স্কাউট জাম্বুরীর মিলন মেলায়
শুভ অংকুর
মাত্র দিনকয়েক আগেই শেষ হয়ে গেলো স্কাউট জাম্বুরী! তোমরা কি কেউ গিয়েছিলে! না গিয়ে থাকলেও ক্ষতি নেই সামনে অনেক দিন পড়ে আছে জাম্বুরীতে যাওয়ার।
এইতো আমাদের ঢাকার পাশেই গাজীপুরের মৌচাকে টানা আট দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ৮ম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী। এই মহাসম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্কাউটের এই জাম্বুরী শেষ হয়েছে ২২ জানুয়ারি। জাম্বুরীতে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী দেশ বিদেশের প্রায় ১৫,০০০ স্কাউট ও স্কাউটার অংশ নিয়েছিলো। ভাবা যায়!কী এতক্ষণ জাম্বুরী জাম্বুরী করছি! জাম্বুরী কি সেটাই তো বলা হয় নি। জাম্বুরী হচ্ছে স্কাউটদের সবচেয়ে বড় শিামূলক মহাসমাবেশ। এই মহামিলন মেলায় স্কাউটরা বিশ্বভ্রাতৃত্বে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব সৃষ্টির সুযোগ পায়। এখানে প্রত্যেক জেলা, ইউনিট থেকে আসা স্কাউটরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে স্কাউটিংয়ে অর্জিত তাদের সব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান আর দতার নৈপূণ্য দেখানোর সুযোগ পায়। প্রতিটি জাম্বুরীর এক একটি মূল ভাবনা বা বিষয় থাকে, এবারের জাম্বুরীর বিষয় ছিলো- দিন বদলে স্কাউটিং। প্রতি চার বছর পর পর জাম্বুরীর আয়োজন করে থাকে বাংলাদেশ স্কাউটিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
স্কাউটিং কি তাও তো বলা হলো না তোমাদের! আচ্ছা স্কাউটিং কি তা বলার আগে খানিক গল্প বলে নিই একজন মস্তো মানুষের। অবশ্য তিনিই ছিলেন স্কাউট আর স্কাউটিং এর জনক। তার নাম হলো- রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ ব্যাডেন পাওয়েল। সংক্ষেপে যদি বলতে চাও তাহলে বিপি। তিনি একটি আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিসের আন্দোলন? তিনি শুরু করেছিলেন স্কাউট আন্দোলন। তাহলে তো এবার জানতেই হয় স্কাউটিং বিষয়টি কি। স্কাউটিং হলো তোমাদের বয়েসীদের জন্য নিজেকে পরিপূর্ণ এক মানুষ হিসেবে তৈরি করার ব্যবস্থা। নিজেকে তৈরি বলতে তো আসলে অনেক কিছুই বোঝায় তাই না? আসলেই, স্কাউটিং করলে নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তৈরি করা সম্ভব।
লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল বা বিপি প্রথম ভারতবর্ষে এসেছিলেন ব্রিটিশ আর্মির একজন অফিসার হিসেবে। সেও সেই ১৮৮০ সালের কথা। তিনি এই উপমহাদেশে আসার পর স্কাউটিং নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। তার হাত দিয়েই স্কাউটিং এর জন্ম হয় ১৯০৭ সালে। এর পরে ১৯১০ সালের দিকে পাক ভারত উপমহাদেশে জোরেসোরে স্কাউটিং নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিলো। স্কাউটিং এর জন্য প্রথম যে বইটি বিপি লিখেছিলেন তার নাম হলো ‘স্কাউটিং ফর বয়েজ’। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিপি সারা পৃথিবীতে স্কাউটিং ছড়িয়ে দিয়েছেন। এর ফলে কেউ স্কাউটিং করলে সে সারা পৃথিবীর স্কাউট পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে যায়। আর এজন্যই স্কাউটদের কাছে সারা পৃথিবীটাই খুব আপন আর নিজের মনে হয়।
স্কাউটিং
জানতে ইচ্ছা করছে? স্কাউটিং এ কি কি হয়? চলো দেখি স্কাউটিং এ কি কি হয়। স্কাউটিং করলে শরীর ও মন মজবুত হয়। যদি তোমার শরীর এবং মন দুটোই মজবুত হয় তাহলে তোমার সাথে কে পারবে বলো? অর্থাৎ যে স্কাউটিং করে সে মন আর শরীর, দু’দিক
থেকেই সবার চেয়ে আলাদা হয়। স্কাউটিং বিশ্বাস করে যে, কোনো কিছু
শিখতে হলে সেটা নিজে করে শিখতে হবে। কোনো কিছু যদি তুমি নিজে করে শেখো
তাহলে সেটা তোমার মনে গেঁথে যায়, তাই না? আর স্কাউটিং এ বিভিন্ন শারীরিক
কসরৎ যেমন তোমাকে শেখাবে কিভাবে শরীরটাকে মজবুত আর শক্তপোক্ত বানাতে হয়
তেমনি বিভিন্ন বুদ্ধির খেলাতেও তুমি শিখবে কিভাবে মাথাটাকে খাটাতে হয়।
এছাড়াও স্কাউটিং তোমাদেরকে বিভিন্ন কাজে নেতৃত্ব দিতেও শেখাবে। এতে করে
তোমার ভেতরে তৈরি হবে নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতাও। ভাবছো খুবই কঠিন কাজ?
