দেখা অদেখা


ফারিহা আহমেদ মনি

আমার অনেকদিনের একটা অভ্যাস রাতে শোয়ার পর কিছুক্ষন গল্পের বই পড়া। তারপর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে কল্পনা করা। সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখের ঘটনা এটা। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিছানায় উঠেছি ঘুমানোর জন্য। তার আগে যথারীতি কল্পনা করার পালা।

কল্পনা করছিলাম আমি বাংলাদেশ থেকে সুদূর আমেরিকায় গিয়েছি লেখাপড়ার জন্য। সেখানে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে, সবচেয়ে ভালো বন্ধু আছে তিন জন। একদিন ওরা তিনজন ঠিক করলো, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আফ্রিকার গহীন জঙ্গলে যাবে শিকার করতে। এই শুনে আমিও ওদের সঙ্গে যেতে চাইলাম। কিন্তু ওরা আমাকে নিতে চাইছে না। একজন যদি বলে যে নানারকম বিপদ হতে পারে তো অন্যজন বলে আমরা তোমাকে জেনেশুনে বিপদের মুখে নিতে পারব না ।
আমিও কী কম যাই! ওরা যদি জেনেশুনে বিপদের মুখে যেতে পারে তো আমি কেন পারব না ? ওদের যখন কোনোমতেই মানাতে পরলাম না তখন আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আমি একাকী বসে কাঁদতে শুরু করে দিলাম...।

সেদিন এ পর্যন্তই কল্পনা করতে পেরেছিলাম। কল্পনাটা তখনও সম্পূর্ন হয়নি। হঠাৎ আমার মাথার পাশের জানালার দিকে চোখ পড়তে দেখলাম, একটা বেড়াল আস্তে করে জানালাটার কার্নিসে উঠে বসল। বেড়ালটা আমার এক হাত সমান লম্বা, চিকন শরীর, সাদা গায়ে হালকা খয়েরী রঙের ডোরা কাটা। কম আলো থাকায় কিংবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক, বেড়ালটার চোখ দু’টো দেখা যাচ্ছিল না। বেড়ালটাকে দেখে আমি ভয়ে দু’হাত দিয়ে চোখ ঢেকে চিৎকার করে উঠলাম। আমার চিৎকার শুনে মা তাড়াতাড়ি এসে আমার গায়ে হাত রাখলেন। এরপরই শুধু আমার চিৎকার থামল।

আমাকে মা জিজ্ঞেস করলেন ‘কী হয়েছে এমন করছিস কেন?’ আমি কোনোমতে মাকে বেড়ালের কথা বললাম। তারপর মাকে ওটা দেখানোর জন্য জানালার দিকে একটা হাত তুলে নিজেই বোকা বনে গেলাম। কারণ, জানালায় তখন কিছুই ছিলো না।
‘ওখানেই ছিল!’ মা কে জানালাম।
মা বললেন, ‘আমি জানালার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম এতোক্ষন, কই কিছুই তো দেখলাম না। তুই তো কতকিছুই দেখবি। পড়, আরো বেশি বেশি ভুতের গল্প পড়! কী আজেবাজে সব বই পড়ে! এতো করে বলি পড়িস না এসব ভূতের বই। শুনলে তো! শুনিস কথা?’
আমি বিড়বিড় করে বললাম, ‘আমার চোখের ভুলও হতে পারে।’
মা আরো কিছুক্ষন আমাকে বকাবকি করে চলে গেলেন।

আমি কিছুৃ বললাম না যেহেতু প্রথমেই একটা ভুল করেছি চিৎকার করে। কিন্তু চিৎকার কি আর শখ করে দিয়েছি নাকি? বেড়ালটা যদি জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাহলে একদম বিছানায় এসে পড়বে, আর বিছানায় একদম ওটার মুখের সামনে শুয়ে আছি আমি, যদি আমাকে ওর  বড়ো বড়ো নখ দিয়ে আঁচড় দেয়? সেই ভয়েই না চিৎকার দিয়েছিলাম! আর মা কিনা ভাবলেন; আমি ভূতের গল্পের বই পড়ি বলে আজগুবি সব জিনিস ভাবি আর তাই ভয় পাই।

