বই-এর লেখা, লেখার বই
আগামীকাল অন্তুর পরীক্ষা। সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা। অন্তু পরীক্ষার জন্য বিকেলে খেলতেও যায়নি। টিভিও দেখতে বসেনি। কিন্তু পড়ালেখা হচ্ছে ঘোড়ার ডিম। একটুও পড়তে ইচ্ছে করছে না। কারণ তার মন পড়ে রয়েছে বইমেলা থেকে কেনা বইগুলোর কাছে।
বই- জিনিসটা কী?
আসলে পাঠ্যবই আর গল্পের বই ( গল্পই হোক, কিংবা ছড়া, উপন্যাস, কবিতা ইত্যাদি ইত্যাদি)- এদের মধ্যে পার্থক্যটা কিন' এটাই- পড়তে মজা লাগা। তবে পাঠ্যবইও পড়তে অনেকের মজা লাগে, তোমাদের ক্লাসের ফার্স্টবয়কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো- দেখবে সে কিন্তু ঠিকই মজা পায়। থাক , পড়ালেখার কথা আর বলতে চাই না- পড়ে দেখা গেল বিরক্ত হয়ে এই লেখাটাই পড়া বাদ দিলে! আসল কথা হচ্ছে বই জিনিসটা কী, সেটাই।
বই- জিনিসটা কী?
আসলে পাঠ্যবই আর গল্পের বই ( গল্পই হোক, কিংবা ছড়া, উপন্যাস, কবিতা ইত্যাদি ইত্যাদি)- এদের মধ্যে পার্থক্যটা কিন' এটাই- পড়তে মজা লাগা। তবে পাঠ্যবইও পড়তে অনেকের মজা লাগে, তোমাদের ক্লাসের ফার্স্টবয়কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো- দেখবে সে কিন্তু ঠিকই মজা পায়। থাক , পড়ালেখার কথা আর বলতে চাই না- পড়ে দেখা গেল বিরক্ত হয়ে এই লেখাটাই পড়া বাদ দিলে! আসল কথা হচ্ছে বই জিনিসটা কী, সেটাই।
আমরা যেমন কথা বলে নিজেদের ভাব প্রকাশ করি, তেমনি লিখে লিখেও সেটা করা সম্ভব। প্রাচীনকালে বিভিন্ন ছবি এঁকে এই কাজটা করা হতো। তবে বর্তমানে বই বলতে বোঝায় অনেকগুলো কাগজ, যাতে লেখা থাকে, ছবি থাকে, প্রচুর তথ্য থাকে- সবগুলো কাগজের একপ্রান্তে একসঙ্গে আঠা কিংবা সেলাই করে আটকানো থাকে, সেটাই হচ্ছে বই। ওরে বাবা, জটিল হয়ে গেল নাকি! থাক, বই হলো বই, তোমরা তো চেনই, সেটাকে আবার আলাদা করে চেনাতে হবে কেন?বই-এর ইতিহাস
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, সর্বপ্রথম মিশরে প্যাপিরাস গাছের পাতা থেকে একধরনের কাগজ তৈরি করা হয়। সেটার নামও দেয়া হয় প্যাপিরাস। তাতে বিভিন্ন রাজাদের গুনগান লেখা থাকতো। তখন তো ছাপাখানা ছিল না, তাই হাতে লিখেই বই বের করা হতো। এতে খুব কম সংখ্যক বই-ই বের হতো, আর বই-এর দামও হত বেশি। একটা মাঝারি লাইব্রেরীতে তখন থাকতো প্রায় ডজনখানেক বই।
১৪৩৯ সালে জার্মানির গুটেনবার্গ সাহেব ছাপাখানা তৈরি করে ফেলেন, যার মাধ্যমে বই আর না লেখে সরাসরি ছেপে ফেলা যায়। তখন বই ছাপাতে হতো কাঠের হরফ দিয়ে। বিভিন্ন অক্ষর কাঠ দিয়ে তৈরি করে তা দিয়ে বই ছাপানো হতো। পরবর্তীতে কাঠের হরফের বদলে লোহা, সীসা প্রভৃতি ধাতু দিয়ে হরফ তৈরি করা হতো। এতে ছাপা হওয়া বই-এর অক্ষরগুলো আরো ঝকঝকে দেখা যেতো।
