পুরো শীতকাল জুড়েই আমি থাকি.......... একান্ত সাক্ষাৎকারে খেজুরের রস

: সেটা ওদের দেশের বোর্ডের ব্যাপার। ওদের বোঝা উচিত, বাংলাদেশ দিনদিন শক্তিশালী দল হয়ে উঠছে। এখনো টেস্ট জেতার মতো দল না হলেও বাংলাদেশকে এখন আর একদিনের ম্যাচে হেসেখেলে হারানো যায় না। বাংলাদেশকে সমীহ করে খেলতে হয়।
: সেটা ঠিকই বলেছো। কেমন তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ করে দিলে। তোমাদের সেরা পেস বোলার মাশরাফি ছিলো না, সবচেয়ে ভালো ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ছিলো না, ছিলো না সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আশরাফুলও।
: তো ট্রফি ভায়া, অনেক গল্পই তো হলো, আজকের মতো তাহলে সাক্ষাৎকারটা এখানেই শেষ করি, কি বলেন?
: তাই করো, বেশি দেরি করলে আবার আমার খোঁজ পরে যাবে। সবাই শুধু আমাকে চোখে চোখে রাখতে চায় কিনা।
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/নাবীল/এসএ/সাগর/অক্টোবর ২৮/১০
: কি ব্যাপার রস ভায়া? কেমন আছেন?
: শীতকাল এসে গেছে তো, এখন বেশ ভালোই আছি।
: কেনো, শীতকাল ছাড়া বুঝি আপনি ভালো থাকেন না?
: শীতকাল না আসলে তো তোমরা গাছুয়াদের খবরও দাও না, ওরা গাছ চিরে আমাদের বেরও করে না। শীতকাল ছাড়া ভালো থাকি কিভাবে বলো?
: ওমা, আপনাদের বুঝি গাছ চিরে বের করতে হয়?
: তবে কি তুমি ভেবেছিলে খেজুর গাছকে গিয়ে বলবে, গাছভায়া, আমায় একটু রস দাও, আর অমনি গাছ বেয়ে কলকল করে রস পড়তে থাকবে?
: আপনাকে তাহলে কিভাবে সংগ্রহ করা হয় বলুন তো?
: আমাকে সংগ্রহ করার জন্য গাছুয়ারা গাছের উপরের দিকে প্রথমে একটা সুন্দরমত জায়গা বাছাই করে। আর তারপর গাছের চারপাশে ঘুরিয়ে গোল করে ছাল কেটে ফেলে। ফলে যে ড্রেনের মতো সরু রাস্তা তৈরি হয়, এই রাস্তা দিয়েই আমরা খেজুর গাছ থেকে বেয়ে বেয়ে বের হই।
: আর তারপর বুঝি সংগ্রহ করা হয়?
: হ্যা। সেজন্য ড্রেনের শেষ মাথায় সরু কিছু দিয়ে একটা পাইপের মতো বানানো হয়। আর তার নিচেই ঝুলিয়ে দেয়া হয় একটা হাঁড়ি। খেজুরের রসের হাঁড়ির গল্প তো নিশ্চয়ই শুনেছো? এই হলো সেই রসের হাঁড়ি। গাছ থেকে গড়িয়ে আসা রস পাইপ বেয়ে বেয়ে এই হাঁড়িতে জমা হয়। আর সকাল বেলা গাছুয়ারা সেই হাঁড়ি নামিয়ে এনে রস অন্য পাত্রে রেখে আবার খালি হাঁড়ি বসিয়ে দেয় পাইপের নিচে।
: এভাবে কি পুরো শীতকাল জুড়ে চলতে থাকে?
: তা তো চলেই। পুরো শীতকাল জুড়েই যে আমি থাকি! এসময় যে তোমরা রসের গুড় খাও, সেও তো আমারই জন্যেই।
: আপনাকে জমিয়েই বুঝি গুড় তৈরি করে?
: জমালেই কি আর গুড় হয়? রীতিমতো আমাকে রান্না করে গুড় বানানো হয়!
: ঠিক বুঝলাম না। আপনি কি শাক-সব্জি নাকি মাছ-মাংস যে আপনাকে রান্না করবে?
: আরে ধুর! ওরকম রান্না নয়। আমার সঙ্গে আরো কিছু উপাদান মিশিয়ে জ্বাল দেয়া হয়। শীতকালে যারা গুড় বানায় ওদের বাসায় গেলে দেখবে, উঠোনের মধ্যে মাটির চুলায় বিশাল বিশাল হাঁড়িতে করে ওরা রস জ্বাল দিচ্ছে। জ্বাল দেয়া শেষে হাঁড়ি ভর্তি ঝোলা গুড় তৈরি হয়। পরে ওটা জমিয়ে জমিয়ে তৈরি হয় তোমাদের প্রিয় খেজুরের গুড়।
: আপনাকে কিভাবে সংগ্রহ করে আর আপনাকে দিয়ে কিভাবে গুড় বানানো হয়, সেসব গল্প তো হলো, এখন শীতকালের গল্প বলুন।
: শীতকালের গল্প আর কি বলবো বলো? সে তো সবই তোমরা জানো। কেবল কষ্ট লাগে একটাই, তোমরা সবাই শীতের কাপড় পরে লেপমুড়ি দিয়ে মজা করে ঘুমাও। অন্য গাছগুলোও দেখো কি মজা করে সারা গায়ে পাতামুড়ি দিয়ে রাতভর ভোঁসভোঁস করে ঘুমায়। খালি এই খেজুর গাছগুলোই ন্যাড়া, গায়ে কোনো পাতা-কাপড় কিছুই নেই। সারা রাত ধরে শীতে কোঁ-কোঁ করে কাঁদে।
: আর আপনি বুঝি সারা রাত ধরে তাই শোনেন?
: তা তো শুনতেই হয়। আমি তো খেজুর গাছ থেকেই রাতভর বেয়ে বেয়ে পরি। তবে আরেকটা কারণে প্রায় রাতেই কষ্ট পাই।
: আবার কি?
: তোমরা ছোটোরা যা দুষ্টু! গ্রামের বাচ্চারা রাতের বেলা অন্ধকারে গাঁ ঢাকা দিয়ে এসে চুপিচুপি গাছে উঠে রসের হাঁড়ি নামিয়ে মজাসে রস খেয়ে চেটেপুটে খালি হাঁড়ি রেখে দেয়। তারপর সকালে গাছুয়া উঠে যখন দেখে হাঁড়ি খালি, রস বলতে গেলে নেই-ই, তখন তার মুখ দেখে আমাদের কি মায়াটাই না লাগে!
: অনেক গল্প হলো, আজকের মতো আমরা এখানেই শেষ করি, কি বলেন রসভায়া?
: সেটাই। পরে আবার হাঁড়ি খালি থাকলে রাতে বাচ্চারা আসলে হতাশ হয়ে যাবে। আমি বরং চলে যাই। বিদায়, কিডজের বন্ধুরা, তোমাদেরকেও বিদায়। শীতে গ্রামে গেলে রস খেতে আবার ভুলো না যেনো!
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/নাবীল/এসএ/এইচবি/নভেম্বর ০৪/১০


























