কিন্তু আমার অবাক লাগছে এই ভেবে, আমি কী সত্যিই বেড়াল দেখেছিলাম নাকি দেখিনি। যদি দেখে থাকি তাহলে শুধু আমি দেখলাম কেন, মা কেন দেখলেন না? আর যদি কিছুই না দেখি তাহলে এত স্পষ্ট করে যে জিনিসটা দেখলাম সেটা ভুল হয় কী করে ?
এসব ভাবতে ভাবতে ঘড়ির দিকে তাকালাম, দেখি রাত সাড়ে ১২টা বাজে। আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর দিকে মন দিলাম। তা না হলে পরদিন আবার ঘুুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যাবে।
এতাদিনে আরো নানারকম কল্পনা করে ফেলেছি। কিন্তু আফসোস একটাই, সেদিনের সেই কল্পনাটা আমার অসম্পূর্নই রয়ে গেল ...!

ষষ্ঠ শ্রেণী, বয়স: ১২ বছর, শখ: বইপড়া।
টিপু সুলতান রোড, ওয়ারী ঢাকা।

ওরে বাবা! তেলাপোকা


আমি এমনিতে খুবই সাহসী। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় থেকে আমি নিজে একা একা বাসায় ফিরতাম। অন্যদিকে আমার বান্ধবীরা ফিরতো তাদের বাবা-মা নয়তো অন্য কারো সঙ্গে। ভুতের গল্প তো আমার ভীষন প্রিয়। ভয় তো পেতামই না, বরং বেশ মজা পেতাম। আর রাত জেগে হরর মুভি দেখা, সেটা তো নস্যি।

আমি কখনও ভুত বিশ্বাস করতাম না, এখনও করি না। ভুত বলে যদি পৃথিবীতে কিছু থাকতো, তবে বিজ্ঞানীরা এতদিনে নিশ্চয়ই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েকটা ভুতকে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখতো। ভূত-ফুত তাই আমার কাছে কোন ব্যাপার না।

তবে আমার ভয়টা অন্য জিনিসের প্রতি। শুধু আমিই না, আমার অনেক বান্ধবীদেরকে জিজ্ঞেস করেছি, তারাও প্রচন্ড ভয় পায়। তোমাদের সঙ্গেও নিশ্চই মিলে যাবে। সেটা হলো তেলাপোকা। কেমন ঘিনঘিনে শরীর, বাজে গন্ধ, ফরফর করে উড়ে এসে গায়ে, খাবারে পড়ে- এমা।

তবে যখন শরীরের উপর দিয়ে হেটে যায়, তার থেকে খারাপ আর কোন কিছু হয় না। আমার কাজিনরা আমার সঙ্গে এ নিয়ে কতো মজা করে। প্লাস্টিকের তেলাপোকা গায়ে ছেড়ে দিয়ে জিসান আমাকে কতো নাকানি-চুবানি খাইয়েছে। তবে ও নিজেও কিন্তু একটা ভীতুর ডিম। ভুতের নাম শুনলেই একেবারে কেঁচো হয়ে যায়।

cr_bag_webতবে স্কুলের বড় আপুরা বলেছে, ক্লাস টেন এ উঠলে নাকি বায়োলজি প্রাকটিকাল ক্লাসে আমাদের তেলাপোকা কাটতে হবে। আগে জানলে আমি তো বায়োলজিই নিতাম না। এখন কি হবে?

আপুরা বলে এটা নাকি কোন ব্যাপারই না। তাদের নাকি মোটেই ঘেন্না লাগে না। একজন তো আবার বলল, কোন দেশে নাকি তেলাপোকাকে চিংড়ির মতো করে ভেজে খায়। ওয়াক, আর লিখতে পারছি না, বমি আসছে। আজ এ পর্যন্তই থাক তাহলে।

  • • দেখা অদেখা
  • • ওরে বাবা! তেলাপোকা
  • • শুক্রবারের একটি সকাল
  • • পরীক্ষা চলে এসেছে
  • • ফারিহা আহমেদ মনি
  • • নাইরি আফরোজ, ডিওএইচএস, ঢাকা
  • • উপমা মাহবুব, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
  • • দেখা অদেখা
  • • ওরে বাবা! তেলাপোকা
  • • শুক্রবারের একটি সকাল
  • • পরীক্ষা চলে এসেছে
wordpress visitor