'আমরা তো বলতে গেলে মানুষের বন্ধু...' একান্ত সাক্ষাৎকারে ইঁদুর

: কেমন আছেন, কয়েকদিন দেখিনি?
: দেখবে কি করে? আমিতো আর এদেশে ছিলাম না। গিয়েছিলাম একটু পাশের দেশ ভারতের মিজোরাম প্রদেশে।
: কেন, হঠাৎ ঘর-দুয়ার ফেলে রেখে বিদেশ-বিভুইয়ে গেলেন কেন?
: কেন জানো না? সেখানে আমার স্বজাতিদের কারণে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। তাই একটু দেখতে গেলাম আর কি! তবে ওরা ইঁদুর হলেও ধেড়ে ইঁদুর। মানে ইংরেজিতে যাকে বলে র্যাট (RAT)। আর আমাদের বলা হয় মাউস (MOUSE)।
: তাহলে আপনাদের মধ্যে এই ইংরেজি নামছাড়া আর কী কী পার্থক্য আছে?
: অনেক পার্থক্য আছে। মূল পার্থক্য হচ্ছে আমাদের আকারের চেয়ে রটদের আকার বেশ বড়, প্রায় ৯-১১ ইঞ্চি আর লেজের আকার ৭-৯ ইঞ্চি। অন্যদিকে আমাদের আকার ওদের লেজের থেকেও ছোট। মাত্র ৩-৪ ইঞ্চি। আমাদের লেজের আকারও সমান, ৩-৪ ইঞ্চি। আর ওদের নাক সুঁচালো, মাথা গোলাকার। আমাদের নাক কিছুটা ভোঁতা এবং মাথা অনেকটা তিনকোনা। আরো একটা পার্থক্য হলো ওরা বেশ নোংরা। দেখছ না, কেমন পেটুক। খেয়ে খেয়ে মিজোরামে একেবারে দুর্ভিক্ষ বানিয়ে দিয়েছে। ওরা বেশ দ্রুত সব ধান-শস্য খেয়ে মানুষের জন্য এখন কিছুই রাখেনি।
: আপনারাও তো ওদের মতো?
: কী যে বলেন। আমরা তো মানুষের বন্ধু। একেবারে গৃহপালিত প্রাণী। মানুষের সঙ্গে থাকি, তাদের সঙ্গেই খাই।
: তাহলে তো আপনারা একেবারেই নিরীহ।
: তা বলতে পার। তবে আমাদের সঙ্গে প্রায়ই বাজে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষাগারে আমাদের নিয়ে যাচ্ছেতাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অনেকে আমাদের দেখলে ঝাঁড়- নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে। জানো, আফ্রিকার জাম্বিয়া আর মালাউ-তে আমাদের ধরে ধরে খেয়ে ফেলা হয়। কেউ কেউ আবার নিজেরা না খেয়ে চিড়িয়াখানায় আমাদের বিক্রি করে দেয় সাপ, সরীসৃপ, পাখির খাদ্য হিসেবে। তোমাদের যেমন মানবাধিকার আইন আছে, ভাবছি আমরাও সেরকম করে ইঁদুরাধিকার আইন প্রনয়ণ করব।
: আপনারা এমনিতে কী কী খান?
: ইদানিং জিনিস-পত্রের যা দাম, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন। আমরা আবার খুব তাড়াতাড়ি আব্বু-আম্মু হয়ে যাই কিনা, মাত্র ৫০ দিন বয়সে। আর আমরা একসঙ্গে ১০-১২ ছানা জন্ম দেই। তাই আমাদের খাবারের খরচও অনেক বেশি। কিন' আমরা তো চাকরি-বাকরি করি না, তাই পকেটে টাকাও থাকে না। তাই ঘরের পোকা-মাকড়, তোমাদের ফেলে দেয়া খাবার-দাবার খেয়েই বেঁচে থাকি আর কি? শষ্য, ফল, ফলের বীজ এসব আমরা খাই। তবে খুব খিদে পেলে নিজেদের লেজও চিবিয়ে খেয়ে ফেলি।
: আপনারা বাঁচেন কয়দিন?
: খূব কম, মাত্র মাস পাঁচেক। তবে কেউ যদি আমাদের যত্ন নেয়, ঠিকঠাকমতো খাবার-দাবার দেয়, তাহলে দুই বছর পর্যন্তও বাঁচি।
: আপনার কি কখনো বিখ্যাত হতে ইচ্ছে করে না?
: করে, তবে সেই ভাগ্য কি আর সবার আছে? তবে আমার এক নেটফ্রেন্ডের খালাতো ভাই
রকেটে করে মহাকাশে গিয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল। আর আমার কাজিন
তো বেশ বিখ্যাত, নাম বললে অবশ্যই চিনবে। তার নাম মিকি মাউস। আর দুষ্ট
বিড়াল টমের নাম তো নিশ্চই জানো? তার জন্মের শত্রু জেরি, সেও তো আমার
একরকমের আত্নীয়। তুমি চাইলে তার একটা ছবি অটোগ্রাফসহ নিয়ে আসবো। বন্ধুদের
দেখিও।
: আপনারা আর কী কী করতে পারেন?
: আমরা ১০ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়াতে পারি। লাফিয়ে ৬ ফুট উপরেও উঠে যেতে পারি। যদিও আমাদের কেউ কেউ ময়লা আবর্জনায় থাকে, তারপরও আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা গোসল করতে ভালবাসি।
: বেশ, তো আজকের মতো বিদায়। আবার কোন দিন সময় করে আসবেন।
: আসব, তবে আমাদের খূব বেশি পাত্তা দিবে না। কারন আমরা কিন্তু অনেক রোগব্যধি ছড়াই, এই যেমন প্লেগ। একেবারে মহামারী শুরু হয়ে যায়। থাক, এখন তবে যাই। তোমাদের সঙ্গে গল্প করে ভালো লাগল।
:
: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/রকিবুল হক রকি/এবি/২৫ ফেব্রুয়ারি


























































