কাহিনী সংক্ষেপ:

[পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারীর নাম মনে আছে তো? ইউরি গ্যাগারিন। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল। সে গল্প তো শুনিয়েছিলাম- ‘মানুষের প্রথম মহাকাশ বিজয়’। মনে না থাকলে, পড়ে নিতে পার-
http://kidz.bdnews24.com/mainStory.php?mainstoryid=149
আগে আরও কিছু প্রাণীকে পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম মহাকাশে পাড়ি জমায় লাইকা নামের একটি কুকুর, ১৯৫৭ সালে। তারপর পাঠানো হয় আরও দুটি কুকুর- বেলকা আর স্ট্রেলকাকে, ১৯৬০ সালের ১৯ অগাস্ট; তাদের সঙ্গে আরও ছিল একটি খরগোশ, ৪২টা ছোট ইঁদুর, ২টা ধেড়ে ইঁদুর, কিছু মাছি, সঙ্গে ছত্রাক আর কয়েকটা গাছের চারা। পরে গেছে আরও কিছু প্রাণী।
এই বেলকা আর স্ট্রেলকার অভিযান নিয়ে ২০১০ সালে এই সিনেমাটি বানানো হয়। ইউরি গ্যাগারিনের প্রথম মহাকাশ বিজয়ের গল্প তো আগেই শুনিয়েছিলাম; এবার তাই সেই একই গল্প আরেকবার না শুনিয়ে, চলো এই সিনেমাটির গল্প শুনে আসি।]
সে বেশ কিছুদিন আগেকার কথা। মস্কোর রাস্তার কুকুরদের ধরে ধরে কালো একটা গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। স্ট্রেলকা নামের এক কুকুর মাত্র সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে। সঙ্গে আছে ভেনা নামের এক ইঁদুরও, যার কাজই হল টেলিফোন বুথ থেকে কয়েন চুরি করা। কী দুষ্টু এই ভেনা, তাই না?
এক রাতের কথা; যথারীতি স্ট্রেলকা আর ভেনা মিলে হাড় আর কয়েন চুরি করছিল। এদিকে বেলকা কাজ করে একটি সার্কাসের দলে। সার্কাসের দলটিতে রীতিমতো তারকা সে। ঘটনাচক্রে, পেটমোটা শুকরটার বদলে তাকেই সেদিন রকেটের খেলাটা দেখাতে হল। খেলাটা অবশ্য তেমন কঠিন কিছু নয়; দুর্ঘটনাও তেমন ঘটেনি কখনও। কিন্তু, বিধি বাম, বেলকার বেলাতেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। উড়তে উড়তে খেলনা রকেটটা ছিটকে গেল, বেলকাকে নিয়ে রকেটটা রীতিমতো উড়েই গেল; সার্কাসের তাবু ছিঁড়ে একেবারে বাইরে গিয়ে পড়ল। আর পড়বি তো পড়, একেবারে সেই টেলিফোন বুথের উপর।
স্ট্রেলকা নিজে একটা রাস্তার কুকুর। অন্যদিকে বেলকা সার্কাসের তারকা কুকুর, রীতিমতো অহংকারি। কাজে কাজেই, যা হওয়ার তাই হল; দুই কুকুরের মধ্যে শুরু হয়ে গেল রাজ্যের মান-অভিমান। শেষমেশ বুঝতে পারল, ওরা তিনজনই আসলে অসহায়। তখন আর কী করা, ওরা তিনজন মিলে একরকম অসহায়ের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগল।
আগেই বলেছি, স্ট্রেলকা আর ভেনা আগে একবার ধরা পড়েছিল কুকুরধরাদের হাতে। সে যাত্রা অবশ্য তারা বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু আবারও তারা ধরা পড়ে গেল; এবার তিনজন মিলেই। আসলে কুকুরধরা লোকগুলো তেমন খারাপ নয়; ওরা আসলে সব কুকুরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা করে দেখার জন্য, কুকুরগুলো মহাকাশ ভ্রমণের জন্য যোগ্য কিনা।
নানারকম কঠিন কঠিন পরীক্ষা শেষে দেখা গেল, অন্যান্য সব শক্তসমর্থ বুলডগদের পেছনে ফেলে, পাস করল বেলকা, স্ট্রেলকা আর ভেনা। অবশ্য তাতে ভাগ্যের ছোঁয়াও কিছু ছিল। সে যাক, নির্দিষ্ট দিনে সব রকম প্রস্তুতি শেষে তিনজনকেই একটা ইয়া বড় রকেটে করে পাঠিয়ে দেওয়া হল। তারা তিনজন- বেলকা, স্ট্রেলকা আর ভেনা চলে গেল মহাকাশে! ওদের তখন কী ভীষণ মজা হচ্ছিল, ভাবো তো!
সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছিল। ওদের পৃথিবীতে অক্ষত অবস্থাতেই ফিরে আসার কথা। কিন্তু হঠাৎ করেই গোল বাঁধল- উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ওদের রকেটের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। ভীষণ বিপদ! রকেট ঠিক হবে কী করে? আর রকেট ঠিক না হলে তো ওরা-ও পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে না।
তারপর? ওরা কি ফিরে আসতে পেরেছিল পৃথিবীতে? তা তো বলছি না! সে জন্য সিনেমাটি দেখতেই হচ্ছে তোমাদের। ওহহো, সিনেমাটি সম্পর্কে আরেকটি তথ্য তো দেওয়াই হয়নি; সিনেমাটি কিন্তু থ্রি ডি প্রযুক্তিতে তৈরি। আর ঘরে বসে যদি থ্রি ডির মজা না-ই পাও, অ্যানিমেশনের মজা তো থাকছেই।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/আলাল/এনজে/এইচবি/এপ্রিল ১০/১৩