মোটেও তা নয়। তোমার কখনো মনেই হবে না যে তুমি কিছু শিখছো! কারণ, বিভিন্ন
খেলার মাধ্যমে তা শিখবে বলেই তোমার মনে হবে তুমি খেলছো। ওহ আসল কথাটাই তো
বলা হয় নি! যারা স্কাউটিং করে তাদেরকে বলা হয় স্কাউট বা স্কাউটার।শুধু তাই নয় স্কাউটিং তোমাকে সমাজের একজন দায়িত্বশীল মানুষ হতেও শেখাবে।স্কাউটিং সারা বছরে দেশের বিভিন্ন সমস্যায় কাজ করতে শেখায়। বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্ম করে থাকে স্কাউটরা। যেমন কোনো এলাকার সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেমন কৃষি, স্বাস্থ্য এবং স্যানিটেশন, শিশু কল্যাণ, নির্মাণ এবং খেলাধূলা এই বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ স্কাউট কাজ করে থাকে। তোমরা জানো বাংলাদেশে প্রতিবছর বন্যা হয়। এই বন্যার সময় বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যরা বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। এরকম কোনো বড় সমস্যায় দেশের জন্য এগিয়ে আসে স্কাউটরা। আমাদের বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সেই সময়ের স্কাউটরা অনেক সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক খবরাখবর আনা নেওয়া করেছিলেন। যা ঐ সময় খুবই দরকার ছিলো।
এমনতরো কাজের মানসিকতাই তৈরি হয় স্কাউটিং এর ফলে। তৈরি হয় সাহস। আর জানো তো সাহসই হলো কাজ করতে পারার প্রথম কথা। সাহস না থাকলে সব কাজেই পিছিয়ে আসতে হয়। কাজেই তুমি যদি হতে চাও বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক তাহলে তোমাকে স্কাউটিং সে সুযোগটি করে দেবে। অর্থাৎ স্কাউটিং শেষ করার পর তুমি হয়ে যাবে একজন আদর্শ মানুষ।
বাংলাদেশের স্কাউটিং
এখন শোনো বাংলাদেশের কথা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে স্কাঊটিং আরম্ভ হয় ১৯৭২ সালে। সে সময়ের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে তৈরি হয় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি। স্কাউটার পিয়ার আলী নাজির প্রথম জাতীয় কমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন। জাতীয় কমিশনার এর পদটি বাংলাদেশ স্কাউটের প্রধান নির্বাহী পদ। সারাদেশে স্কাউটিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ স্কাউটকে ১১ টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চল আবার দুই ধরনের-১) সাধারণ অঞ্চল: বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগকে একটি করে অঞ্চল করা হয়েছে। এছাড়াও বৃহত্তর নোয়াখালী এবং বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে কুমিল্লা অঞ্চল।
২) বিশেষ অঞ্চল: বাংলাদেশ স্কাউটের কয়েকটি বিশেষ অঞ্চল আছে। এই অঞ্চলগুলো হলো, রোভার অঞ্চল, রেলওয়ে অঞ্চল, নৌ অঞ্চল এবং এয়ার অঞ্চল। বিশেষ অঞ্চলগুলো সারাদেশ ব্যাপী কাজ করে।
স্কাউটিং নিয়ে গল্প তো শুনলে। এবারের জাম্বুরী নিয়ে গল্প শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে? এক কাজ করি। চলো আমরা ঘুরে আসি সেই জাম্বুরীর জায়গাটি থেকেই।
জাম্বুরীর মিলন মেলায়