তবে উনিশ দশকের শুরু পর্যন্ত বই ছাপানোর পদ্ধতিতে খুব বেশি হেরফের হয়নি। গুটেনবার্গ সাহেব তো ততদিনে আর বেঁচে নেই, তবে তার ভুত যদি এসে দেখে তাহলে খুব বেশি পার্থক্য দেখতে পাবে না। একটাই পার্থক্য সেটা হচ্ছে বাষ্প বা স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার। তখন মেশিনগুলো ঘন্টায় ১১০০ পৃষ্ঠা ছাপাতে পারলেও শ্রমিকরা ঘন্টায় মাত্র ২০০০ অক্ষর সাজাতে পারতো। ফলে বই ছাপা হতো বেশ ধীরগতিতে।
এখন যুগ বদলেছে। এসেছে কম্পিউটার। এখন বই এর পৃষ্ঠাগুলো প্রথমে একটি সাদা ট্রেসিং কাগজে ছাপা হয়। সেখান থেকে আধুনিক মেশিনে কালি এবং অল্প একটু পানি সহযোগে তা থেকে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ছাপানো যায়।
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, সর্বপ্রথম মিশরে প্যাপিরাস গাছের পাতা থেকে একধরনের কাগজ তৈরি করা হয়। সেটার নামও দেয়া হয় প্যাপিরাস। তাতে বিভিন্ন রাজাদের গুনগান লেখা থাকতো। তখন তো ছাপাখানা ছিল না, তাই হাতে লিখেই বই বের করা হতো। এতে খুব কম সংখ্যক বই-ই বের হতো, আর বই-এর দামও হত বেশি। একটা মাঝারি লাইব্রেরীতে তখন থাকতো প্রায় ডজনখানেক বই।
১৪৩৯ সালে জার্মানির গুটেনবার্গ সাহেব ছাপাখানা তৈরি করে ফেলেন, যার মাধ্যমে বই আর না লেখে সরাসরি ছেপে ফেলা যায়। তখন বই ছাপাতে হতো কাঠের হরফ দিয়ে। বিভিন্ন অক্ষর কাঠ দিয়ে তৈরি করে তা দিয়ে বই ছাপানো হতো। পরবর্তীতে কাঠের হরফের বদলে লোহা, সীসা প্রভৃতি ধাতু দিয়ে হরফ তৈরি করা হতো। এতে ছাপা হওয়া বই-এর অক্ষরগুলো আরো ঝকঝকে দেখা যেতো।
তবে উনিশ দশকের শুরু পর্যন্ত বই ছাপানোর পদ্ধতিতে খুব বেশি হেরফের হয়নি। গুটেনবার্গ সাহেব তো ততদিনে আর বেঁচে নেই, তবে তার ভুত যদি এসে দেখে তাহলে খুব বেশি পার্থক্য দেখতে পাবে না। একটাই পার্থক্য সেটা হচ্ছে বাষ্প বা স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার। তখন মেশিনগুলো ঘন্টায় ১১০০ পৃষ্ঠা ছাপাতে পারলেও শ্রমিকরা ঘন্টায় মাত্র ২০০০ অক্ষর সাজাতে পারতো। ফলে বই ছাপা হতো বেশ ধীরগতিতে।এখন যুগ বদলেছে। এসেছে কম্পিউটার। এখন বই এর পৃষ্ঠাগুলো প্রথমে একটি সাদা ট্রেসিং কাগজে ছাপা হয়। সেখান থেকে আধুনিক মেশিনে কালি এবং অল্প একটু পানি সহযোগে তা থেকে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ছাপানো যায়।
বই-এর বর্ণনা
এখন একটু বই-এর বর্ণনা দেই। মানে ওই যে রচনা লেখ না, গরুর একটি লেজ, দুইটি কান, চারটি পা আছে- ওই টাইপের বর্ণনা। বই এর কোন হাত পা নেই, লেজও নেই। পৃথিবীতে এপর্যন- কত বই ছাপা হয়েছে, তা কেউ জানে না, তবে বই-এর ধরনের মাধ্যমে একে ২ ভাগে ভাগ করা যায়-
১. ফিকশন- যেসকল বই-এর বিষয় কাল্পনিক। এক্ষেত্রে সবধরনের গল্প-ছড়ার বই পড়ে।
২. নন ফিকশন- এই বইগুলোর বিষয়বস্তু বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। উদাহরন হিসেবে বলা যায় তোমাদের পাঠ্যবইগুলো।
তবে কিছু কিছু বই এর কোনটাতেই পড়ে না। তবে এই বিভাজনটাই বিভিন্ন লাইব্রেরীতে ব্যবহৃত হয়।
