sakkhatkar

'আমরা সবাইকে ভালোবাসতে চেষ্টা করি...' একান্ত সাক্ষাৎকারে অক্টোপাস

দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করলে তাও না হয় উপেক্ষা করা যেত। কিন্তু অক্টোপাস সাহেব যখন আট হাত জোড় করে বললো, 'প্লিজ এবার আমার সাক্ষাৎকার নাও', তখন আর উপেক্ষা করতে পারলাম না। চলো কথা বলি তার সাথে।

: : সে কী অক্টোপাস সাহেব, মন খারাপ করে বসে আছো কেন?

: : মন খারাপ করবো না কেন বলো? সবাই আমাদের অবহেলা করে।

: তাই নাকি? আমি কিন্তু কোন অবহেলা দেখতে পাচ্ছি না। ঘটনাটা একটু খুলে বলবে।

: আমাদের নামটাই তো আমাদের প্রতি এক বিরাট আবহেলা। গ্রীক শব্দ অক্টোপাস অর্থ আট পা-ওয়ালা প্রাণী। অথচ এগুলো আমাদের পা নয়, হাত। তোমার মাথাকে যদি আমি লেজ বলি তাহলে তোমার কেমন লাগবে?

:  ব্যাপারটা দেখছি সত্যিই খুব খারাপ হয়েছে। নাম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ঠিক হয়নি।

: শুধু কি তাই? মানুষরা আমাদের সব সময় ভয়ংকর প্রাণী বলে ভেবে আসছে। আমাদের নিয়ে মুভি বানিয়ে দেখিয়েছে আমরা সমুদ্রে জাহাজ ডুবিয়ে দেই নাবিকদের ধরে ধরে খেয়ে ফেলি। আরও অনেক উদ্ভট সব জিনিষ। অথচ আমরা কিন্তু কাউকেই আক্রমণ করি না কিংবা আমরা মানুষও খাই না। উল্টো আমরা সবাইকে ভালোবাসতে চেষ্টা করি।

: হ্যাঁ, সেতো আমরা সবাই সবাইকে ভালোবাসি।

: সেটা ঠিক আছে কিন্তু আমাদের ভালোবাসা তোমাদের চেয়ে তিন গুন বেশি। কারন তোমাদের হার্ট একটা কিন্তু আমাদের হার্ট তিনটা।

: তোমাদের সবকিছুতেই কেমন যেন একটু বেশি বেশি।

: তোমার এ কথাটা ঠিক না। আমাদের হাত বেশি কিন্তু পা একটাও নেই। জীবনে ফুটবল খেলতে পারলাম না সেই দুঃখে এখনো মাঝে মাঝে কাঁদি।

: ফুটবল না হয় না পারলে, হ্যান্ডবল তো খেলতে পার।

: আচ্ছা এবার খেলাধুলার কথা বাদ দাও তো। তাড়াতাড়ি অন্য প্রশ্ন করো। জানো তো আমাদের আয়ু খুব কম, গড়ে দুই বছর। তার উপর আমি যে প্রজাতির সে প্রজাতি মাত্র ছয় মাস বাঁচে। অলরেডি সাড়ে চার মাস শেষ হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে।

: মাত্র ছয় মাস বাঁচবে? খুব মর্মান্তিক কথা। সবারই কি এক অবস্থা?

: সবার না, আমাদের কিছু মুরুব্বি আছেন তারা ভালো পরিবেশ পেলে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। যেমন নর্থপ্যাসিফিক জায়ান্ট অক্টোপাস।

: ভালো পরিবেশ পেলে মানে কী?

: মানে অসুখ বিসুখ না হলে। আমাদের আবার নানা রকম অসুখ আছে। অসুখগুলিও অদ্ভুত। একটা অসুখ এমন যে মস্তিষ্কে এক ধরনের ভাইরাস আক্রমন করলে আমরা আমাদের হাত খাওয়া শুরু করি।

: তোমাদের আর কে কে খায়?

: সমুদ্রের হিংস্র প্রাণী যেমন তিমি হাঙ্গর সহ আরও কিছু কিছু প্রাণী আমাদের খেতে চেষ্টা করে।  কিন্তু সব সময় সফল হয় না।

: কেন সফল হয় না বলো তো?

: কেউ আমাদের খেতে আসছে দেখলেই আমরা আমাদের শরীর থেকে একরকম কালো তরল পদার্থ ছড়িয়ে দেই। ফলে পানি কালো হয়ে যায়, আক্রমনকারী কিছুই দেখতে পায় না। আর সেই সুযোগে আমরা পালিয়ে যাই।

: বাহ বেশ তো

: আরও আছে। যদি দেখি কালি ছড়ানোর পরও শিকারী পিছু ছাড়ছে না তাহলে আমরা আমাদের কোন একটা হাত খুলে ফেলে দেই। শিকারী তখন সেই হাত খেতে লেগে যায়। সেই সুযোগে আমরা পালিয়ে যাই।

: ঠিকই আছে। আটটা হতের দু-একটা ফেলে দিলে কী আর আসে যায়।

: সমস্যা নেই ফেলে দিলেও সেই জায়গায় আবারো নতুন করে হাত গজায়। আমাদের যারা খায় সেই তালিকায় কিন্তু মানুষও আছে।

: তাই নাকি, কী বলছো এসব!

: সত্যি, জাপানিরা অনেক সময় আমাদের কাঁচাই খেয়ে ফেলে। এভাবে খেলে নাকি স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া আমাদের হাত দক্ষিণ কোরিয়ানদের কাছে অন্যতম প্রিয় খাবার।

: বেশতো তুমি তাহলে এক কাজ কর, আমার জন্য এক হালি হাত খুলে রেখে যাও। রেঁধে দেখি খেতে কেমন লাগে।

: কী বলছো এসব?

: সমস্যা কী, তোমার হাত তো আবার গজিয়ে যাবে। এই সুযোগে আমি খেয়ে দেখলাম অক্টোপাস কেমন লাগে।

: খাইছে আমারে, সাক্ষাৎকার লাগবে না আমি পালাই।

:

: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/মেহেদী আল মাহমুদ/এবি/এমআইআর/১৮ আগস্ট