সব স্কাউটরা জাম্বুরীতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে এখানে মিলিত হয়। গাজিপুরের ঠিক শালবনের মাঝেই অবস্থিত এই স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এর মাঝেই সবাই কে থাকতে হয়েছিলো তাবু খাটিয়ে। মজার ব্যবস্থা তাই না? বেশ একটা এ্যাডভেঞ্চার এ্যাডভেঞ্চার ভাব। এর একটা কারণ আছে। তা হলো যে কোনো পরিস্থিতিতে যাতে স্কাউটরা নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারে তারই একটা ব্যবস্থা করা। প্রত্যেকটি তাবুকে এক একটি সাবক্যাম্প বলা হয়। এই সব সাবক্যাম্প নিয়েই বানানো হয় জাম্বুরী ভিলেজ। এবারের জাম্বুরীতে ভিলেজ ছিলো ৫টি এবং সাবক্যাম্প ছিলো ১৫ টি। শ্লোগান ছিলো ‘দিন বদলে স্কাউটিং’। তোমার নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা হচ্ছে এবারের জাম্বুরীতে কি হয়েছিলো? চলো জেনে নেয়া যাক কি কি হয়েছিলো এবারের জাম্বুরীতে।
এখানে প্রত্যেকদিন স্কাউটরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম
করে সারা দিনের জন্য নিজেদের তৈরি করে নেয়। তারপর নাস্তা করার পর শুরু হয়
বিভিন্ন ধরনের কাজ-কর্ম। এর মধ্যে আছে শারীরিক কসরৎ, বিভিন্ন বুদ্ধির
খেলা, আরো আছে অনেক মজার মজার অভিযান। মজার মজার অভিযান? হ্যাঁ তাই। শোনো
তাহলে, গুপ্তধন খোঁজা থেকে শুরু করে বন্ধু বানানোর খেলাও খেলতে হয়েছিলো
তাদের। মজার তাই না? কোনদিক দিয়ে যে দিন কেটে গেছে ওরা টেরও পায় নি। ও আরো
একটা বিষয়! এখানে কিন্তু নিজেদের তাবু নিজেদেরকেই খাটাতে হয়। শুধু তাই নয়,
সেই তাবু আবার নিজেদের সাজাতেও হয়। আর শুধু সাজালেই হবে না। সেটা হতে হবে
সবার চেয়ে ভালো। এ এক প্রতিযোগিতাই যেনো!এবারের জাম্বুরীতেও ঠিক তাই হয়েছিলো। সব এলাকার সব স্কাউটরা নিজেদের তাবু নিজেদের মতো করে বানিয়েছে এবং সাজিয়েছে। তাবু সাজানোটাও কিন্তু একটা খেলা। সব তাবুর তারা আবার নামও দিয়েছে নদীর নামে। সেই সব নদী আবার আমাদের দেশের বিলুপ্তপ্রায় সব নদী। কেনো এই নাম দিয়েছে? এই নদীগুলো বাঁচাতে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি করার জন্য। এটিই হলো এই নাম দেবার কারণ। এবারের জাম্বুরীতে সবচে ব্যাতিক্রমী তাবু বানিয়েছিলো ঝালকাঠির সাউথ বেঙ্গল স্কাউট দল। কারণ, তাদের তাবুটি ছিলো দোতলা। বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস না হবারই কথা। কিন্তু তারা আসলেই দোতলা তাবু বানিয়েছিলো। কারণ হচ্ছে, ওদের ওখানে জলোচ্ছাস হয়। এজন্যই তারা প্রতীকিভাবে দেখিয়েছে কিভাবে জলোচ্ছাসের প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হয়।
প্রত্যেকদিন সকালের শারীরিক কসরৎ এর পরে স্কাউটদের জাম্বুরী গ্রাম পরিদর্শন করতে হয়। দেখতে হয় কোথাও কোন সমস্যা আছে কিনা। যদি সমস্যা থাকে তাহলে তার সমাধান করতে হয়। বেশ একটা দায়িত্ব কিন্তু চলে আসে নিজের ঘাড়ে। তোমরা যারা নিজেদের ছোট ভেবে কষ্ট পাও এখানে আসলে তাদের আর দুঃখ থাকবে না। দেখবে কি রকম বড়দের মত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তোমাদের। আর তুমি যদি হও দলের নেতা তাহলে তো দলের সবার সমস্যার দিকেই তোমাকে নজর রাখতে হবে।
ওহ্ হো ভুল হয়ে গেছে। এখনও তো আসল কথাই বলি নি। দাঁড়াও দাঁড়াও, সেই সব খেলার কথা তো? চলো তাহলে শুনি সেই সব খেলার কথা।