এখন একটু বই-এর বর্ণনা দেই। মানে ওই যে রচনা লেখ না, গরুর একটি লেজ, দুইটি কান, চারটি পা আছে- ওই টাইপের বর্ণনা। বই এর কোন হাত পা নেই, লেজও নেই। পৃথিবীতে এপর্যন- কত বই ছাপা হয়েছে, তা কেউ জানে না, তবে বই-এর ধরনের মাধ্যমে একে ২ ভাগে ভাগ করা যায়-১. ফিকশন- যেসকল বই-এর বিষয় কাল্পনিক। এক্ষেত্রে সবধরনের গল্প-ছড়ার বই পড়ে।
২. নন ফিকশন- এই বইগুলোর বিষয়বস্তু বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। উদাহরন হিসেবে বলা যায় তোমাদের পাঠ্যবইগুলো।
তবে কিছু কিছু বই এর কোনটাতেই পড়ে না। তবে এই বিভাজনটাই বিভিন্ন লাইব্রেরীতে ব্যবহৃত হয়।
আমাদের দেশে যে সকল বই আমরা পাই, তাতে দেখা যায় বই-এ সাধারনত পাঁচটি অংশ থাকে।

১. প্রচ্ছদ- এতে বইটির নাম এবং লেখকের নাম থাকে। এটা দেখে বই-এর বিষয়বস্তু অনেকখানি বোঝা যায়।
২. পুট- এতেও থাকে বই এবং লেখকের নাম সেইসঙ্গে প্রকাশনীর নাম এবং লোগো। এটি থাকে সামনের এবং পিছনের- দুই প্রচ্ছদের মাঝে। এটি খুবই চিকন একটা অংশ, তবে তুমি যখন সেলফে বই রাখবে তখন ওই পুট দেখেই বই খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।
৩. ফ্লাপ- এটি প্রচ্ছদের বর্ধিত অংশ। যেটি ভাজ হয়ে ভেতরে ঢুকে থাকে। এখানে লেখক এবং বই-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকে।
৪. মূল অংশ। এখানেই থাকে বইটির সামগ্রিক বিষয়, যেটা আমরা পড়ি আরকি।
৫. পেছনের প্রচ্ছদ। এখানে থাকে বই-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, মূল্য, বারকোড , আইএসবিএন (এদুটো কি জিনিস সেটা পরে বলছি) প্রভৃতি।

১. প্রচ্ছদ- এতে বইটির নাম এবং লেখকের নাম থাকে। এটা দেখে বই-এর বিষয়বস্তু অনেকখানি বোঝা যায়।
২. পুট- এতেও থাকে বই এবং লেখকের নাম সেইসঙ্গে প্রকাশনীর নাম এবং লোগো। এটি থাকে সামনের এবং পিছনের- দুই প্রচ্ছদের মাঝে। এটি খুবই চিকন একটা অংশ, তবে তুমি যখন সেলফে বই রাখবে তখন ওই পুট দেখেই বই খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।
৩. ফ্লাপ- এটি প্রচ্ছদের বর্ধিত অংশ। যেটি ভাজ হয়ে ভেতরে ঢুকে থাকে। এখানে লেখক এবং বই-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকে।
৪. মূল অংশ। এখানেই থাকে বইটির সামগ্রিক বিষয়, যেটা আমরা পড়ি আরকি।
৫. পেছনের প্রচ্ছদ। এখানে থাকে বই-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, মূল্য, বারকোড , আইএসবিএন (এদুটো কি জিনিস সেটা পরে বলছি) প্রভৃতি।
লাইব্রেরী
