাষা সৈনিক জাকারিয়া চৌধুরী। পুরস্কার বিতরণের পর সঙ্গীত পরিবেশন করে সারগাম ললিতকলা একাডেমী ও শিশুতোষ সঙ্গীতশিল্পী সেলিম রেজা।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/এনজে/ওএসপি/এইচবি/মার্চ ০৪/১৩