খেলায় খেলায় শেখা
সবকিছু যদি খেলতে খেলতেই শেখা হয়ে যেতো তাহলে কি মজাই না হতো তাই না? জাম্বুরীতে কিন্তু খেলতে খেলতে শেখা হয়ে যায়। বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জ আর ইভেন্টের মাধ্যমে স্কাউটদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করা হয় জাম্বুরীতে। ভাবছো খুব কঠিন এবং জটিল সেই সব চ্যালেঞ্জ? মোটেই না। বরং অনেক সহজ আর অনেক মজারও। চলো তাহলে আমরা পরিচিত হই স্কাউট জাম্বুরীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে।হাইকিং
হাইকিং এ স্কাউটদের প্রতিদিন সকালে উঠে জগিং করে জাম্বুরী এলাকা পরিদর্শন করার পাশাপাশি এলাকাটিকে চিনে নিতে হয়েছিলো। এর সঙ্গে সঙ্গে স্কাউটদেরকে মার্চপাস্ট করতে হয়েছিলো এবং পিছনে হেঁটেও দেখাতে হয়েছিলো। হাইকিং এ আরো ছিলো বিভিন্ন খেলাধূলা।
তাবু সাজাই
তাবু সাজানোটাও একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো স্কাউটদের জন্য। তাবু সাজানোর পরে তা মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঠিক করা হয় কাদের তাবু সবচেয়ে সুন্দর।
ক্যাম্প কেয়ার
তাবু শুধু সাজালেই হবে না। স্কাউটরা তাবু পরিস্কার রাখছে কিনা, নিজেরা পরিস্কার থাকছে কিনা, নিজেদের দলের সবার মধ্যে বোঝাপড়া কি রকম এগুলোও দেখা হয়। আর এজন্যই এর নাম ক্যাম্প কেয়ার।
ধীমান
এই চ্যালেঞ্জে স্কাউটদের জ্ঞানের পরিচয় দিতে হয়। স্কাউটদের বুদ্ধির বিকাশ ঘটানোর জন্যই এই চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছে। এখানে তাদের স্কাউটিং এবং অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানের মূল্যায়ন করা হয়।
অভিযাত্রা
স্কাউটিং এর প্রথম থেকেই এটি রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত। অভিযাত্রায় স্কাউটদের কোনো নির্দিষ্ট করা অজানা জায়গায় যেতে হয়। এ সময় তাদের পথ দেখায় ফিল্ড বুক এবং কম্পাস। কি মজার না? অভিযাত্রায় অংশ নিলে নিজেকে মনে হয় কোন দেশ আবিষ্কারক। অজানাকে জানার চ্যালেঞ্জই হলো অভিযাত্রা।
বিশ্বায়ন
এই চ্যালেঞ্জে দেশ বিদেশের স্কাউটরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী সংস্থা এবং এনজিওদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ তুমি এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিলে জেনে যাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে।
আনন্দে শিখি
নাম শুনেই তো বুঝতেই পারছো যে এটি আনন্দ দেবার মতোই একটি চ্যালেঞ্জ। মজায় শেখার জন্য এখানে স্কাউটরা বিভিন্ন গেমে অংশ নিয়ে থাকে। গেমগুলোর নাম শুনবে? শোনো, নটিং গেম, পুলিং গেম, কিমস গেম, জিরাফ হাটা, শেয়ার লেগ রান, ইত্যাদি আরো কতো কি!
বন্ধুর পথ
বন্ধুর পথ মানে কিন্তু যে পথে বাধা আছে সেই পথ! এই চ্যালেঞ্জটিও কিন্তু রোমাঞ্চকর। বিভিন্ন বাধা পার করে রাস্তা শেষ করতে হয় বলেই কিন্তু এর নাম বন্ধুর পথ। এতে স্কাউটদের ভিতরে সাহস, উদ্যম এবং কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা তৈরি হয়। বন্ধুর পথের বিষয়গুলো হলো, রক কাইম্বিং, কমান্ডো ব্রীজ, মাইনসুইপার, ক্রলিং ইত্যাদি। কেমন যেনো কমান্ডো কমান্ডো মনে হচ্ছে তাই না?