গ্রীসের লোকদের বোধহয় বইপ্রীতিটা বেশি ছিল। কেননা তারাই প্রথম লাইব্রেরী তৈরি করে। পরে রোমান সাম্রাজ্যেও এই ধারা তৈরি হয়। কিন্তু তা ছিল একান্তই ব্যাক্তিগত সংগ্রহ। লাইব্রেরীর মালিক চাইলে কাউকে বই ধার দিতে পারতো, তবে সেটা একান্তই তার নিজের ইচ্ছা। ১৪-১৫ শতকের দিকে বিভিন্ন উপাসনালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরী তৈরি শুরু হয়। সেই ধারা আজো রয়ে গেছে। লাইব্রেরী এখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। একেকটা লাইব্রেরী বিচিত্র রকম বই-এ ঠাসা। সবরকমের বই থাকে তাতে। যার যেমন দরকার, সেই বইটা তাক থেকে নামিয়ে টুকুস করে পড়ে নিলেই, ব্যস।
গ্রীসের লোকদের বোধহয় বইপ্রীতিটা বেশি ছিল। কেননা তারাই প্রথম লাইব্রেরী তৈরি করে। পরে রোমান সাম্রাজ্যেও এই ধারা তৈরি হয়। কিন্তু তা ছিল একান্তই ব্যাক্তিগত সংগ্রহ। লাইব্রেরীর মালিক চাইলে কাউকে বই ধার দিতে পারতো, তবে সেটা একান্তই তার নিজের ইচ্ছা। ১৪-১৫ শতকের দিকে বিভিন্ন উপাসনালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরী তৈরি শুরু হয়। সেই ধারা আজো রয়ে গেছে। লাইব্রেরী এখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। একেকটা লাইব্রেরী বিচিত্র রকম বই-এ ঠাসা। সবরকমের বই থাকে তাতে। যার যেমন দরকার, সেই বইটা তাক থেকে নামিয়ে টুকুস করে পড়ে নিলেই, ব্যস।আইএসবিএন এবং বারকোড
এখন বারকোডটা বুঝিয়ে বলি। একশ বছর আগের বই পড়ুয়ারা টের পেলেন, সব কটা বই-এর একটা করে নাম্বার থাকা দরকার। কেননা বই-এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, সব বই-এর একটা নাম্বার থাকলে লাইব্রেরীতে বই খুঁজে পেতে খুব সুবিধা হবে। সেই ধারনা থেকেই জন্ম নেয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার (আইএসবিএন)। প্রতিটি নাম্বারের সঙ্গে থাকে লম্বালম্বি কিছু দাগ, যেটা হচ্ছে বারকোড। প্রতিটি বই-এর আইএসবিএন এবং বারকোড সম্পূর্ন আলাদা, একটার সঙ্গে অন্যটার মিলে যাবার কোন সুযোগ নেই। এভাবেই আইএসবিএন দিয়ে বই যাচাই করা যায়।
এখন বারকোডটা বুঝিয়ে বলি। একশ বছর আগের বই পড়ুয়ারা টের পেলেন, সব কটা বই-এর একটা করে নাম্বার থাকা দরকার। কেননা বই-এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, সব বই-এর একটা নাম্বার থাকলে লাইব্রেরীতে বই খুঁজে পেতে খুব সুবিধা হবে। সেই ধারনা থেকেই জন্ম নেয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার (আইএসবিএন)। প্রতিটি নাম্বারের সঙ্গে থাকে লম্বালম্বি কিছু দাগ, যেটা হচ্ছে বারকোড। প্রতিটি বই-এর আইএসবিএন এবং বারকোড সম্পূর্ন আলাদা, একটার সঙ্গে অন্যটার মিলে যাবার কোন সুযোগ নেই। এভাবেই আইএসবিএন দিয়ে বই যাচাই করা যায়।
বই পড়তে তো ভালো লাগে, কিন্তু বই নিয়ে লেখা হয়তো ভালো লাগবে না, মনে হবে কেমন যেন ইতিহাস ইতিহাস গন্ধ। থাক, লেখা আর না বাড়াই। একুশে বইমেলায় গিয়ে তোমার পছন্দের বইটা কিনে পড়ে নিও, তবে তাতে যেন স্কুলের পড়ার ক্ষতি না হয়, খেয়াল রেখো।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/সুয়াইব আল বাকার/আরএইচিকউ/এমআইআর/১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯








