sakkhatkar

`আমরা ভাই নিরপেক্ষ...' একান্ত সাক্ষাৎকারে পিরানহা

পিরানহা! নাম শুনেছো নিশ্চয়ই? দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান বনের মিঠা পানির নদীর ভয়ংকর মাছ। তবে হঠাৎ করে ইদানিং বাংলাদেশের রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে এই রাক্ষুসে মাছের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মৎস গবেষক, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জেলেরা দুচিন্তায় রয়েছেন। কারণ কাপ্তাই হ্রদে এই মাছ যদি ব্যাপকভাবে বংশবিস্তার করে, তাহলে সবারই জন্যই সেটা খারাপ খবর। হ্রদের জীব বৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে এই রাক্ষুসে মাছ। তাকে নিয়ে সবার এই সন্ত্রস্ত্র ভাব দেখে সেদিন আমাদের দপ্তরে এসেছিলেন পিরানহা সাহেব। উদ্দেশ্য একটাই- সাক্ষাৎকার দেয়া। চলো তার সঙ্গে কথা বলা যাক।

: পিরানহা সাহেব কেমন আছেন?

: মোটেই ভালো নেই। চারপাশে এতো খাবার অথচ আমি খেতে পাচ্ছি না, এর চেয়ে দুঃখের আর কী আছে বলুন?

: কোথায় খাবার?

: এই যে কত্তো মানুষ, এরাইতো আমার খাবার!

: তাই নাকি? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

: বিশ্বাস না হলে আমার সঙ্গে একটু পানিতে নামুন। তারপর দেখবেন মজা।

: সে কি, ভয় দেখাচ্ছেন নাকি?

: না না, একটু মজা করলাম আর কি। তাছাড়া আপনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। সাক্ষাৎকার শেষ হবার আগে তো আর আপনাকে খেতে পারি না।

: থাক থাক হয়েছে। এতই যখন খাই খাই করছেন তখন বলুনতো আপনারা আর কী কী খান?

: যে কোন প্রাণী পানিতে নামলেই আমরা তাকে খাবার চেষ্টা করি। গোল্ড ফিশ আমাদের খুব প্রিয় খাবার। এছাড়া সাপ পাখি, পোকা এবং অন্যান্য মাছ বা প্রাণী খেতেও আমাদের ভালো লাগে। গরু ছাগলদের মত প্রাণীদের খাওয়া আমাদের কাছে কোন ব্যাপারই না। এমনকি আপনাদের মত মানুষও খেদে পারি আমরা!  আমাদের অনেকে আছে যারা মোটেই এসব প্রাণী জাতীয় খাবার খেতে পারে না। তাদের নাকি বমি এসে যায় । এসব কথা শুনলেও আমার হাসি পায়। তবে আমরা অনেকদিন না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারি।

: আচ্ছা বুঝলাম। এবার বলুন, এতো নাম থাকতে আপনার নাম পিরানহা কেন রাখল?

: বেশ ভালো একটা প্রশ্ন করেছেন ভাই। আমার নাম নিয়ে মানুষেরা ঝগড়া করে একটা তুলকালাম কান্ড করে ফেলেছে। কতগুলো মানুষ বলে স্পেনিশ শব্দ 'পির-আনা' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ দাড়ায় ‘শয়তান মাছ’। অনেকে মনে করে আমার নামটা নাকি 'পিরা' (মাছ)+ 'আনহা'(দাঁত) থেকে অথবা 'পিরা'(মাছ)+'আই'(কাঁচি) থেকে এসেছে।

: অন্য মাছদের থেকে আপনাদের বিশেষ কি আছে?

: আমাকে দেখেও বুঝি ঝুঝলেন না। আমি সহ আমাদের যে আরো এগারোটি প্রজাতি রয়েছে তাদের সবারই ধারালো দাঁত আর চোয়াল আছে। এর পরেও যদি না বোঝেন তাহলে তারে একটা কামড় দিয়েই ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেব।

: আপনাদের দাঁতের কথা খুব শোনা যায়। এ বিষয়ে কিছু বলবেন ?