তাবু শুধু সাজালেই হবে না। স্কাউটরা তাবু পরিস্কার রাখছে কিনা, নিজেরা পরিস্কার থাকছে কিনা, নিজেদের দলের সবার মধ্যে বোঝাপড়া কি রকম এগুলোও দেখা হয়। আর এজন্যই এর নাম ক্যাম্প কেয়ার।
ধীমানএই চ্যালেঞ্জে স্কাউটদের জ্ঞানের পরিচয় দিতে হয়। স্কাউটদের বুদ্ধির বিকাশ ঘটানোর জন্যই এই চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছে। এখানে তাদের স্কাউটিং এবং অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানের মূল্যায়ন করা হয়।
অভিযাত্রা
স্কাউটিং এর প্রথম থেকেই এটি রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত। অভিযাত্রায় স্কাউটদের কোনো নির্দিষ্ট করা অজানা জায়গায় যেতে হয়। এ সময় তাদের পথ দেখায় ফিল্ড বুক এবং কম্পাস। কি মজার না? অভিযাত্রায় অংশ নিলে নিজেকে মনে হয় কোন দেশ আবিষ্কারক। অজানাকে জানার চ্যালেঞ্জই হলো অভিযাত্রা।
বিশ্বায়ন
এই চ্যালেঞ্জে দেশ বিদেশের স্কাউটরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী সংস্থা এবং এনজিওদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ তুমি এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিলে জেনে যাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে।
আনন্দে শিখি
নাম শুনেই তো বুঝতেই পারছো যে এটি আনন্দ দেবার মতোই একটি চ্যালেঞ্জ। মজায় শেখার জন্য এখানে স্কাউটরা বিভিন্ন গেমে অংশ নিয়ে থাকে। গেমগুলোর নাম শুনবে? শোনো, নটিং গেম, পুলিং গেম, কিমস গেম, জিরাফ হাটা, শেয়ার লেগ রান, ইত্যাদি আরো কতো কি!
বন্ধুর পথ
বন্ধুর পথ মানে কিন্তু যে পথে বাধা আছে সেই পথ! এই চ্যালেঞ্জটিও কিন্তু রোমাঞ্চকর। বিভিন্ন বাধা পার করে রাস্তা শেষ করতে হয় বলেই কিন্তু এর নাম বন্ধুর পথ। এতে স্কাউটদের ভিতরে সাহস, উদ্যম এবং কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা তৈরি হয়। বন্ধুর পথের বিষয়গুলো হলো, রক কাইম্বিং, কমান্ডো ব্রীজ, মাইনসুইপার, ক্রলিং ইত্যাদি। কেমন যেনো কমান্ডো কমান্ডো মনে হচ্ছে তাই না?
সমাজ চেতনা
সামাজিক সমস্যার সাথে স্কাউটদের পরিচিত করা এবং সমস্যাগুলি সমাধানে তাদের কাজ করানোর জন্যই এই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের মাঝে আছে র্যালি, রাস্তা মেরামত, কৃষকদের মাঝে বীজ দেয়া ও সবজি বাগান তৈরি করা, স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে তথ্য দেয়া ইত্যাদি।
বন্ধু ও পড়শী
তোমাদের যদি বলা হয় যতো পারো বন্ধু বানাও তাহলে আমার ধারণা তোমাদের বন্ধু গুনে শেষ করা যাবে না। এরকমই একটা চ্যালেঞ্জ আছে জাম্বুরীতে। নাম তার বন্ধু ও পড়শী। এখানে অবশ্য প্রত্যেক স্কাউটকে ৮ জনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হয়। এভাবে স্কাউটদের মাঝে প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
স্বপ্ন
তুমি কি স্বপ্ন দেখো? কি আবোল তাবোল কথা। স্বপ্ন দেখে না এমন মানুষ হয় নাকি? কিন্তু তোমার স্বপ্ন কাউকে বলার কথা তোমার মাথায় থাকে না তাই না? জাম্বুরীতে কিন্তু তোমার স্বপ্ন সবাইকে বলতে হবে। এখানে প্রত্যেক স্কাউট তাদের স্বপ্ন সবার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ। স্বপ্ন দেখে সেটা সবার সামনে গুছিয়ে বলতে পারে কয়জন?
