ওরে বাবা! তেলাপোকা
আমি এমনিতে খুবই সাহসী। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় থেকে আমি নিজে একা একা বাসায় ফিরতাম। অন্যদিকে আমার বান্ধবীরা ফিরতো তাদের বাবা-মা নয়তো অন্য কারো সঙ্গে। ভুতের গল্প তো আমার ভীষন প্রিয়। ভয় তো পেতামই না, বরং বেশ মজা পেতাম। আর রাত জেগে হরর মুভি দেখা, সেটা তো নস্যি।
আমি কখনও ভুত বিশ্বাস করতাম না, এখনও করি না। ভুত বলে যদি পৃথিবীতে কিছু থাকতো, তবে বিজ্ঞানীরা এতদিনে নিশ্চয়ই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েকটা ভুতকে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখতো। ভূত-ফুত তাই আমার কাছে কোন ব্যাপার না।
তবে আমার ভয়টা অন্য জিনিসের প্রতি। শুধু আমিই না, আমার অনেক বান্ধবীদেরকে জিজ্ঞেস করেছি, তারাও প্রচন্ড ভয় পায়। তোমাদের সঙ্গেও নিশ্চই মিলে যাবে। সেটা হলো তেলাপোকা। কেমন ঘিনঘিনে শরীর, বাজে গন্ধ, ফরফর করে উড়ে এসে গায়ে, খাবারে পড়ে- এমা।
তবে যখন শরীরের উপর দিয়ে হেটে যায়, তার থেকে খারাপ আর কোন কিছু হয় না। আমার কাজিনরা আমার সঙ্গে এ নিয়ে কতো মজা করে। প্লাস্টিকের তেলাপোকা গায়ে ছেড়ে দিয়ে জিসান আমাকে কতো নাকানি-চুবানি খাইয়েছে। তবে ও নিজেও কিন্তু একটা ভীতুর ডিম। ভুতের নাম শুনলেই একেবারে কেঁচো হয়ে যায়।
তবে স্কুলের বড় আপুরা বলেছে, ক্লাস টেন এ উঠলে নাকি বায়োলজি প্রাকটিকাল ক্লাসে আমাদের তেলাপোকা কাটতে হবে। আগে জানলে আমি তো বায়োলজিই নিতাম না। এখন কি হবে?
আপুরা বলে এটা নাকি কোন ব্যাপারই না। তাদের নাকি মোটেই ঘেন্না লাগে না। একজন তো আবার বলল, কোন দেশে নাকি তেলাপোকাকে চিংড়ির মতো করে ভেজে খায়। ওয়াক, আর লিখতে পারছি না, বমি আসছে। আজ এ পর্যন্তই থাক তাহলে।
শুক্রবারের একটি সকাল
১ নভেম্বর ২০০৭
নাইরি আফরোজ, ডিওএইচএস, ঢাকা
আমি পড়ি ক্লাস সিক্সে, আর আমার ছোট ভাই জনি পড়ে হচ্ছে গিয়ে টুতে। ওটা এমন একটা বাদর হয়েছে না, কী আর বলবো! সারাদিন এটা ভাঙছে, ওটা ছিড়ছে। আর আম্মু ওসব দেখেও দেখছে না।
শুক্রবার বন্ধের দিন তো, তাই আমি একটু দেরি করেই ঘুম থেকে উঠি। না না, এমনিতে স্কুল খোলা থাকলে আমি খুব সকালে উঠি। সেদিন সকাল ১০টা থেকে টিভিতে একটা প্রোগামটা দেখাবে, তাই আমি ভাবলাম বেশি দেরি না করে তাড়াতাড়িই ঘুম থেকে উঠবো।
কিন্তু উঠতে একটু দেরি হয়ে গেলো। তাড়াতাড়ি দাঁত মেজে টিভিরুমে ঢুকতেই দেখি জনিটা জেটিক্স চ্যানেল ছেড়ে বসে আছে। জেটিক্সে সারাদিন শুধু পাওয়ার রেঞ্জারের কার্টুন দেখায়- পচাঁ! একেবারেই ভালো লাগে না। জনিটা দেখে যে কি মজাটাই না পায়! তাছাড়া ওগুলো সব পুরানো, বারবার দেখারই বা কি আছে? আমি বললাম, দে একটু অ্যাওয়ার্ড গিভিং প্রোগামটা দেখি, দিলো আমাকে মুখ ভেংচে, কত্ত বড় সাহস!
আমি গিয়ে আম্মুকে নালিশ করলাম। ওমা, আম্মু উল্টো আমাকে বলে কিনা সকালে উঠেই এতো টিভি দেখা কিসের? যাও পড়তে বসো। শুনে আমার যে কি কষ্ট লাগলো। মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই না আমার টিউটোরিয়াল শেষ হলো, এখনই আবার পড়তে বসবো, তাও কিনা শুক্রবার সক্কালবেলা!
মনটা খুব খারাপ করে কিছুক্ষন বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় জনিটা প্যাঁ প্যাঁ করে কান্না শুরু করলো। ওর হাইজ টিউটর নাকি দেখেছেন, ও পড়ালেখায় একেবারেই অমনোযোগী, তাই ওর একস্ট্রা কেয়ারের জন্য বন্ধের দিনও চলে এসেছেন পড়াতে। বন্ধের দিনও পড়তে বসতে হবে বলে জনিটা কাদঁছে, বেশ হয়েছে। ও কাঁদুক, আমি এখন আর টিভি দেখবো না, আবার ঘুমাবো।