: আমাদের দাতগুলো রেজারের মত ধারালো । এগুলো ত্রিকোণাকার একটা চোয়ালে সাজানো থাকে। নিচের চোয়ালটা দেখলে আপনি যে বুকে একটা ধাক্কা খাবেন এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

: দাঁতের এত অহংকার করছেন, তা খাওয়ার পরে দাঁত মাজেন?

: দাঁত মাজা! সেটা আবার কী?

: ও বুঝেছি, তার মানে মাজেন না। বুঝবেন, যখন দাঁতে পোকা ধরবে, দাঁত দিয়ে চাবাতে পারবেন না, ব্যথা করবে, তখন বুঝবেন।

: দাঁতে পোকা ধরলে পোকাটাকেও চিবিয়ে খেয়ে ফেলবো।

: হয়েছে, এত বড়াই না করে সময় থাকতে দাঁত মাজা শুরু করুন। আপনাদের পরিবার পরিজন সম্পর্কে এবার বলুন দেখি।

: ওরাও দাঁত মাজে না।

: ধ্যাত, দাঁতের কথা না, ওরা কোথায় থাকে, কীভাবে থাকে, এসব।

: আমরা সবাই দল বেধে থাকি। বাচ্চারা স্বাবলম্বী হওয়ার আগ পর্যন্ত মা-বাবার সঙ্গে থাকে। একটু বড় হলে ওরা স্বাধীনভাবে চলা শুরু করে।

: আপনারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার নদী নালায় বাস করেন। সুতরাং আপনারা নিশ্চয়ই ওদের ফুটবল দলের সমর্থক?

: আমরা ভাই নিরপেক্ষ। তাছাড়া পানিতে এখন পর্যন্ত কেউ টিভির ব্যবস্থা করেনি বলে কারও খেলা আমরা দেখতে পারি না।

: নিজের চেহারাটা কি কখোনো দেখেছেন?

: অবশ্যই দেখেছি। আমার মুখে আছে কয়েকটা ছোপ ছোপ দাগ। পিছনটা সোনালী অথবা রূপালী রঙের হতে পারে একটা কালো লেজ। পেটের অংশটা লালচে  অথবা কমলা রঙের হোতে পারে। সেখানে একটা কাটার লম্বা সারিও আছে।

: আপনাদের অনেককে তো মানুষেরা তাদের খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে আর আপনাদের ধাঁরাল দাঁত গুলো দিয়ে বানানো হয় অস্ত্র অথবা কোন কাজের উপকরন, এ ব্যাপারে আপনার কি মত?

: আমাকে কি আপনি রাগানোর চেষ্টা করছেন? সেটা কিন্তু খুব একটা ভালো হবে না বলে দিলাম।

: ঠিক আছে,ঠিক আছে। না মানে বলছিলাম কি আপনারা কখন কিভাবে মানুষদের আঘাত করেন সেটা যদি একটু বলতেন।

: হে: হে: হে: এমন করে প্রশ্ন করলে না ভালো লাগে। আমরা খুব বেশী কাউকে আঘাত করি না। তবে কেউ যদি সাঁতার কাটতে কাটতে  আমাদের এলাকাতে ঢুকে পরে তাহলে তার সঙ্গে একটু মজা করার জন্য ছোট খাট দু একটা কামড় দিই। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে দলের সবাই মিলে আচ্ছা মত শিক্ষা দিই।

: আপনি কি পুরূষ না মহিলা পিরানহা?

: সেটা আমি বলবো না! আমাদের দেখে আপনি এমন একটা সমস্যায় যে পরবেন সেটা আমি ভালো করেই জানতাম। ছেলে মেয়ে আমরা সবাই বারো ইঞ্চির বেশি লম্বা‌ হয়ে থাকি। আর চেহেরার মধ্যেও অল্প যেটুকু পার্থক্য আছে সেটা আপনারা চাইলেও ধরতে পারবেন না।

: সাক্ষাৎকারের প্রায় শেষ প্রান্তে আমরা চলে এসেছি। সবশেষে জানতে চাইবো, বাংলাদেশে আপনার কেমন লাগলো?

: বেশ ভালো। এখানে নতুন একটা আন্দোলন শিখলাম, পদযাত্রা, ভাবছি ফিরে গিয়ে আমরাও আমাদের দাবি দাওয়া
বাস্তবায়নের জন্য পাখনা যাত্রার আয়োজন করবো।