কারিগর
তোমরা নিশ্চয় কোনো না কোনো কাজ করো। এই কাজ করাটাও কিন্তু জাম্বুরীর একটা চ্যালেঞ্জ। প্রত্যেক স্কাউট জাম্বুরীতে বিভিন্ন কাজ হাতে কলমে করে সেটা সম্পর্কে জেনে যায়। নিজে হাতে শেখা কোনো কাজ কেউ কি কখনও ভুলে যায়? যায় না। তাই তো স্কাউটরা হাতে কলমে কাজ শেখার কারণে অনেক কিছুই জেনে যায়।
কুশলী
কোনো কাজ করতে পারলেই কি সেটাকে পারা বলে? যে সবচেয়ে দক্ষভাবে সেই কাজ করতে পারে তাকেই বলা যায় সে কাজটি জানে। এর জন্য কুশলী হতে হয়। অর্থাৎ কাজটা সহজে করার কৌশল জানতে হয়। বিভিন্ন কাজের কৌশল শেখানোর চ্যালেঞ্জ হলো কুশলী। সে কারণেই স্কাউটরা কোন কাজ শুধু করতেই জানে না, তারা কৌশলটাও জানে।
আমার লক্ষ্য
তুমি নিশ্চয় ঠিক করে রাখো কালকে স্কুলে গিয়ে কি কি খেলবে, কার কার সাথে অনেক কথা বলতে হবে তাই না? আমি তো প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে ঠিক করে রাখতাম কালকে গিয়ে কি খেলবো, কার সঙ্গে কথা বলবো আর কার সঙ্গে বলবোই না। সেরকমই আমরা বড় হয়ে কি হবো তা কিন্তু ছোটবেলাতেই ভেবে রাখতে হয়। জাম্বুরীতে নিজের লক্ষ্য ঠিক করার চ্যালেঞ্জের নামই হলো আমার লক্ষ্য।
তাবু জলসা
এবার বলি ক্যাম্প ফায়ার বা তাবু জলসার কথা। ক্যাম্প ফায়ার হয়ে থাকে জাম্বুরীর তাবুগুলোতে। প্রত্যেক ক্যাম্পে স্কাউটরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রতিটি দিন ব্যস্ত থাকার পর উৎসব করে। আগুন জ্বালিয়ে এই উৎসব হয় এজন্য এর নাম ক্যাম্প ফায়ার। এখানে স্কাউটরা নিজেদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান করে থাকে। এতে কি হয় জানো? সবাই হাসি খুশী থাকে। এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।
প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ থেকে কোনো না কোনো কিছু শেখা হয়ে যায়। তোমার মনেই হবে না যে তুমি কষ্ট করে শিখছো। কিন্তু শেখার পর দেখবে যে কখনই ভুলছো না। আসলে এভাবে যদি সবকিছু শেখা যেতো তাহলে কি ভালই না হতো! এতক্ষণ তো শুনলে বিভিন্œ চ্যালেঞ্জের কথা। জাম্বুরীর শেষ অনুষ্ঠান দেখবে না তা কি হয়? চলো দেখে আসি জাম্বুরীর শেষ অনুষ্ঠান।
শেষ জলসা
শেষ দিনে সব স্কাউটরা প্রস্তুতি নেয় মহা তাবু জলসার জন্য। এতো দিনের সব চ্যালেঞ্জ শেষ করে সবাই প্রস্তুত হচ্ছিলো বিদায় নেবার জন্য। বন্ধুতো সবার কম হয় নি এই কয়েক দিনে। তাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে তো খারাপ লাগবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার আগে যে আছে মহাউৎসব। এই দিনে মেয়েরা শাড়ি পরে, হাতে মঙ্গল প্রদীপ নিয়ে সবাই এসে মিলিত হয়েছে এক জায়গায়। সেই জায়গায় হয়েছে মহা তাবু জলসা। চারকোনায় চারটি মশাল জ্বালিয়ে শুরু হয়েছিলো এই জলসা। তখন ঘড়িতে বাজে সন্ধ্যা ৭ টা।
সব তাবুর সব স্কাউট এই জলসায় অংশ নিয়েছিলো। তাহলে কি হয়েছিলো এই জলসায় সেটা জানা দরকার। তাবু জলসায় বিভিন্ন স্কাউটরা তাদের নিজেদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান করেছিলো। এই অনুষ্ঠানে নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, কি হয় নি বলো? সবকিছুই হয়েছিলো তোমাদের বয়েসীদের নিয়ে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার কি জানো? সেই যে প্রতিবন্ধী দলটি? তার একজন সদস্য কি সুন্দর করেই না নৃত্য পরিবেশন করলো! সত্যিই অসাধারণ। আর কি হয়েছিলো শুনবে? আর হয়েছিলো নাটিকা। নীলফামারী থেকে আসা স্কাউট দল পরিবেশন করেছিলো নাটিকা। সব দিক দিয়েই পূর্ণ ছিলো সেই অনুষ্ঠান।
মনের ইচ্ছা
এবার নিশ্চয় তোমাদের স্কাউট হওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে, তাই না? চলো জেনে নেয়া যাক স্কাউট হবার জন্য কি করতে হবে। বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য হবার জন্য তিনটি বয়স আছে। তোমার বয়স যদি ছয় বছর থেকে এগার বছরের মধ্যে হয় তাহলে তুমি বাংলাদেশ কাব স্কাউটের সদস্য হতে পারবে। যদি এর চেয়ে বেশী হয় অর্থাৎ এগার বছর থেকে সতেরো বছরের মধ্যে হয় তাহলে তুমি বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য হতে পারবে। আর সতেরো বছর থেকে পঁচিশ বছরের মধ্যে বয়স হলে তোমাকে হতে বাংলাদেশ রোভার স্কাউটের সদস্য। আর এর জন্য তোমাকে কোথাও যেতে হবে না। যোগাযোগ কর তোমার স্কুলের শিক্ষকদের সাথে।
সামাজিক সমস্যার সাথে স্কাউটদের পরিচিত করা এবং সমস্যাগুলি সমাধানে তাদের কাজ করানোর জন্যই এই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের মাঝে আছে র্যালি, রাস্তা মেরামত, কৃষকদের মাঝে বীজ দেয়া ও সবজি বাগান তৈরি করা, স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে তথ্য দেয়া ইত্যাদি।
বন্ধু ও পড়শী
তোমাদের যদি বলা হয় যতো পারো বন্ধু বানাও তাহলে আমার ধারণা তোমাদের বন্ধু গুনে শেষ করা যাবে না। এরকমই একটা চ্যালেঞ্জ আছে জাম্বুরীতে। নাম তার বন্ধু ও পড়শী। এখানে অবশ্য প্রত্যেক স্কাউটকে ৮ জনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হয়। এভাবে স্কাউটদের মাঝে প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
স্বপ্ন
তুমি কি স্বপ্ন দেখো? কি আবোল তাবোল কথা। স্বপ্ন দেখে না এমন মানুষ হয় নাকি? কিন্তু তোমার স্বপ্ন কাউকে বলার কথা তোমার মাথায় থাকে না তাই না? জাম্বুরীতে কিন্তু তোমার স্বপ্ন সবাইকে বলতে হবে। এখানে প্রত্যেক স্কাউট তাদের স্বপ্ন সবার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ। স্বপ্ন দেখে সেটা সবার সামনে গুছিয়ে বলতে পারে কয়জন?
কারিগর
তোমরা নিশ্চয় কোনো না কোনো কাজ করো। এই কাজ করাটাও কিন্তু জাম্বুরীর একটা চ্যালেঞ্জ। প্রত্যেক স্কাউট জাম্বুরীতে বিভিন্ন কাজ হাতে কলমে করে সেটা সম্পর্কে জেনে যায়। নিজে হাতে শেখা কোনো কাজ কেউ কি কখনও ভুলে যায়? যায় না। তাই তো স্কাউটরা হাতে কলমে কাজ শেখার কারণে অনেক কিছুই জেনে যায়।
কুশলী
কোনো কাজ করতে পারলেই কি সেটাকে পারা বলে? যে সবচেয়ে দক্ষভাবে সেই কাজ করতে পারে তাকেই বলা যায় সে কাজটি জানে। এর জন্য কুশলী হতে হয়। অর্থাৎ কাজটা সহজে করার কৌশল জানতে হয়। বিভিন্ন কাজের কৌশল শেখানোর চ্যালেঞ্জ হলো কুশলী। সে কারণেই স্কাউটরা কোন কাজ শুধু করতেই জানে না, তারা কৌশলটাও জানে।
আমার লক্ষ্য
তুমি নিশ্চয় ঠিক করে রাখো কালকে স্কুলে গিয়ে কি কি খেলবে, কার কার সাথে অনেক কথা বলতে হবে তাই না? আমি তো প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে ঠিক করে রাখতাম কালকে গিয়ে কি খেলবো, কার সঙ্গে কথা বলবো আর কার সঙ্গে বলবোই না। সেরকমই আমরা বড় হয়ে কি হবো তা কিন্তু ছোটবেলাতেই ভেবে রাখতে হয়। জাম্বুরীতে নিজের লক্ষ্য ঠিক করার চ্যালেঞ্জের নামই হলো আমার লক্ষ্য।
তাবু জলসা
এবার বলি ক্যাম্প ফায়ার বা তাবু জলসার কথা। ক্যাম্প ফায়ার হয়ে থাকে জাম্বুরীর তাবুগুলোতে। প্রত্যেক ক্যাম্পে স্কাউটরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রতিটি দিন ব্যস্ত থাকার পর উৎসব করে। আগুন জ্বালিয়ে এই উৎসব হয় এজন্য এর নাম ক্যাম্প ফায়ার। এখানে স্কাউটরা নিজেদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান করে থাকে। এতে কি হয় জানো? সবাই হাসি খুশী থাকে। এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জ।
প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ থেকে কোনো না কোনো কিছু শেখা হয়ে যায়। তোমার মনেই হবে না যে তুমি কষ্ট করে শিখছো। কিন্তু শেখার পর দেখবে যে কখনই ভুলছো না। আসলে এভাবে যদি সবকিছু শেখা যেতো তাহলে কি ভালই না হতো! এতক্ষণ তো শুনলে বিভিন্œ চ্যালেঞ্জের কথা। জাম্বুরীর শেষ অনুষ্ঠান দেখবে না তা কি হয়? চলো দেখে আসি জাম্বুরীর শেষ অনুষ্ঠান।
শেষ জলসা
শেষ দিনে সব স্কাউটরা প্রস্তুতি নেয় মহা তাবু জলসার জন্য। এতো দিনের সব চ্যালেঞ্জ শেষ করে সবাই প্রস্তুত হচ্ছিলো বিদায় নেবার জন্য। বন্ধুতো সবার কম হয় নি এই কয়েক দিনে। তাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে তো খারাপ লাগবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার আগে যে আছে মহাউৎসব। এই দিনে মেয়েরা শাড়ি পরে, হাতে মঙ্গল প্রদীপ নিয়ে সবাই এসে মিলিত হয়েছে এক জায়গায়। সেই জায়গায় হয়েছে মহা তাবু জলসা। চারকোনায় চারটি মশাল জ্বালিয়ে শুরু হয়েছিলো এই জলসা। তখন ঘড়িতে বাজে সন্ধ্যা ৭ টা।
সব তাবুর সব স্কাউট এই জলসায় অংশ নিয়েছিলো। তাহলে কি হয়েছিলো এই জলসায় সেটা জানা দরকার। তাবু জলসায় বিভিন্ন স্কাউটরা তাদের নিজেদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান করেছিলো। এই অনুষ্ঠানে নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, কি হয় নি বলো? সবকিছুই হয়েছিলো তোমাদের বয়েসীদের নিয়ে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার কি জানো? সেই যে প্রতিবন্ধী দলটি? তার একজন সদস্য কি সুন্দর করেই না নৃত্য পরিবেশন করলো! সত্যিই অসাধারণ। আর কি হয়েছিলো শুনবে? আর হয়েছিলো নাটিকা। নীলফামারী থেকে আসা স্কাউট দল পরিবেশন করেছিলো নাটিকা। সব দিক দিয়েই পূর্ণ ছিলো সেই অনুষ্ঠান।
মনের ইচ্ছা
এবার নিশ্চয় তোমাদের স্কাউট হওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে, তাই না? চলো জেনে নেয়া যাক স্কাউট হবার জন্য কি করতে হবে। বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য হবার জন্য তিনটি বয়স আছে। তোমার বয়স যদি ছয় বছর থেকে এগার বছরের মধ্যে হয় তাহলে তুমি বাংলাদেশ কাব স্কাউটের সদস্য হতে পারবে। যদি এর চেয়ে বেশী হয় অর্থাৎ এগার বছর থেকে সতেরো বছরের মধ্যে হয় তাহলে তুমি বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য হতে পারবে। আর সতেরো বছর থেকে পঁচিশ বছরের মধ্যে বয়স হলে তোমাকে হতে বাংলাদেশ রোভার স্কাউটের সদস্য। আর এর জন্য তোমাকে কোথাও যেতে হবে না। যোগাযোগ কর তোমার স্কুলের শিক্ষকদের সাথে।
শপথ
বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের কিছু শপথ মেনে কাজ করতে হয়। শুনবে সেই শপথ? শোনো তাহলে,আমি শপথ করছি যে, আমি আমার কর্তব্য পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো
-ঈশ্বর এবং দেশের জন্য
-সবসময় অন্য মানুষকে সাহায্য করার জন্য এবং
-স্কাউট আইন মেনে চলার জন্য।
তোমরা কিন্তু শুনে ফেললে জাম্বুরী আর স্কাউটের গল্প। তাহলে জাম্বুরীর গল্প যে জানে না তাকে বলতে ভুলো না যেন। হ্যাঁ আমি জানি। তোমরা আমার থেকেও ভালো করে বলবে জাম্বুরীর গল্প। তাই না!
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/শুভ/এইচআর/জানুয়ারি ২৮/১০








